ঢাকার ৯৮টি বাস রুট কমিয়ে ৩২টিতে আনার পরিকল্পনা, আজ চালু হচ্ছে ৬ রুট
রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, যানজট নিরসন এবং যাত্রীসেবার মান বাড়াতে বাস রুট পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ পরিকল্পনার আওতায় বর্তমানে চালু থাকা ৯৮টি বাস রুটকে সমন্বয় করে ৩২টি রুটে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রোববার (১ নভেম্বর) প্রাথমিকভাবে প্রস্তাবিত ৩২টি রুটের মধ্যে ছয়টি রুটের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাকি রুটগুলোও নতুন ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় একই সড়কে বিভিন্ন কোম্পানির বাসের মধ্যে যাত্রী তোলার প্রতিযোগিতা, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা, অতিরিক্ত বাস চলাচল এবং নির্ধারিত স্টপেজ না মানার মতো সমস্যা বিদ্যমান। একই সড়কে একাধিক কোম্পানির বাস চলাচলের কারণে বিশৃঙ্খলার পাশাপাশি যানজটও বাড়ছে।
অন্যদিকে রাজধানীর অনেক এলাকায় প্রয়োজনের তুলনায় বাসের সংখ্যা কম। এ অবস্থার পরিবর্তনে যাত্রীদের চাহিদা, সড়কের ধারণক্ষমতা এবং যানবাহন চলাচলের বাস্তব চিত্র বিবেচনায় নিয়ে রুট পুনর্বিন্যাসের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) বাস রুট রেশনালাইজেশন প্রকল্পের আওতায় এ পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি নির্ধারিত রুটে একটি কোম্পানির মাধ্যমে বাস পরিচালনার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। এতে পরিবহন কোম্পানিগুলোর মধ্যে যাত্রী সংগ্রহের প্রতিযোগিতা কমবে, বাস চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং যাত্রীসেবার মান বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মসিউর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, রাজধানীর গণপরিবহনে দীর্ঘদিনের বিশৃঙ্খলা দূর করার লক্ষ্যেই বাস রুট রেশনালাইজেশন কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ঢাকায় ৯৮টি সচল বাস রুট রয়েছে। এসব রুট পুনর্বিন্যাস করে ৩২টি সমন্বিত রুটে রূপান্তরের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যাত্রীদের প্রকৃত চাহিদা, সড়কের ধারণক্ষমতা এবং যানবাহন চলাচলের তথ্য বিশ্লেষণ করে এ পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থাকে একটি পরিকল্পিত, নিরাপদ ও যাত্রীবান্ধব কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
বাস রুট রেশনালাইজেশন মূলত যাত্রীদের চাহিদা, সড়কের ধারণক্ষমতা ও যানজটের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বাস চলাচলের রুটগুলো পরিকল্পিতভাবে পুনর্বিন্যাস ও সমন্বয় করার প্রক্রিয়া। এর আওতায় শুধু বাসের সংখ্যা কমানো কিংবা রুট পরিবর্তনই নয়, বরং বাসের সংখ্যা, চলাচলের পথ, স্টপেজ, সময়সূচি এবং পরিচালনাপদ্ধতিকেও একটি সমন্বিত ব্যবস্থার মধ্যে আনা হয়।
ডিটিসিএ সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর বাস রুট পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ প্রথম নেওয়া হয়েছিল ২০১১ সালে। সে সময় ঢাকা পরিবহন সমন্বয় বোর্ডের (ডিটিসিবি) মাধ্যমে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলেও তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তী সময়ে ২০১৯ সাল থেকে ডিটিসিএ আগের বিভিন্ন সমীক্ষা পর্যালোচনা করে নতুন পরিকল্পনা তৈরির কাজ শুরু করে। প্রাথমিক পর্যায়ে ৪২টি রুটের প্রস্তাব করা হয়েছিল।
পরবর্তীতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, বাস মালিক এবং শ্রমিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনা ও পর্যালোচনার পর ৩২টি রুটের বিষয়ে ঐকমত্য তৈরি হয়।
পরিকল্পনা প্রণয়নে বিভিন্ন পর্যায়ে বিপুল পরিমাণ তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। ২০২৪ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত সচল থাকা ৯৮টি বাস রুটের প্রতিটিতে ১৮টি ট্রিপের যাত্রীদের ওঠানামা পর্যবেক্ষণ করে বোর্ডিং-অ্যালাইটিং জরিপ চালানো হয়। এ জরিপে ১০ হাজারের বেশি যাত্রীর তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি ৩৫ হাজারের বেশি বাসযাত্রীর অরিজিন-ডেস্টিনেশন জরিপ পরিচালনা করা হয়েছে। এতে যাত্রীরা কোথা থেকে যাত্রা শুরু করেন এবং কোথায় গন্তব্য নির্ধারণ করেন, তা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ঢাকা মহানগরীর ৭২টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে টানা ৭২ ঘণ্টা যানবাহন গণনা বা ট্রাফিক কাউন্ট করা হয়েছে। প্রায় ৪০০ কিলোমিটার বাস নেটওয়ার্কের বর্তমান অবস্থা যাচাই করতে ড্রোনের মাধ্যমে ছবি সংগ্রহ, সড়কের অবকাঠামোগত পর্যালোচনা এবং ইঞ্জিনিয়ারিং ড্রয়িং প্রস্তুত করা হয়েছে।
সংগৃহীত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে সফটওয়্যারের মাধ্যমে একটি পাবলিক ট্রান্সপোর্ট মডেল তৈরি করা হয়েছে। এর সাহায্যে যাত্রী চলাচলের প্রবণতা, বিভিন্ন রুটের প্রয়োজনীয়তা এবং সামগ্রিক পরিবহন নেটওয়ার্কের কার্যকারিতা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
ডিটিসিএর পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রস্তাবিত ৩২টি রুটের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৩৭ থেকে ৩৮ লাখ যাত্রীর যাতায়াতের সুযোগ তৈরির হিসাব করা হয়েছে। যা মোট পার্সন ট্রিপের প্রায় ৮ শতাংশ। নতুন রুটগুলোর গড়ে প্রায় ৭০ শতাংশ বিদ্যমান কোনো না কোনো বাস রুটের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ফলে বিদ্যমান বাস চলাচলের পথ ও পরিবহন অবকাঠামো ব্যবহার করেই নতুন ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা সম্ভব বলে মনে করছেন পরিকল্পনাসংশ্লিষ্টরা।
ঢাকার বাস রুট রেশনালাইজেশন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ধ্রুব আলম বলেন, এ পরিকল্পনা কোনো অনুমানের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়নি। ২০২৪ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত সচল ৯৮টি বাস রুটে বিভিন্ন ধরনের জরিপ পরিচালনা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০ হাজারের বেশি যাত্রীর বোর্ডিং-অ্যালাইটিং তথ্য এবং ৩৫ হাজারের বেশি যাত্রীর অরিজিন-ডেস্টিনেশন সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি মহানগরীর ৭২টি স্থানে একটানা ৭২ ঘণ্টা যানবাহন গণনা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রায় ৪০০ কিলোমিটার বাস নেটওয়ার্কের অবকাঠামোগত অবস্থাও পর্যালোচনা করা হয়েছে। সংগৃহীত তথ্য সফটওয়্যারের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করে ৩২টি রুটের প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে। যেসব এলাকায় যাত্রীর চাহিদা বেশি, সেখানে পর্যাপ্ত বাস নিশ্চিত করা এবং অপ্রয়োজনীয় রুটের পুনরাবৃত্তি কমানোই এ পরিকল্পনার উদ্দেশ্য।
নতুন পরিকল্পনায় বিমানবন্দর, মিরপুর-১০, কুড়িল, গাবতলী, মহাখালী, ফার্মগেট, বাড্ডা ও যাত্রাবাড়ীকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রুটের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
প্রাথমিক পর্যায়ে চালুর জন্য নির্ধারিত ছয়টি বাস রুট হলো—
১. গাজীপুরের শিববাড়ী চৌরাস্তা থেকে আজিমপুরের ঢাকেশ্বরী মন্দির পর্যন্ত, আব্দুল্লাহপুর হয়ে।
২. মিরপুর চিড়িয়াখানা থেকে সায়েন্সল্যাব হয়ে চুলকুটিয়া পর্যন্ত।
৩. মোহাম্মদপুরের বসিলার ঘাটারচর থেকে শাহবাগ ও মৎস্য ভবন হয়ে ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার পর্যন্ত।
৪. মোহাম্মদপুরের বসিলা থেকে সায়েন্সল্যাব ও জিগাতলা হয়ে নারায়ণগঞ্জের চিটাগাং রোড-কাঁচপুর ব্রিজ পর্যন্ত।
৫. মোহাম্মদপুরের ঘাটারচর থেকে মিরপুর-১০ হয়ে আব্দুল্লাহপুরের ধউর ব্রিজ পর্যন্ত।
৬. টঙ্গী কলেজ গেট থেকে আব্দুল্লাহপুর হয়ে আজিমপুরের ঢাকেশ্বরী মন্দির পর্যন্ত।
প্রস্তাবিত প্রধান রুটগুলোর মধ্যে রয়েছে গাজীপুরের শিববাড়ী থেকে আজিমপুর, মিরপুর চিড়িয়াখানা থেকে কেরানীগঞ্জ, ঘাটারচর থেকে ডেমরা ও কাঁচপুর এবং ঘাটারচর থেকে মিরপুর হয়ে আব্দুল্লাহপুরের ধউর পর্যন্ত। এসব রুটে ৭০ থেকে ২৫০টি পর্যন্ত নন-এসি বাস পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি টঙ্গী কলেজগেট থেকে আজিমপুর পর্যন্ত ২২ দশমিক ৮৯ কিলোমিটার রুটে ২০টি এসি বাস চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে।
এ ছাড়া ফার্মগেট-পলাশী, মোহাম্মদপুরকেন্দ্রিক এবং উত্তরা এলাকায় তিনটি চক্রাকার বাস সার্ভিস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি চক্রাকার রুটে ২০টি করে বাস পরিচালনার প্রস্তাব করা হয়েছে।
পরিকল্পনায় ঢাকা চাকা, রমজান আলী এন্টারপ্রাইজ, ফোর স্টার বাস লাইন ও পিএনপি সিটি সার্ভিসসহ কয়েকটি পরিবহন প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি বাস রাখার জন্য রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণের প্রস্তাবও রয়েছে।
বাসস/এটিএন নিউজ/মা.ই.স
রোববার (১ নভেম্বর) প্রাথমিকভাবে প্রস্তাবিত ৩২টি রুটের মধ্যে ছয়টি রুটের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাকি রুটগুলোও নতুন ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় একই সড়কে বিভিন্ন কোম্পানির বাসের মধ্যে যাত্রী তোলার প্রতিযোগিতা, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা, অতিরিক্ত বাস চলাচল এবং নির্ধারিত স্টপেজ না মানার মতো সমস্যা বিদ্যমান। একই সড়কে একাধিক কোম্পানির বাস চলাচলের কারণে বিশৃঙ্খলার পাশাপাশি যানজটও বাড়ছে।
অন্যদিকে রাজধানীর অনেক এলাকায় প্রয়োজনের তুলনায় বাসের সংখ্যা কম। এ অবস্থার পরিবর্তনে যাত্রীদের চাহিদা, সড়কের ধারণক্ষমতা এবং যানবাহন চলাচলের বাস্তব চিত্র বিবেচনায় নিয়ে রুট পুনর্বিন্যাসের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) বাস রুট রেশনালাইজেশন প্রকল্পের আওতায় এ পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি নির্ধারিত রুটে একটি কোম্পানির মাধ্যমে বাস পরিচালনার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। এতে পরিবহন কোম্পানিগুলোর মধ্যে যাত্রী সংগ্রহের প্রতিযোগিতা কমবে, বাস চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং যাত্রীসেবার মান বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মসিউর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, রাজধানীর গণপরিবহনে দীর্ঘদিনের বিশৃঙ্খলা দূর করার লক্ষ্যেই বাস রুট রেশনালাইজেশন কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ঢাকায় ৯৮টি সচল বাস রুট রয়েছে। এসব রুট পুনর্বিন্যাস করে ৩২টি সমন্বিত রুটে রূপান্তরের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যাত্রীদের প্রকৃত চাহিদা, সড়কের ধারণক্ষমতা এবং যানবাহন চলাচলের তথ্য বিশ্লেষণ করে এ পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থাকে একটি পরিকল্পিত, নিরাপদ ও যাত্রীবান্ধব কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
বাস রুট রেশনালাইজেশন মূলত যাত্রীদের চাহিদা, সড়কের ধারণক্ষমতা ও যানজটের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বাস চলাচলের রুটগুলো পরিকল্পিতভাবে পুনর্বিন্যাস ও সমন্বয় করার প্রক্রিয়া। এর আওতায় শুধু বাসের সংখ্যা কমানো কিংবা রুট পরিবর্তনই নয়, বরং বাসের সংখ্যা, চলাচলের পথ, স্টপেজ, সময়সূচি এবং পরিচালনাপদ্ধতিকেও একটি সমন্বিত ব্যবস্থার মধ্যে আনা হয়।
ডিটিসিএ সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর বাস রুট পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ প্রথম নেওয়া হয়েছিল ২০১১ সালে। সে সময় ঢাকা পরিবহন সমন্বয় বোর্ডের (ডিটিসিবি) মাধ্যমে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলেও তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তী সময়ে ২০১৯ সাল থেকে ডিটিসিএ আগের বিভিন্ন সমীক্ষা পর্যালোচনা করে নতুন পরিকল্পনা তৈরির কাজ শুরু করে। প্রাথমিক পর্যায়ে ৪২টি রুটের প্রস্তাব করা হয়েছিল।
পরবর্তীতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, বাস মালিক এবং শ্রমিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনা ও পর্যালোচনার পর ৩২টি রুটের বিষয়ে ঐকমত্য তৈরি হয়।
পরিকল্পনা প্রণয়নে বিভিন্ন পর্যায়ে বিপুল পরিমাণ তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। ২০২৪ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত সচল থাকা ৯৮টি বাস রুটের প্রতিটিতে ১৮টি ট্রিপের যাত্রীদের ওঠানামা পর্যবেক্ষণ করে বোর্ডিং-অ্যালাইটিং জরিপ চালানো হয়। এ জরিপে ১০ হাজারের বেশি যাত্রীর তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি ৩৫ হাজারের বেশি বাসযাত্রীর অরিজিন-ডেস্টিনেশন জরিপ পরিচালনা করা হয়েছে। এতে যাত্রীরা কোথা থেকে যাত্রা শুরু করেন এবং কোথায় গন্তব্য নির্ধারণ করেন, তা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ঢাকা মহানগরীর ৭২টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে টানা ৭২ ঘণ্টা যানবাহন গণনা বা ট্রাফিক কাউন্ট করা হয়েছে। প্রায় ৪০০ কিলোমিটার বাস নেটওয়ার্কের বর্তমান অবস্থা যাচাই করতে ড্রোনের মাধ্যমে ছবি সংগ্রহ, সড়কের অবকাঠামোগত পর্যালোচনা এবং ইঞ্জিনিয়ারিং ড্রয়িং প্রস্তুত করা হয়েছে।
সংগৃহীত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে সফটওয়্যারের মাধ্যমে একটি পাবলিক ট্রান্সপোর্ট মডেল তৈরি করা হয়েছে। এর সাহায্যে যাত্রী চলাচলের প্রবণতা, বিভিন্ন রুটের প্রয়োজনীয়তা এবং সামগ্রিক পরিবহন নেটওয়ার্কের কার্যকারিতা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
ডিটিসিএর পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রস্তাবিত ৩২টি রুটের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৩৭ থেকে ৩৮ লাখ যাত্রীর যাতায়াতের সুযোগ তৈরির হিসাব করা হয়েছে। যা মোট পার্সন ট্রিপের প্রায় ৮ শতাংশ। নতুন রুটগুলোর গড়ে প্রায় ৭০ শতাংশ বিদ্যমান কোনো না কোনো বাস রুটের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ফলে বিদ্যমান বাস চলাচলের পথ ও পরিবহন অবকাঠামো ব্যবহার করেই নতুন ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা সম্ভব বলে মনে করছেন পরিকল্পনাসংশ্লিষ্টরা।
ঢাকার বাস রুট রেশনালাইজেশন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ধ্রুব আলম বলেন, এ পরিকল্পনা কোনো অনুমানের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়নি। ২০২৪ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত সচল ৯৮টি বাস রুটে বিভিন্ন ধরনের জরিপ পরিচালনা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০ হাজারের বেশি যাত্রীর বোর্ডিং-অ্যালাইটিং তথ্য এবং ৩৫ হাজারের বেশি যাত্রীর অরিজিন-ডেস্টিনেশন সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি মহানগরীর ৭২টি স্থানে একটানা ৭২ ঘণ্টা যানবাহন গণনা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রায় ৪০০ কিলোমিটার বাস নেটওয়ার্কের অবকাঠামোগত অবস্থাও পর্যালোচনা করা হয়েছে। সংগৃহীত তথ্য সফটওয়্যারের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করে ৩২টি রুটের প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে। যেসব এলাকায় যাত্রীর চাহিদা বেশি, সেখানে পর্যাপ্ত বাস নিশ্চিত করা এবং অপ্রয়োজনীয় রুটের পুনরাবৃত্তি কমানোই এ পরিকল্পনার উদ্দেশ্য।
নতুন পরিকল্পনায় বিমানবন্দর, মিরপুর-১০, কুড়িল, গাবতলী, মহাখালী, ফার্মগেট, বাড্ডা ও যাত্রাবাড়ীকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রুটের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
প্রাথমিক পর্যায়ে চালুর জন্য নির্ধারিত ছয়টি বাস রুট হলো—
১. গাজীপুরের শিববাড়ী চৌরাস্তা থেকে আজিমপুরের ঢাকেশ্বরী মন্দির পর্যন্ত, আব্দুল্লাহপুর হয়ে।
২. মিরপুর চিড়িয়াখানা থেকে সায়েন্সল্যাব হয়ে চুলকুটিয়া পর্যন্ত।
৩. মোহাম্মদপুরের বসিলার ঘাটারচর থেকে শাহবাগ ও মৎস্য ভবন হয়ে ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার পর্যন্ত।
৪. মোহাম্মদপুরের বসিলা থেকে সায়েন্সল্যাব ও জিগাতলা হয়ে নারায়ণগঞ্জের চিটাগাং রোড-কাঁচপুর ব্রিজ পর্যন্ত।
৫. মোহাম্মদপুরের ঘাটারচর থেকে মিরপুর-১০ হয়ে আব্দুল্লাহপুরের ধউর ব্রিজ পর্যন্ত।
৬. টঙ্গী কলেজ গেট থেকে আব্দুল্লাহপুর হয়ে আজিমপুরের ঢাকেশ্বরী মন্দির পর্যন্ত।
প্রস্তাবিত প্রধান রুটগুলোর মধ্যে রয়েছে গাজীপুরের শিববাড়ী থেকে আজিমপুর, মিরপুর চিড়িয়াখানা থেকে কেরানীগঞ্জ, ঘাটারচর থেকে ডেমরা ও কাঁচপুর এবং ঘাটারচর থেকে মিরপুর হয়ে আব্দুল্লাহপুরের ধউর পর্যন্ত। এসব রুটে ৭০ থেকে ২৫০টি পর্যন্ত নন-এসি বাস পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি টঙ্গী কলেজগেট থেকে আজিমপুর পর্যন্ত ২২ দশমিক ৮৯ কিলোমিটার রুটে ২০টি এসি বাস চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে।
এ ছাড়া ফার্মগেট-পলাশী, মোহাম্মদপুরকেন্দ্রিক এবং উত্তরা এলাকায় তিনটি চক্রাকার বাস সার্ভিস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি চক্রাকার রুটে ২০টি করে বাস পরিচালনার প্রস্তাব করা হয়েছে।
পরিকল্পনায় ঢাকা চাকা, রমজান আলী এন্টারপ্রাইজ, ফোর স্টার বাস লাইন ও পিএনপি সিটি সার্ভিসসহ কয়েকটি পরিবহন প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি বাস রাখার জন্য রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণের প্রস্তাবও রয়েছে।
বাসস/এটিএন নিউজ/মা.ই.স
