ATN News
শিরোনাম
  •  

সবজির দাম কমলেও বাজারে ক্রেতা নেই, চাপে নিম্ন আয়ের মানুষ

         
সবজির দাম কমলেও বাজারে ক্রেতা নেই, চাপে নিম্ন আয়ের মানুষ

সবজির দাম কমলেও বাজারে ক্রেতা নেই, চাপে নিম্ন আয়ের মানুষ

মাসের শেষ সময়ে মানিকগঞ্জের কাঁচাবাজারে অধিকাংশ সবজি ও ডিমের দাম কিছুটা কমলেও স্বস্তি ফিরছে না নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষের জীবনে। মাছের কিছু পদের দাম কমলেও গরু, খাসি ও ব্রয়লার মুরগির মাংসের দাম রয়েছে আগের মতোই। অন্যদিকে ক্রেতার উপস্থিতি কমে যাওয়ায় বাজারে বেচাকেনায় মন্দা দেখা দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকার কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়। বাজারে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি, মাছ, মাংস ও ডিমের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও ক্রেতাদের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম। বিক্রেতাদের অনেককেই ক্রেতার অপেক্ষায় অলস সময় কাটাতে দেখা গেছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, মাসের শেষ দিকে অধিকাংশ মানুষের হাতে টাকা কম থাকায় বাজারে কেনাকাটা কমে যায়। বিশেষ করে মাসের ২০ তারিখের পর থেকে বেচাকেনা কমতে থাকে। তবে মাসের শুরুতে বেতন পাওয়ার পর বাজারে ক্রেতার উপস্থিতি ও বিক্রি আবার বাড়ে।

বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি ফুলকপি ও বাঁধাকপি ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা, করলা ৬০ টাকা, কাঁচামরিচ ১০০ টাকা, আলু ২৫ টাকা, গাজর ১৪০ টাকা, টমেটো ১২০ টাকা, শসা ১০০ টাকা, পটল ৬০ টাকা এবং বেগুন ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া প্রতি পিস লাউ ৫০ টাকা, চারটি মূলা ৩০ টাকা, প্রতি কেজি ধনেপাতা ১৬০ টাকা, পালংশাকের আঁটি ২০ টাকা, লালশাকের আঁটি ১০ টাকা, প্রতি কেজি লেবু ১০০ টাকা এবং চারটি কাঁচকলা ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

গত সাত দিনের ব্যবধানে বেশ কয়েকটি সবজির দাম কমেছে। প্রতি কেজি ফুলকপিতে ৪০ টাকা, বাঁধাকপি ও ধনেপাতায় ২০ ও ৪০ টাকা, করলা ও পটলে ২০ টাকা, টমেটোতে ৬০ টাকা এবং বেগুনে ৩০ টাকা কমেছে। এ ছাড়া লাউয়ের দাম পিসপ্রতি ১০ টাকা এবং চারটি মূলার দাম ১০ টাকা কমেছে। তবে শসার দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়েছে। আলু, ঢেঁড়স, কাঁচামরিচ, গাজর ও লালশাকের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

মাংসের বাজারে গরুর মাংস প্রতি কেজি ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সাত দিনে এ দুই ধরনের মাংসের দাম অপরিবর্তিত থাকলেও পূজার আগে খাসির মাংসের দাম ছিল ১ হাজার ২০০ টাকা। পূজা শুরু হওয়ার পর থেকে কেজিতে ১০০ টাকা বেড়ে ১ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

পাভেল পবন গোস্ত ভাণ্ডারের এক বিক্রেতা বলেন, পূজার আগে খাসির মাংস ১ হাজার ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। পূজা শুরু হওয়ার পর থেকে দাম বেড়ে ১ হাজার ৩০০ টাকা হয়েছে। শীতকালে দাম আর কমার সম্ভাবনা কম। গরমকালে আবার কমতে পারে।

তিনি আরও বলেন, মাসের শেষ দিকে বেচাকেনা একেবারেই কমে যায়। প্রতি মাসের ২০ তারিখের পর থেকে ক্রেতা কমতে শুরু করেন। মাসের শুরুতে আবার বিক্রি স্বাভাবিক হয়।

মুরগির বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮০ টাকা, দেশি মুরগি ৬৬০ টাকা এবং লেয়ার মুরগি ৩৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সাত দিনে ব্রয়লার ও দেশি মুরগির দাম অপরিবর্তিত থাকলেও লেয়ার মুরগির দাম কেজিতে ৩০ টাকা কমেছে। সাত দিন আগে লেয়ার মুরগি বিক্রি হয়েছে ৩৬০ টাকা কেজি দরে।

মাছের বাজারে রুই ও পাঙাশের দাম কিছুটা কমেছে। বর্তমানে প্রতি কেজি রুই মাছ ৩৬০ টাকা, যা সাত দিন আগে ছিল ৪০০ টাকা। পাঙাশ বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা কেজি দরে, আগে ছিল ২০০ টাকা।

মাছ বিক্রেতাদের মতে, পাঙাশের দাম সাধারণত ১৮০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করে। শীতকালে তা বেড়ে ২১০ থেকে ২২০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

মাছ বিক্রেতা দুলাল রাজবংশী বলেন, মাসের শেষ সময়ে মাছের ক্রেতা কমে যায়। ফলে বেচাকেনাও কম হয়। মাছের দাম খুব বেশি পরিবর্তন হয় না। সাধারণত ৫০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে কমবেশি হয়। এ ছাড়া মাছের আকার ও আকারভেদেও দাম নির্ধারণ করা হয়।

বাজারে অন্যান্য মাছের মধ্যে চিংড়ি ও বাইম প্রতি কেজি ১ হাজার টাকা, কাকিলা ৬০০ টাকা, কাচকি ৪০০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ টাকা, কারফিউ ২৬০ টাকা, বাটা ২০০ টাকা, বোয়াল ৮৫০ টাকা এবং বেলে মাছ ১ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্রিগেড মাছ আকারভেদে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে পাঁচ কেজির বেশি ওজনের মাছের দাম কেজিপ্রতি ৩০০ টাকা। এসব মাছের দাম গত সাত দিনে অপরিবর্তিত রয়েছে।

এদিকে ডিমের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। গত সাত দিনে প্রতি হালি সাদা ডিমের দাম ৪৮ টাকা থেকে কমে ৪২ টাকা এবং লাল ডিমের দাম ৫০ টাকা থেকে কমে ৪৪ টাকা হয়েছে। তবে সোনালি মুরগির ডিম প্রতি হালি ৬০ টাকা এবং কোয়েল পাখির ডিম ৩০টি ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এসব ডিমের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

বাজার করতে আসা এক ক্রেতা বলেন, আগের তুলনায় সবজির দাম কিছুটা কমেছে, ডিমের দামও কমেছে। কিন্তু সব পণ্যের দাম কমেনি। মাছ ও মাংস কিনতে এখনো অনেক টাকা খরচ করতে হয়। মাসের শেষ দিকে সংসারের খরচ চালাতে হিসাব করে বাজার করতে হচ্ছে। আয়-ব্যয়ের সঙ্গে মিল রেখে প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে হচ্ছে।

এক বেসরকারি চাকরিজীবী বলেন, মাসের শেষ দিকে হাতে টাকা না থাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বাজারে অধিকাংশ পণ্যের দাম এখনো সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। সীমিত আয়ের কারণে প্রয়োজনীয় অনেক পণ্যই আগের তুলনায় কম পরিমাণে কিনতে হচ্ছে।

সব মিলিয়ে বাজারে কিছু পণ্যের দাম কমলেও সীমিত আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়েনি। ফলে দাম কমার পরও সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে স্বস্তি নেই। আর ক্রেতার অভাবে বিক্রেতাদের বেচাকেনাও চলছে ধীরগতিতে।

রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/সা.সি
পাঠকের মন্তব্য

সংশ্লিষ্ট অর্থনীতি সংবাদ


অন্যান্য সংবাদ