ATN
শিরোনাম
  •  

ইসরায়েলকে মোকাবেলায় হামাসের অস্ত্র কী?

         
ইসরায়েলকে মোকাবেলায় হামাসের অস্ত্র কী?

হামাস

আধুনিক অস্ত্রের বিশাল ভাণ্ডার। সাথে শক্তিশালী ইন্টেলিজেন্স। এ কারণে ইসরায়েলকে সমীহ করে... বিশ্বের অনেক প্রভাবশালী রাষ্ট্র। সেই ইসরায়েলের ভূখণ্ডের ভেতরে ঢুকে নজিরবিহীন হামলা চালিয়েছে ফিলিস্তিনের সশস্ত্র সংগঠন- হামাস। দেখা যাক, দুই পক্ষের সামরিক শক্তির তুলনামুলক বিশ্লেষণ। সংঘাতের ইতিহাস পুরনো হলেও, এমন হামলায় শক্তিশালী ইসরায়েলের আত্মবিশ্বাসকে নাড়িয়ে দেয়ার নজির ছিলোনা, ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গঠন-হামাসের, যারা গাজা উপত্যকা শাসন করে।

১৬ বছর ধরে কার্যত অবরুদ্ধ থাকা মাত্র ৩৬৫ বর্গকিলোমিটারের গাজা উপত্যকা থেকে, ভৌগলিক অবস্থান ও ইসরায়েলের পূর্ববর্তী হামলা বিবেচনায় নতুন রণ কৌশল সাজিয়েছে হামাস। এ হামলায় তারা ব্যবহার করছে, স্বল্প থেকে ভারী পাল্লার বিভিন্ন ধরনের বিধ্বংসী রকেটসহ নতুন ধাঁচের অস্ত্রশস্ত্র। কয়েকটি অস্ত্রের ব্যবহার এর আগে কোনো সরাসরি সংঘাতে দেখা যায়নি। হামাসের বিভিন্ন অস্ত্রের মধ্যে আছে কাশেম, কুদস, ফজর-৩, ফজর-৫, হামাস এম-৭৫, আর- ১৬০, এম-৩০২ এবং, ব্যয়বহুল সেজিল সিরিজের রকেট।

অত্যাধুনিক গাইডেন্স ও প্রপালশন সিস্টেমের সংযুক্তিতে, এসব রকেট ব্যবহার করে প্রথমবারের মতো ইসরায়েলের অত্যাধুনিক আয়রন ডোম প্রযুক্তিকে টেক্কা দিতে সফল হয়েছে হামাস। যুক্তরাষ্ট্রের স্টিংগারের মতো অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক মিসাইলও রয়েছে সংগঠনটির কাছে। ফজর ইরানের তৈরি একটি সারফেস টু সারফেস দুরপাল্লার রকেট সিরিজ। যেকারণে ইসরায়েল ও তার মিত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইরানকে এই সংঘাতের পেছনের মদদদাতা হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

তবে, হামাসের ‘অপারেশন আল-আকসা ফ্লাড’ এ জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে ইরান। ইসরায়েল সীমান্তের ভেতরে ঢোকার জন্য প্রথমবারের মতো ইঞ্জিনচালিত 'পাওয়ার্ড গ্লাইডার' ব্যবহার করেছে হামাসের যোদ্ধারা। ইসরায়েলের সবচেয়ে উন্নতমানের ট্যাংক 'মেরকাভা ফোর' ধ্বংস করতে সশস্ত্র ড্রোনের ব্যবহারও দেখা গেছে, যা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহার হচ্ছে। হামাসের ব্যবহৃত ভারী মেশিনগানের তালিকায় আফগানিস্তানে মার্কিন বাহিনীর রেখে আসা অস্ত্র, এমনকি ইউক্রেনকে সহায়তা হিসেবে দেয়া পশ্চিমা মিত্রদের অস্ত্র, উত্তর কোরিয়ার তৈরি এফ-৭ হাই এক্সপ্লোসিভ ফ্রাগমেন্টেশন রকেট রয়েছে বলে জানাচ্ছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। অন্যদিকে, প্রযুক্তিগত দিক থেকে বিশ্বের

অন্যতম শ্রেষ্ঠ সমরশক্তি ইসরায়েলের সক্রিয় সেনার সংখ্যা প্রায় এক লাখ ৭০ হাজার। আর তাদের রিজার্ভ ফোর্সের সংখ্যা প্রায় সাড়ে চার লাখ। বিশাল সেনাবহরের পাশাপাশি রকেট হামলা ঠেকাতে আছে অত্যাধুনিক 'আয়রন ডোম' প্রযুক্তি। শত্রুর ছোড়া রকেট প্রতিহত করতে যার সাফল্যের হার ৯৬ শতাংশ পর্যন্ত। আকাশ প্রতিরক্ষায় আছে রাডার ফাঁকি দিতে সক্ষম স্টেলথ এফ-৩৫ ফাইটার জেট, যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এফ-১৬ ফ্যালকন ফাইটার জেট, এফ-১৫ স্ট্রাইক ঈগল, কেফির ফাইটার জেট, অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ও স্বচালিত আর্টিলারি অস্ত্র এম-১০৯ হাউইটজার।

বিধ্বংসী সব বোমার পাশাপাশি স্মার্ট বোমাও আছে ইসরায়েলের কাছে। যাতে উচ্চমানের নেটওয়ার্ক-কেন্দ্রিক সেন্সর ব্যবস্থা থাকায় খুব সহজেই লক্ষ্যবস্তুকে নির্ভুলভাবে শনাক্ত ও নির্মূল করার কাজে ব্যবহৃত হয়। স্থলপথের নিরাপত্তায় আছে অত্যাধুনিক মেরকাভা ট্যাংক। ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকাতে সক্ষম মিসাইল বোট। এছাড়া, সবশেষ অস্ত্র হিসেবে থাকছে পারমাণবিক বোমা। এরপরও ইসরায়েল পাশে পাচ্ছে বিশ্ব মোড়ল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে।

বোয়িং ও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর মধ্যে 'সরাসরি বাণিজ্যিক বিক্রয়'- চুক্তির অংশ হিসেবে, সহিংসতা শুরুর পরপরই যুক্তরাষ্ট্র তাদের যুদ্ধাস্ত্রের প্রথম চালান পৌঁছে দিয়েছে ইসরায়েলে।

রিপোর্ট : সম্রাট আনোয়ার।
পাঠকের মন্তব্য

সংশ্লিষ্ট বিশ্ব সংবাদ


অন্যান্য সংবাদ