বাংলাদেশে হান্টার ৩৫০ ও ক্ল্যাসিক ৩৫০-এর নতুন সংস্করণ উন্মোচন করল রয়্যাল এনফিল্ড
মোটরসাইকেলের সম্ভার আরও সমৃদ্ধ করতে হান্টার ৩৫০-এর আটটি এবং ক্ল্যাসিক ৩৫০-এর তিনটি নতুন রঙ ও সংস্করণ নিয়ে এসেছে রয়্যাল এনফিল্ড বাংলাদেশ।
৩১ অক্টোবর ২০২৬, মাঝারি ইঞ্জিনক্ষমতার (২৫০–৭৫০ সিসি) মোটরসাইকেলের বৈশ্বিক বাজারে শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ড রয়্যাল এনফিল্ড বাংলাদেশে হান্টার ৩৫০ ও ক্ল্যাসিক ৩৫০-এর নতুন সংস্করণ উন্মোচন করেছে। এর মাধ্যমে দেশের বাজারে ব্র্যান্ডটির মোটরসাইকেলের সম্ভার আরও সমৃদ্ধ হলো।
নতুন হান্টার ৩৫০ ও ক্ল্যাসিক ৩৫০ বাংলাদেশের বাজারে রয়্যাল এনফিল্ডের টাইপ-২ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ইফাদ মোটরস লিমিটেডের মাধ্যমে বাজারজাত করা হবে।
রয়্যাল এনফিল্ডের জনপ্রিয় এই দুটি মোটরসাইকেল মডেলে যুক্ত হয়েছে নতুন ও আকর্ষণীয় রঙের সমাহার। ফলে ক্রেতারা নিজেদের পছন্দ ও ব্যক্তিত্ব অনুযায়ী মোটরসাইকেল বেছে নেওয়ার আরও বেশি সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে হান্টার ৩৫০ ও ক্ল্যাসিক ৩৫০-এর নিজস্ব বৈশিষ্ট্য, ঐতিহ্যবাহী নকশা এবং স্বাচ্ছন্দ্যময় চালানোর অভিজ্ঞতা অক্ষুণ্ণ রাখা হয়েছে।
নতুন হান্টার ৩৫০ পাওয়া যাবে আটটি আকর্ষণীয় রঙে—রেবেল ব্লু (Rebel Blue), ড্যাপার গ্রে (Dapper Grey), লন্ডন রেড (London Red), টোকিও ব্ল্যাক (Tokyo Black), রিও হোয়াইট (Rio White), গ্রাফাইট গ্রে (Graphite Grey), মুনশট হোয়াইট (Moonshot White) এবং মুম্বাই ইয়েলো (Mumbai Yellow)।
নতুন হান্টার ৩৫০-এ যুক্ত করা হয়েছে অ্যাসিস্ট অ্যান্ড স্লিপার ক্লাচ, এলইডি হেডলাইট এবং টাইপ-সি ইউএসবি দ্রুত চার্জিংয়ের মতো আধুনিক প্রযুক্তি। পাশাপাশি উন্নত সাসপেনশন ও আরামদায়ক আসন মোটরসাইকেলটির ব্যবহারিক সুবিধা আরও বাড়িয়েছে।
রয়্যাল এনফিল্ডের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে আধুনিক নকশা, সহজ নিয়ন্ত্রণ ও গতিশীল কর্মক্ষমতার সমন্বয়ে হান্টার ৩৫০ শহরের ব্যস্ত সড়কে চলাচলের জন্য একটি আদর্শ মোটরসাইকেল।
অন্যদিকে, ক্ল্যাসিক ৩৫০-এর নতুন সংস্করণ পাওয়া যাবে তিনটি আকর্ষণীয় রঙে। এগুলো হলো—ডার্ক সিরিজের গান গ্রে (Gun Grey), হেরিটেজ প্রিমিয়াম সিরিজের মেডালিয়ন ব্রোঞ্জ (Medallion Bronze) এবং ক্রোম সিরিজের এমারেল্ড গ্রিন (Emerald Green)।
রয়্যাল এনফিল্ডের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য থেকে অনুপ্রাণিত ক্ল্যাসিক ৩৫০-এর অনন্য নকশা ও চিরায়ত আবেদন নতুন সংস্করণগুলোতেও অক্ষুণ্ণ রয়েছে। একই সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত সুবিধার সমন্বয়ে মোটরসাইকেলটি হয়েছে আরও ব্যবহারবান্ধব। অ্যাসিস্ট অ্যান্ড স্লিপার ক্লাচ এবং টাইপ-সি ইউএসবি দ্রুত চার্জিংয়ের মতো সুবিধা দৈনন্দিন যাতায়াতকে আরও সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করবে।
নতুন মোটরসাইকেল উন্মোচন উপলক্ষে ইফাদ মোটরস লিমিটেডের ভাইস চেয়ারম্যান তারসন আহমেদ বলেন, “বাংলাদেশের মোটরসাইকেলপ্রেমীদের জন্য রয়্যাল এনফিল্ড হান্টার ৩৫০ ও ক্ল্যাসিক ৩৫০-এর নতুন সংস্করণ নিয়ে আসতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। দুটি মোটরসাইকেলেরই রয়েছে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ও স্বতন্ত্র আবেদন, যা ভিন্ন ভিন্ন ধরনের চালকের পছন্দ ও রুচির প্রতিফলন ঘটায়। নতুন রঙের সংযোজনের ফলে ক্রেতারা নিজেদের ব্যক্তিত্ব ও পছন্দ অনুযায়ী মোটরসাইকেল বেছে নেওয়ার আরও বেশি সুযোগ পাবেন। আমরা বিশ্বাস করি, নতুন এই সংস্করণগুলো বাংলাদেশের চালকদের মধ্যে রয়্যাল এনফিল্ডের জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়াবে।”
হান্টার ৩৫০ রয়্যাল এনফিল্ডের একটি আধুনিক রোডস্টার মোটরসাইকেল। কমপ্যাক্ট নকশা, সহজ নিয়ন্ত্রণ এবং স্বতন্ত্র শৈলী পছন্দ করেন—এমন চালকদের কথা মাথায় রেখে এটি তৈরি করা হয়েছে। এর আকর্ষণীয় নকশা, আরামদায়ক চালানোর ভঙ্গি এবং দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা শহরের ব্যস্ত সড়কে চলাচলকে আরও সহজ ও উপভোগ্য করে তোলে। একই সঙ্গে মোটরসাইকেলটিতে রয়েছে রয়্যাল এনফিল্ডের নিজস্ব পরিচিতি ও বৈশিষ্ট্য।
নতুন হান্টার ৩৫০-এর আটটি রঙ হলো—রেবেল ব্লু, ড্যাপার গ্রে, লন্ডন রেড, টোকিও ব্ল্যাক, রিও হোয়াইট, গ্রাফাইট গ্রে, মুনশট হোয়াইট এবং মুম্বাই ইয়েলো। পরিশীলিত ও অভিজাত রঙের পাশাপাশি উজ্জ্বল ও সাহসী রঙের এই বৈচিত্র্য চালকদের নিজস্ব রুচি ও ব্যক্তিত্ব প্রকাশের সুযোগ করে দেবে।
রয়্যাল এনফিল্ডের ঐতিহ্যবাহী রেট্রো নকশার সঙ্গে আধুনিক প্রকৌশল ও চালকদের সুবিধার কথা বিবেচনায় নেওয়া প্রযুক্তির সমন্বয়ে তৈরি ক্ল্যাসিক ৩৫০।
এর অশ্রুবিন্দু আকৃতির জ্বালানি ট্যাংক, স্বতন্ত্র হেডল্যাম্প, নান্দনিক মাডগার্ড এবং চিরচেনা অবয়ব ক্ল্যাসিক ৩৫০-কে সড়কে সহজেই আলাদা করে চেনার সুযোগ করে দেয়।
ক্ল্যাসিক ৩৫০-এর নতুন তিনটি রঙ হলো—গান গ্রে, মেডালিয়ন ব্রোঞ্জ এবং এমারেল্ড গ্রিন। এই নতুন রঙগুলো মোটরসাইকেলটির চিরায়ত বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ রেখে নকশায় আধুনিকতার নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
নতুন এই সংস্করণগুলো উন্মোচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের চালকদের জন্য মাঝারি ইঞ্জিনক্ষমতার মোটরসাইকেলের বৈচিত্র্যময় সম্ভাবনা নিশ্চিত করার প্রতি রয়্যাল এনফিল্ডের অঙ্গীকার আরও সুদৃঢ় হলো। প্রতিটি মোটরসাইকেল নিজস্ব বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে ব্র্যান্ডটির দীর্ঘদিনের দর্শন ‘পিওর মোটরসাইক্লিং’ বা মোটরসাইকেল চালানোর বিশুদ্ধ আনন্দকে তুলে ধরে।
নতুন হান্টার ৩৫০ ও ক্ল্যাসিক ৩৫০ এখন সারা দেশে রয়্যাল এনফিল্ডের অনুমোদিত বিক্রয়কেন্দ্রগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে।
নতুন মোটরসাইকেলের মূল্যতালিকা
মডেল ও রঙ সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য
হান্টার ৩৫০ – ড্যাপার গ্রে ৩,৭৫,০০০ টাকা
হান্টার ৩৫০ – রিও হোয়াইট ৩,৭৫,০০০ টাকা
হান্টার ৩৫০ – গ্রাফাইট গ্রে ৩,৭৫,০০০ টাকা
হান্টার ৩৫০ – রেবেল ব্লু ৩,৮০,০০০ টাকা
হান্টার ৩৫০ – টোকিও ব্ল্যাক ৩,৮০,০০০ টাকা
হান্টার ৩৫০ – মুনশট হোয়াইট ৩,৮০,০০০ টাকা
হান্টার ৩৫০ – লন্ডন রেড ৩,৮০,০০০ টাকা
হান্টার ৩৫০ – মুম্বাই ইয়েলো ৩,৮০,০০০ টাকা
ক্ল্যাসিক ৩৫০ – মেডালিয়ন ব্রোঞ্জ ৪,৪৫,০০০ টাকা
ক্ল্যাসিক ৩৫০ – গান গ্রে ৪,৫৯,০০০ টাকা
ক্ল্যাসিক ৩৫০ – এমারেল্ড গ্রিন ৪,৮৯,০০০ টাকা
বিস্তারিত তথ্য জানতে আগ্রহী ক্রেতারা তাঁদের নিকটস্থ রয়্যাল এনফিল্ডের অনুমোদিত বিক্রয়কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে পারবেন।
রয়্যাল এনফিল্ড বিশ্বের প্রাচীনতম মোটরসাইকেল ব্র্যান্ড, যার উৎপাদন কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে। ১৯০১ সাল থেকে ব্র্যান্ডটি আকর্ষণীয় নকশা ও উন্নত কারিগরি দক্ষতার সমন্বয়ে মোটরসাইকেল তৈরি করে আসছে।
যুক্তরাজ্যে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি ১৯৫৫ সালে ভারতের মাদ্রাজে একটি উৎপাদন কারখানা স্থাপন করে। এর মাধ্যমে ভারতের মাঝারি ইঞ্জিনক্ষমতার দুই চাকার যানবাহনের বাজারের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে রয়্যাল এনফিল্ড।
রয়্যাল এনফিল্ডের মোটরসাইকেলগুলো সহজে ব্যবহারযোগ্য, আকর্ষণীয় এবং চালানোর জন্য আনন্দদায়ক। এগুলো চালকদের নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন ও নিজস্ব ব্যক্তিত্ব প্রকাশের সুযোগ করে দেয়। ব্র্যান্ডটি এই দর্শনকে ‘পিওর মোটরসাইক্লিং’ নামে অভিহিত করে।
রয়্যাল এনফিল্ডের মোটরসাইকেলের সম্ভারে রয়েছে—বিয়ার ৬৫০, ক্ল্যাসিক ৬৫০, বুলেট ৬৫০, গেরিলা ৪৫০, হান্টার ৩৫০, মিটিওর ৩৫০, সুপার মিটিওর ৬৫০, ইন্টারসেপ্টর ৬৫০, কন্টিনেন্টাল জিটি ৬৫০, শটগান ৬৫০, হিমালয়ান ৪৫০, স্ক্র্যাম ৪৪০, বুলেট ৩৫০, ক্ল্যাসিক ৩৫০ এবং গোয়ান ক্ল্যাসিক ৩৫০।
সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি শহুরে চলাচলের জন্য ‘ফ্লাইং ফ্লি’ নামে নতুন একটি বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল ব্র্যান্ড উন্মোচন করেছে। এই ব্র্যান্ডে ঐতিহ্যবাহী নকশার সঙ্গে উন্নত প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটানো হয়েছে।
স্থানীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে রয়্যাল এনফিল্ড চালকদের একটি শক্তিশালী ও উৎসাহী সম্প্রদায় গড়ে তুলেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ভারতের গোয়ায় আয়োজিত বার্ষিক মোটরসাইকেল উৎসব ‘মোটোভার্স’ (পূর্বনাম রাইডার ম্যানিয়া), যেখানে হাজারো রয়্যাল এনফিল্ডপ্রেমী অংশ নেন।
এ ছাড়া ‘হিমালয়ান ওডিসি’ নামে বার্ষিক বাইক অভিযানের মাধ্যমে চালকেরা দুর্গম পাহাড়ি পথ ও বিশ্বের উচ্চতম গিরিপথগুলোর কয়েকটি অতিক্রম করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।
বিশ্বের ৮০টিরও বেশি দেশে প্রায় ১,২১২টি বিক্রয়কেন্দ্রের মাধ্যমে ব্র্যান্ডটির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি, আইশার মোটরস লিমিটেডের একটি বিভাগ হিসেবে পরিচালিত রয়্যাল এনফিল্ডের ভারতে প্রধান শহর ও নগরগুলোতে ২,০৭৪টিরও বেশি বিক্রয়কেন্দ্র রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির দুটি বিশ্বমানের কারিগরি উন্নয়নকেন্দ্র রয়েছে যুক্তরাজ্যের ব্রান্টিংথর্প ও ভারতের চেন্নাইয়ে। এ ছাড়া চেন্নাইয়ের কাছাকাছি তিরুভোত্তিয়ুর, চেইয়ার, ওরাগাডাম ও ভাদামালায় আধুনিক উৎপাদন কারখানা রয়েছে।
বিশ্বজুড়ে রয়্যাল এনফিল্ডের সাতটি আধুনিক সিকেডি (CKD) সংযোজন কারখানা রয়েছে। এগুলো বাংলাদেশ, নেপাল, ব্রাজিল (দুটি), থাইল্যান্ড, আর্জেন্টিনা ও কলম্বিয়ায় অবস্থিত।
রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/সা.সি
৩১ অক্টোবর ২০২৬, মাঝারি ইঞ্জিনক্ষমতার (২৫০–৭৫০ সিসি) মোটরসাইকেলের বৈশ্বিক বাজারে শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ড রয়্যাল এনফিল্ড বাংলাদেশে হান্টার ৩৫০ ও ক্ল্যাসিক ৩৫০-এর নতুন সংস্করণ উন্মোচন করেছে। এর মাধ্যমে দেশের বাজারে ব্র্যান্ডটির মোটরসাইকেলের সম্ভার আরও সমৃদ্ধ হলো।
নতুন হান্টার ৩৫০ ও ক্ল্যাসিক ৩৫০ বাংলাদেশের বাজারে রয়্যাল এনফিল্ডের টাইপ-২ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ইফাদ মোটরস লিমিটেডের মাধ্যমে বাজারজাত করা হবে।
রয়্যাল এনফিল্ডের জনপ্রিয় এই দুটি মোটরসাইকেল মডেলে যুক্ত হয়েছে নতুন ও আকর্ষণীয় রঙের সমাহার। ফলে ক্রেতারা নিজেদের পছন্দ ও ব্যক্তিত্ব অনুযায়ী মোটরসাইকেল বেছে নেওয়ার আরও বেশি সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে হান্টার ৩৫০ ও ক্ল্যাসিক ৩৫০-এর নিজস্ব বৈশিষ্ট্য, ঐতিহ্যবাহী নকশা এবং স্বাচ্ছন্দ্যময় চালানোর অভিজ্ঞতা অক্ষুণ্ণ রাখা হয়েছে।
নতুন হান্টার ৩৫০ পাওয়া যাবে আটটি আকর্ষণীয় রঙে—রেবেল ব্লু (Rebel Blue), ড্যাপার গ্রে (Dapper Grey), লন্ডন রেড (London Red), টোকিও ব্ল্যাক (Tokyo Black), রিও হোয়াইট (Rio White), গ্রাফাইট গ্রে (Graphite Grey), মুনশট হোয়াইট (Moonshot White) এবং মুম্বাই ইয়েলো (Mumbai Yellow)।
নতুন হান্টার ৩৫০-এ যুক্ত করা হয়েছে অ্যাসিস্ট অ্যান্ড স্লিপার ক্লাচ, এলইডি হেডলাইট এবং টাইপ-সি ইউএসবি দ্রুত চার্জিংয়ের মতো আধুনিক প্রযুক্তি। পাশাপাশি উন্নত সাসপেনশন ও আরামদায়ক আসন মোটরসাইকেলটির ব্যবহারিক সুবিধা আরও বাড়িয়েছে।
রয়্যাল এনফিল্ডের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে আধুনিক নকশা, সহজ নিয়ন্ত্রণ ও গতিশীল কর্মক্ষমতার সমন্বয়ে হান্টার ৩৫০ শহরের ব্যস্ত সড়কে চলাচলের জন্য একটি আদর্শ মোটরসাইকেল।
অন্যদিকে, ক্ল্যাসিক ৩৫০-এর নতুন সংস্করণ পাওয়া যাবে তিনটি আকর্ষণীয় রঙে। এগুলো হলো—ডার্ক সিরিজের গান গ্রে (Gun Grey), হেরিটেজ প্রিমিয়াম সিরিজের মেডালিয়ন ব্রোঞ্জ (Medallion Bronze) এবং ক্রোম সিরিজের এমারেল্ড গ্রিন (Emerald Green)।
রয়্যাল এনফিল্ডের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য থেকে অনুপ্রাণিত ক্ল্যাসিক ৩৫০-এর অনন্য নকশা ও চিরায়ত আবেদন নতুন সংস্করণগুলোতেও অক্ষুণ্ণ রয়েছে। একই সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত সুবিধার সমন্বয়ে মোটরসাইকেলটি হয়েছে আরও ব্যবহারবান্ধব। অ্যাসিস্ট অ্যান্ড স্লিপার ক্লাচ এবং টাইপ-সি ইউএসবি দ্রুত চার্জিংয়ের মতো সুবিধা দৈনন্দিন যাতায়াতকে আরও সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করবে।
নতুন মোটরসাইকেল উন্মোচন উপলক্ষে ইফাদ মোটরস লিমিটেডের ভাইস চেয়ারম্যান তারসন আহমেদ বলেন, “বাংলাদেশের মোটরসাইকেলপ্রেমীদের জন্য রয়্যাল এনফিল্ড হান্টার ৩৫০ ও ক্ল্যাসিক ৩৫০-এর নতুন সংস্করণ নিয়ে আসতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। দুটি মোটরসাইকেলেরই রয়েছে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ও স্বতন্ত্র আবেদন, যা ভিন্ন ভিন্ন ধরনের চালকের পছন্দ ও রুচির প্রতিফলন ঘটায়। নতুন রঙের সংযোজনের ফলে ক্রেতারা নিজেদের ব্যক্তিত্ব ও পছন্দ অনুযায়ী মোটরসাইকেল বেছে নেওয়ার আরও বেশি সুযোগ পাবেন। আমরা বিশ্বাস করি, নতুন এই সংস্করণগুলো বাংলাদেশের চালকদের মধ্যে রয়্যাল এনফিল্ডের জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়াবে।”
হান্টার ৩৫০ রয়্যাল এনফিল্ডের একটি আধুনিক রোডস্টার মোটরসাইকেল। কমপ্যাক্ট নকশা, সহজ নিয়ন্ত্রণ এবং স্বতন্ত্র শৈলী পছন্দ করেন—এমন চালকদের কথা মাথায় রেখে এটি তৈরি করা হয়েছে। এর আকর্ষণীয় নকশা, আরামদায়ক চালানোর ভঙ্গি এবং দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা শহরের ব্যস্ত সড়কে চলাচলকে আরও সহজ ও উপভোগ্য করে তোলে। একই সঙ্গে মোটরসাইকেলটিতে রয়েছে রয়্যাল এনফিল্ডের নিজস্ব পরিচিতি ও বৈশিষ্ট্য।
নতুন হান্টার ৩৫০-এর আটটি রঙ হলো—রেবেল ব্লু, ড্যাপার গ্রে, লন্ডন রেড, টোকিও ব্ল্যাক, রিও হোয়াইট, গ্রাফাইট গ্রে, মুনশট হোয়াইট এবং মুম্বাই ইয়েলো। পরিশীলিত ও অভিজাত রঙের পাশাপাশি উজ্জ্বল ও সাহসী রঙের এই বৈচিত্র্য চালকদের নিজস্ব রুচি ও ব্যক্তিত্ব প্রকাশের সুযোগ করে দেবে।
রয়্যাল এনফিল্ডের ঐতিহ্যবাহী রেট্রো নকশার সঙ্গে আধুনিক প্রকৌশল ও চালকদের সুবিধার কথা বিবেচনায় নেওয়া প্রযুক্তির সমন্বয়ে তৈরি ক্ল্যাসিক ৩৫০।
এর অশ্রুবিন্দু আকৃতির জ্বালানি ট্যাংক, স্বতন্ত্র হেডল্যাম্প, নান্দনিক মাডগার্ড এবং চিরচেনা অবয়ব ক্ল্যাসিক ৩৫০-কে সড়কে সহজেই আলাদা করে চেনার সুযোগ করে দেয়।
ক্ল্যাসিক ৩৫০-এর নতুন তিনটি রঙ হলো—গান গ্রে, মেডালিয়ন ব্রোঞ্জ এবং এমারেল্ড গ্রিন। এই নতুন রঙগুলো মোটরসাইকেলটির চিরায়ত বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ রেখে নকশায় আধুনিকতার নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
নতুন এই সংস্করণগুলো উন্মোচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের চালকদের জন্য মাঝারি ইঞ্জিনক্ষমতার মোটরসাইকেলের বৈচিত্র্যময় সম্ভাবনা নিশ্চিত করার প্রতি রয়্যাল এনফিল্ডের অঙ্গীকার আরও সুদৃঢ় হলো। প্রতিটি মোটরসাইকেল নিজস্ব বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে ব্র্যান্ডটির দীর্ঘদিনের দর্শন ‘পিওর মোটরসাইক্লিং’ বা মোটরসাইকেল চালানোর বিশুদ্ধ আনন্দকে তুলে ধরে।
নতুন হান্টার ৩৫০ ও ক্ল্যাসিক ৩৫০ এখন সারা দেশে রয়্যাল এনফিল্ডের অনুমোদিত বিক্রয়কেন্দ্রগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে।
নতুন মোটরসাইকেলের মূল্যতালিকা
মডেল ও রঙ সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য
হান্টার ৩৫০ – ড্যাপার গ্রে ৩,৭৫,০০০ টাকা
হান্টার ৩৫০ – রিও হোয়াইট ৩,৭৫,০০০ টাকা
হান্টার ৩৫০ – গ্রাফাইট গ্রে ৩,৭৫,০০০ টাকা
হান্টার ৩৫০ – রেবেল ব্লু ৩,৮০,০০০ টাকা
হান্টার ৩৫০ – টোকিও ব্ল্যাক ৩,৮০,০০০ টাকা
হান্টার ৩৫০ – মুনশট হোয়াইট ৩,৮০,০০০ টাকা
হান্টার ৩৫০ – লন্ডন রেড ৩,৮০,০০০ টাকা
হান্টার ৩৫০ – মুম্বাই ইয়েলো ৩,৮০,০০০ টাকা
ক্ল্যাসিক ৩৫০ – মেডালিয়ন ব্রোঞ্জ ৪,৪৫,০০০ টাকা
ক্ল্যাসিক ৩৫০ – গান গ্রে ৪,৫৯,০০০ টাকা
ক্ল্যাসিক ৩৫০ – এমারেল্ড গ্রিন ৪,৮৯,০০০ টাকা
বিস্তারিত তথ্য জানতে আগ্রহী ক্রেতারা তাঁদের নিকটস্থ রয়্যাল এনফিল্ডের অনুমোদিত বিক্রয়কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে পারবেন।
রয়্যাল এনফিল্ড বিশ্বের প্রাচীনতম মোটরসাইকেল ব্র্যান্ড, যার উৎপাদন কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে। ১৯০১ সাল থেকে ব্র্যান্ডটি আকর্ষণীয় নকশা ও উন্নত কারিগরি দক্ষতার সমন্বয়ে মোটরসাইকেল তৈরি করে আসছে।
যুক্তরাজ্যে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি ১৯৫৫ সালে ভারতের মাদ্রাজে একটি উৎপাদন কারখানা স্থাপন করে। এর মাধ্যমে ভারতের মাঝারি ইঞ্জিনক্ষমতার দুই চাকার যানবাহনের বাজারের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে রয়্যাল এনফিল্ড।
রয়্যাল এনফিল্ডের মোটরসাইকেলগুলো সহজে ব্যবহারযোগ্য, আকর্ষণীয় এবং চালানোর জন্য আনন্দদায়ক। এগুলো চালকদের নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন ও নিজস্ব ব্যক্তিত্ব প্রকাশের সুযোগ করে দেয়। ব্র্যান্ডটি এই দর্শনকে ‘পিওর মোটরসাইক্লিং’ নামে অভিহিত করে।
রয়্যাল এনফিল্ডের মোটরসাইকেলের সম্ভারে রয়েছে—বিয়ার ৬৫০, ক্ল্যাসিক ৬৫০, বুলেট ৬৫০, গেরিলা ৪৫০, হান্টার ৩৫০, মিটিওর ৩৫০, সুপার মিটিওর ৬৫০, ইন্টারসেপ্টর ৬৫০, কন্টিনেন্টাল জিটি ৬৫০, শটগান ৬৫০, হিমালয়ান ৪৫০, স্ক্র্যাম ৪৪০, বুলেট ৩৫০, ক্ল্যাসিক ৩৫০ এবং গোয়ান ক্ল্যাসিক ৩৫০।
সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি শহুরে চলাচলের জন্য ‘ফ্লাইং ফ্লি’ নামে নতুন একটি বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল ব্র্যান্ড উন্মোচন করেছে। এই ব্র্যান্ডে ঐতিহ্যবাহী নকশার সঙ্গে উন্নত প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটানো হয়েছে।
স্থানীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে রয়্যাল এনফিল্ড চালকদের একটি শক্তিশালী ও উৎসাহী সম্প্রদায় গড়ে তুলেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ভারতের গোয়ায় আয়োজিত বার্ষিক মোটরসাইকেল উৎসব ‘মোটোভার্স’ (পূর্বনাম রাইডার ম্যানিয়া), যেখানে হাজারো রয়্যাল এনফিল্ডপ্রেমী অংশ নেন।
এ ছাড়া ‘হিমালয়ান ওডিসি’ নামে বার্ষিক বাইক অভিযানের মাধ্যমে চালকেরা দুর্গম পাহাড়ি পথ ও বিশ্বের উচ্চতম গিরিপথগুলোর কয়েকটি অতিক্রম করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।
বিশ্বের ৮০টিরও বেশি দেশে প্রায় ১,২১২টি বিক্রয়কেন্দ্রের মাধ্যমে ব্র্যান্ডটির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি, আইশার মোটরস লিমিটেডের একটি বিভাগ হিসেবে পরিচালিত রয়্যাল এনফিল্ডের ভারতে প্রধান শহর ও নগরগুলোতে ২,০৭৪টিরও বেশি বিক্রয়কেন্দ্র রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির দুটি বিশ্বমানের কারিগরি উন্নয়নকেন্দ্র রয়েছে যুক্তরাজ্যের ব্রান্টিংথর্প ও ভারতের চেন্নাইয়ে। এ ছাড়া চেন্নাইয়ের কাছাকাছি তিরুভোত্তিয়ুর, চেইয়ার, ওরাগাডাম ও ভাদামালায় আধুনিক উৎপাদন কারখানা রয়েছে।
বিশ্বজুড়ে রয়্যাল এনফিল্ডের সাতটি আধুনিক সিকেডি (CKD) সংযোজন কারখানা রয়েছে। এগুলো বাংলাদেশ, নেপাল, ব্রাজিল (দুটি), থাইল্যান্ড, আর্জেন্টিনা ও কলম্বিয়ায় অবস্থিত।
রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/সা.সি
