বৃহস্পতিবার খুলনা যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, ৫০৩ উপজেলায় একযোগে উদ্বোধন হবে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খুলনা সফরকে কেন্দ্র করে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে গোটা নগরজুড়ে। আগামী বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) খুলনা সফরে আসছেন তিনি। এ সফরে বিকেল ৩টায় খুলনা জেলা স্টেডিয়াম থেকে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় একযোগে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২)’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে খুলনা নগরীকে সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজে। নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নেওয়া হয়েছে নানা প্রস্তুতি। রূপসার কুদির বটতলা থেকে খুলনা জেলা স্টেডিয়াম পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুতি নিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ফুলেল শুভেচ্ছা ও ভালোবাসায় প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করে নিতে অপেক্ষায় রয়েছেন খুলনাবাসী।
সফরকে ঘিরে নগরীর দেয়ালগুলোতেও ফুটিয়ে তোলা হয়েছে খুলনা অঞ্চলের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সম্ভাবনার চিত্র। গ্রাফিতিতে স্থান পেয়েছে বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন, ঐতিহাসিক ষাটগম্বুজ মসজিদ, মোংলা বন্দরসহ এ অঞ্চলের খ্যাতিমান বিজ্ঞানী ও গুণী শিল্পীদের নানা অবদান। এসব নান্দনিক চিত্র নগরীর সৌন্দর্যে যোগ করেছে নতুন মাত্রা। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠে রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে খুলনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২)’ উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বলেন, নতুন কুঁড়ির এ আয়োজনের মাধ্যমে আগামী দিনে তরুণদের ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে গ্রহণের সুযোগ তৈরি হবে। যুবসমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারলে তারা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে পারবে।
তিনি বলেন, নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রথম খুলনা সফর ঘিরে স্থানীয় মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। এ সফরের মধ্য দিয়ে খুলনাসহ সারা দেশে উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বন্ধ হয়ে যাওয়া মিল-কারখানা পুনরায় চালু এবং শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে সরকারের উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
খুলনা অঞ্চলে শিল্পায়নের প্রসার, গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়ন এবং মোংলা বন্দরের আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে রকিবুল ইসলাম বলেন, মোংলা বন্দরের অগ্রগতির সঙ্গে এ অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়ন ওতপ্রোতভাবে জড়িত। খুলনার হারানো ‘স্পোর্টস সিটি’ পরিচিতি ও ক্রীড়াঙ্গনের গৌরব ফিরিয়ে আনতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহফুজুল আলম খান জানান, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর দ্বিতীয় আসরে অংশ নিতে ইতোমধ্যে প্রায় ১৬ লাখ ২৩ হাজার অনলাইন নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। প্রথম আসরে নিবন্ধনের সংখ্যা ছিল এক লাখ ৬৮ হাজার। এবারের প্রতিযোগিতায় থাকছে ১০টি ইভেন্ট।
তিনি আরও জানান, সরকার স্কুল-কলেজের মাঠ ছাড়াও দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। এবছরই এক হাজার ইউনিয়নে এটি বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে। খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়ামের উন্নয়ন কাজ চলমান অর্থবছরে শুরুর বিষয়ে তিনি আশা ব্যক্ত করেন। এছাড়া খুলনা জেলা স্টেডিয়ামের অবশিষ্ট অংশে গ্যালারি স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হবে।
প্রেসব্রিফিং এ খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো.আবদুল্লাহ হারুন, জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত, কেডিএ’র চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল আলম, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন, প্রেসক্লাবের সভাপতি মোস্তফা সরোয়ার, সাধারণ সম্পাদক মো. তরিকুল ইসলামসহ প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সকালে খুলনা কালেক্টরেট প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহফুজুল আলম খান, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, কেডিএ’র চেয়ারম্যান, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে খুলনার মানুষের প্রত্যাশা অনেক। নগরীর অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ক্রীড়াঙ্গনের বিকাশ ও নতুন প্রজন্মের প্রতিভা বিকাশে-এ সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।
রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/সা.সি
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে খুলনা নগরীকে সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজে। নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নেওয়া হয়েছে নানা প্রস্তুতি। রূপসার কুদির বটতলা থেকে খুলনা জেলা স্টেডিয়াম পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুতি নিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ফুলেল শুভেচ্ছা ও ভালোবাসায় প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করে নিতে অপেক্ষায় রয়েছেন খুলনাবাসী।
সফরকে ঘিরে নগরীর দেয়ালগুলোতেও ফুটিয়ে তোলা হয়েছে খুলনা অঞ্চলের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সম্ভাবনার চিত্র। গ্রাফিতিতে স্থান পেয়েছে বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন, ঐতিহাসিক ষাটগম্বুজ মসজিদ, মোংলা বন্দরসহ এ অঞ্চলের খ্যাতিমান বিজ্ঞানী ও গুণী শিল্পীদের নানা অবদান। এসব নান্দনিক চিত্র নগরীর সৌন্দর্যে যোগ করেছে নতুন মাত্রা। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠে রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে খুলনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২)’ উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বলেন, নতুন কুঁড়ির এ আয়োজনের মাধ্যমে আগামী দিনে তরুণদের ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে গ্রহণের সুযোগ তৈরি হবে। যুবসমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারলে তারা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে পারবে।
তিনি বলেন, নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রথম খুলনা সফর ঘিরে স্থানীয় মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। এ সফরের মধ্য দিয়ে খুলনাসহ সারা দেশে উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বন্ধ হয়ে যাওয়া মিল-কারখানা পুনরায় চালু এবং শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে সরকারের উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
খুলনা অঞ্চলে শিল্পায়নের প্রসার, গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়ন এবং মোংলা বন্দরের আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে রকিবুল ইসলাম বলেন, মোংলা বন্দরের অগ্রগতির সঙ্গে এ অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়ন ওতপ্রোতভাবে জড়িত। খুলনার হারানো ‘স্পোর্টস সিটি’ পরিচিতি ও ক্রীড়াঙ্গনের গৌরব ফিরিয়ে আনতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহফুজুল আলম খান জানান, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর দ্বিতীয় আসরে অংশ নিতে ইতোমধ্যে প্রায় ১৬ লাখ ২৩ হাজার অনলাইন নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। প্রথম আসরে নিবন্ধনের সংখ্যা ছিল এক লাখ ৬৮ হাজার। এবারের প্রতিযোগিতায় থাকছে ১০টি ইভেন্ট।
তিনি আরও জানান, সরকার স্কুল-কলেজের মাঠ ছাড়াও দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। এবছরই এক হাজার ইউনিয়নে এটি বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে। খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়ামের উন্নয়ন কাজ চলমান অর্থবছরে শুরুর বিষয়ে তিনি আশা ব্যক্ত করেন। এছাড়া খুলনা জেলা স্টেডিয়ামের অবশিষ্ট অংশে গ্যালারি স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হবে।
প্রেসব্রিফিং এ খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো.আবদুল্লাহ হারুন, জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত, কেডিএ’র চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল আলম, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন, প্রেসক্লাবের সভাপতি মোস্তফা সরোয়ার, সাধারণ সম্পাদক মো. তরিকুল ইসলামসহ প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সকালে খুলনা কালেক্টরেট প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহফুজুল আলম খান, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, কেডিএ’র চেয়ারম্যান, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে খুলনার মানুষের প্রত্যাশা অনেক। নগরীর অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ক্রীড়াঙ্গনের বিকাশ ও নতুন প্রজন্মের প্রতিভা বিকাশে-এ সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।
রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/সা.সি
