ATN
শিরোনাম
  •  

ইসরায়েল- ফিলিস্তিন সংঘাত : বদলেছে মানচিত্র!

         
	ইসরায়েল- ফিলিস্তিন সংঘাত : বদলেছে মানচিত্র!

গাজা হামলা

ইসরায়েল-ফিলিস্তিন দ্বন্দ্বের পেছনে মূল কারণ স্বজাতির জন্য স্বাধীন ভূ-খণ্ড। তৎকালীন উসমানীয় সাম্রাজ্যের অধীনে থাকা ফিলিস্তিনে, ইহুদিদের আসার মধ্য দিয়ে যে দ্বন্দ্বের শুরু। ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর, বদলে যায় মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র আর ভূ-রাজনীতির গতিপথ। যে পরিবর্তন এখনও থেমে নেই।

রাশিয়া এবং জার্মানিতে নৃশংসতার শিকার হয়ে ইহুদিরা, তৌরাত এবং বাইবেলে বর্ণিত পবিত্র ভূমি ফিলিস্তিনে আসতে শুরু করে। শুরুতে মুসলিমদের সাথে শান্তিতে সহাবস্থান করলেও, কালক্রমে নিজেদের অবস্থান পোক্ত করতে থাকে তারা। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার আগেই বেলফোর ঘোষণার মাধ্যমে বৃটেন, ইহুদিদের জন্য ফিলিস্তিনে স্থায়ী আবাসভূমি গড়ার প্রতিশ্রুতি দেয়।

উসমানীয় সাম্রাজ্য পতনের পর ফিলিস্তিন ব্রিটেনের দখলে গেলে, ইউরোপ থেকে দলে দলে অভিবাসী হয় ইহুদিরা। গোপনে চলে অস্ত্রশক্তি বৃদ্ধি। ২০-এর দশকেই ছড়িয়ে পড়ে আরব-ইহুদি দাঙ্গা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী অস্থিরতার মধ্যে আরবদের জন্য গাজা উপত্যকা ও পশ্চিম তীর রেখে, বাকি সবটুকু নিয়ে ইসরায়েল রাষ্ট্র গঠনের প্রস্তাব পাস হয় জাতিসংঘে। ১৪ মে, ১৯৪৮।

ইহুদি নেতা ডেভিড বেন গুরিয়ন ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন। নারাজ আরব রাষ্ট্রগুলো ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে, তবে হেরে যায়। ওই যুদ্ধ শেষে সমগ্র ফিলিস্তিনের ৭৮ শতাংশ ভূমি দখল করে নেয় ইসরায়েল। যেখানে জাতিসংঘ প্রস্তাব ১৮১তে ৫৭ শতাংশ ভূমি নিয়ে ইহুদি রাষ্ট্র গঠনের উল্লেখ ছিল!

১৯৬৭ সালে ছয় দিনের যুদ্ধে মিশরের সিনাই উপত্যকা এবং সিরিয়ার গোলান মালভূমিসহ পশ্চিম তীর ও গাজা দখল করে ইসরায়েল। ওই বছরই জাতিসংঘ প্রস্তাব ২৪২-এ তাদেরকে অধিকৃত অঞ্চল ছেড়ে দিতে বলা হয়। তবে কোন কোন জায়গা থেকে সরতে হবে, তা' সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ না থাকায় ইসরায়েল পুরো অঞ্চল ছেড়ে দিতে অস্বীকৃতি জানায়।

গাজা ও পশ্চিম তীরে এ সময়েই বসতি স্থাপন শুরু করে তারা, জারি করে সামরিক শাসন। জাতিসংঘের হাত দিয়েই ফিলিস্তিনকে দুই ভাগ করা হয়-- একটি ইহুদিদের, অপরটি আরবদের জন্য। ইতোমধ্যে ইয়াসির আরাফাতের নেতৃত্বে পিএলও পশ্চিম তীর, জর্ডান ও লেবানন থেকে সশস্ত্র হামলা চালাতে থাকে। ১৯৮২ সালে লেবাননে হামলা করে ইসরায়েল। '৮৭ সালে পশ্চিম তীর এবং গাজায় ইসরায়েলি দখলদারির বিরুদ্ধে গড়ে ওঠে ফিলিস্তিনিদের মুক্তি আন্দোলন-- প্রথম ইন্তিফাদা।

১৯৯৩ সালে ক্যাম্প ডেভিড চুক্তির আগ পর্যন্ত চলে এটি। ২০০০ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত দ্বিতীয় ইন্তিফাদার সময়ে আরো ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখলে নিতে থাকে ইসরাইল। ৩৮ বছর দখলদারি শেষে ২০০৬ সালে গাজা ত্যাগ করে তারা, আর সেখানকার নির্বাচনে জয়ী হয় সশস্ত্র আন্দোলনে বিশ্বাসী হামাস। হামাস যত শক্তিশালী হয়েছে, ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত ততই বেড়েছে।

২০১৪ সালে ৫০ দিনের যুদ্ধে প্রায় ২,৩০০ ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়। ইসরায়েলের মারা যায় ৬৭ জন সৈনিক ও ছয়জন সাধারণ নাগরিক। শান্তি আর ফেরেনি ফিলিস্তিন ভূ-খণ্ডে। এই ঘটনাপ্রবাহে গুরুত্বপূর্ণ ২০১৭ সাল-- যখন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণা করেন।
রিপোর্ট : সম্রাট আনোয়ার।
পাঠকের মন্তব্য

সংশ্লিষ্ট বিশ্ব সংবাদ


অন্যান্য সংবাদ