ATN News
শিরোনাম
  •  

টুপটুপ রিসোর্টে আগুনে মৃত্যু, মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় একই পরিবারের চারজন

         
টুপটুপ রিসোর্টে আগুনে মৃত্যু, মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় একই পরিবারের চারজন

টুপটুপ রিসোর্টে আগুনে মৃত্যু, মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় একই পরিবারের চারজন

মায়ের কবরের পাশে পাশাপাশি চারটি কবর। সেখানেই চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন নাহিদুর রহমান, তার স্ত্রী আফসানা মতিন তানজী এবং তাদের দুই শিশুসন্তান। কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত একই পরিবারের চার সদস্যের দাফন ঘিরে বুধবার (২৮ অক্টোবর) যশোরের মনিরামপুর পৌরসভার মোহনপুর গ্রামে শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে ওঠে আশপাশের পরিবেশ।

নিহত চারজনের মরদেহ বুধবার সকাল ৭টার দিকে গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। পরে বিকেল ৩টার দিকে বাঁধাঘাট মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে একই সাথে চারজনের জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তাদের নাহিদুর রহমানের মায়ের কবরের পাশে দাফন করা হয়।

নিহতরা হলেন- নাহিদুর রহমান (৪১), তার স্ত্রী আফসানা মতিন তানজী (৩৬), মেয়ে রোজাইনা ইনায়া (৭) ও মুনাইনা ইহানা (৩)।

বুধবার সকাল ৭টার দিকে তাঁদের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। বিকেল ৩টার দিকে বাঁধাঘাট মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে চারজনের জানাজা একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়। পরে নাহিদুর রহমানের মায়ের কবরের পাশে পাশাপাশি তাঁদের দাফন করা হয়।

নিহত নাহিদুর রহমানের বড় ভাই জাহিদুর রহমান প্রিন্স জানান, গত ১৭ অক্টোবর সকাল ৭টার দিকে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে তাঁর ছোট ভাই, ভাইয়ের স্ত্রী ও দুই শিশুসন্তান নিখোঁজ ছিলেন। ওই দিনই রিসোর্টের একটি ওয়াশরুম থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পরদিন ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহগুলো তাঁদের স্বজনদের বলে ধারণা করেছিলেন তাঁরা। তবে আগুনে মরদেহ পুড়ে যাওয়ায় পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। পরে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাঁদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

নাহিদুর রহমানের চাচাতো ভাই খালিদ হোসেন জানান, দীর্ঘ ১০ দিন পর মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গ থেকে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় জেলা প্রশাসক আবদুল মান্নান, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) বিশেষ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ, পুলিশ সুপার সাজেদুর রহমানসহ প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাফনের জন্য নিহতদের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

নিহত নাহিদুর রহমানের বাবা মতিয়ার রহমানের বয়স আশির বেশি। তিনি জানান, তার স্ত্রী ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। ২০১৬ সালে নাহিদের কোলে মাথা রেখে মারা যান তিনি। এবার সেই মায়ের কবরের পাশেই পাশাপাশি দাফন করা হলো নাহিদ, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে।

চারটি কবর আগে থেকেই খোঁড়া হয়েছিল। তবে স্বজনদের কাছে সেই প্রস্তুতি ছিল এক হৃদয়বিদারক অপেক্ষা। চারজনের মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনেরা। শোকাহত পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে ভাষা হারিয়ে ফেলেন প্রতিবেশীরাও।

একসঙ্গে একটি পরিবারের চার সদস্যের এমন মৃত্যুতে মোহনপুর গ্রামজুড়ে বিরাজ করছে গভীর শোকের আবহ। মায়ের কবরের পাশে পাশাপাশি চারটি কবর যেন এক পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতির নীরব সাক্ষী হয়ে রইল।

রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/সা.সি
পাঠকের মন্তব্য

সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ সংবাদ


অন্যান্য সংবাদ