ATN News
শিরোনাম
  •  

জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে সার্বভৌমত্ব রক্ষার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

         
জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে সার্বভৌমত্ব রক্ষার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে সার্বভৌমত্ব রক্ষার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতে কেউ যেন বাংলাদেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

আজ শনিবার ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বনানীর আর্মি স্টেডিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। দেশের আর্থসামাজিক, ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় ঐক্য সুদৃঢ় করতে হলে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার বিপ্লবের চেতনা ধারণ করতে হবে।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের বিপ্লব, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী গণঅভ্যুত্থান—প্রতিটি ঐতিহাসিক ঘটনা প্রমাণ করেছে, জাতীয় স্বার্থ ও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে বাংলাদেশের মানুষ কখনো আপস করেনি।

তারেক রহমানের ভাষ্য, ১৯৭৫ সালের নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চরম আকার ধারণ করে। ওই সময় তৎকালীন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমানকে সপরিবারে গৃহবন্দি করা হয়। পরবর্তী সময়ে সিপাহী-জনতার ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের মধ্য দিয়ে সেই ষড়যন্ত্র নস্যাৎ হয়।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জনগণের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার হরণ এবং সশস্ত্র বাহিনীর মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা বিভিন্ন সময়ে অব্যাহত ছিল। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে হাজারো মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে।

তিনি ১৯৭১ ও ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ১৯৭১ সাল ছিল স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ, আর ২০২৪ সাল ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার লড়াই। উভয় ক্ষেত্রেই দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে জাতীয় স্বার্থে রাজপথে নেমে এসেছিল।

তারেক রহমান বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের পরিচয় একটাই—আমরা বাংলাদেশি। এই পরিচয়ই জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে। ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিকে আরও সুদৃঢ় করেছে।

অভিভাবক হিসেবে তরুণদের সব সম্ভাবনা বিকাশের উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার একটি সমৃদ্ধ আগামী নির্মাণে অঙ্গীকারবদ্ধ।’

দেশের জনগণের প্রতি প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার বিপ্লবের ঐতিহাসিক এই দিনে দেশপ্রেমিক ও গণতন্ত্রকামী মানুষের উচ্চারণ হোক-‘দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, নয় অন্য কেউ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানসহ উপদেষ্টা, জাতীয় সংসদ সদস্য, বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধি, তিন বাহিনীর প্রধান, সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতিনিধি শিক্ষার্থী, তরুণ, বিএনসিসি ও স্কাউটস সদস্য এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/সা.সি
পাঠকের মন্তব্য

সংশ্লিষ্ট জাতীয় সংবাদ


অন্যান্য সংবাদ