ATN News
শিরোনাম
  •  

পরীমণির জামিন বাতিল, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলেন আদালত

         
পরীমণির জামিন বাতিল, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলেন আদালত

পরীমণির জামিন বাতিল, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলেন আদালত

ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের দায়ের করা মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মামলায় চিত্রনায়িকা পরীমণির জামিন বাতিল করে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

আজ বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমান এ আদেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলাটিতে সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল। এদিন বাদীপক্ষ আসামিদের জামিন বাতিলের আবেদন করেন। অন্যদিকে, পরীমণির আইনজীবী আদালতে সময় চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, অ্যালার্জিজনিত অসুস্থতার কারণে পরীমণি আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি।

পরে বাদীপক্ষের আবেদন মঞ্জুর করে আদালত পরীমণির জামিন বাতিল করেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন।

এর আগেও এ মামলায় পরীমণির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল। ২০২৫ সালের ২৬ জানুয়ারি মামলায় অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। ওই সময় তাঁর বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হলে পরবর্তীতে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান তিনি।

মামলার তদন্তে ২০২৪ সালে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ঢাকা জেলার পরিদর্শক মো. মনির হোসেন আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে পরীমণি ও তাঁর কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমের বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। তবে অপর আসামি ফাতেমা তুজ জান্নাত বনির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।

পরে আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে পরীমণি ও জিমকে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেন। ২০২৪ সালের ২৫ জুন তাঁরা আদালতে হাজির হয়ে জামিন পান।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ৬ জুলাই বোট ক্লাবের সভাপতি ও ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পরীমণিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। মামলার অন্য দুই আসামি হলেন পরীমণির সহযোগী ফাতেমা তুজ জান্নাত বনি এবং জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিম।

মামলায় নাসিরউদ্দিন উল্লেখ করেন, পরীমনি ও তার সহযোগীরা অ্যালকোহল সেবনে অভ্যস্ত। তারা সুযোগ বুঝে বিভিন্ন নামীদামি ক্লাবে ঢুকে অ্যালকোহল পান করেন এবং পার্সেল নিয়ে মূল্য পরিশোধ করেন না। পরীমনি তার পরিচিত পুলিশ কর্মকর্তাদের দিয়ে মিথ্যা মামলা করিয়ে হয়রানির ভয় দেখান। ২০২১ সালের ৯ জুন রাত ১২টার পর আসামিরা সাভারের বোট ক্লাবে ঢোকেন এবং দ্বিতীয় তলার ওয়াশরুম ব্যবহার করেন। পরে তারা ক্লাবের ভেতরে বসে অ্যালকোহল পান করেন।

এতে আরও বলা হয়, বাদী (নাসির উদ্দিন মাহমুদ) ও তার সহযোগী শাহ শহিদুল আলম রাত ১টা ১৫ মিনিটে যখন ক্লাব ত্যাগ করছিলেন, তখন পরীমনি উদ্দেশ্যমূলকভাবে নাসিরকে ডাক দেন। তাদের সঙ্গে কিছু সময় বসারও অনুরোধ করেন। এক পর্যায়ে পরীমনি অশ্লীল অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে নাসিরকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং একটি ব্লু লেবেল অ্যালকোহলের বোতল বিনামূল্যে পার্সেল দেওয়ার জন্য চাপ দেন। নাসির উদ্দিন এতে রাজি না হওয়ায় পরীমনি তাকে গালমন্দ করেন। নাসির এবং আসামিদের মধ্যে বাদানুবাদের এক পর্যায়ে পরীমনি বাদীর দিকে একটি সারভিং গ্লাস ছুড়ে মারেন এবং হাতে থাকা মোবাইল ফোনও ছুড়ে মারেন। এতে নাসির মাথায় এবং বুকে আঘাতপ্রাপ্ত হন।

বাদী মামলায় আরও উল্লেখ করেন, পরীমনি ও তার সহযোগীরা তাকে (নাসির উদ্দিনকে) মারধর ও হত্যার হুমকি দিয়েছেন ও বোট ক্লাবে ভাঙচুর করেছেন। এ ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য, পরীমনি সাভার থানায় বাদী হয়ে নাসির উদ্দিনসহ দুজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ তুলে মামলা করেন।

তবে মামলার এজাহারে আনা এসব অভিযোগ বিচারাধীন। আদালতের চূড়ান্ত রায়ের আগে অভিযোগগুলো প্রমাণিত বলে গণ্য হবে না।

রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/সা.সি
পাঠকের মন্তব্য

সংশ্লিষ্ট বিনোদন সংবাদ


অন্যান্য সংবাদ