ATN News
শিরোনাম
  •  

কমলার চেয়েও বেশি ভিটামিন সি মেলে যেসব ৫ খাবারে

         
কমলার চেয়েও বেশি ভিটামিন সি মেলে যেসব ৫ খাবারে

কমলার চেয়েও বেশি ভিটামিন সি মেলে যেসব ৫ খাবারে

সুষম খাদ্যতালিকা বজায় রাখার অভ্যাস সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। ভিটামিন সি-যুক্ত খাবার এই সুষম খাদ্যতালিকার অংশ। যদিও কমলা ভিটামিন সি-এর একটি জনপ্রিয় উৎস, বেশ কিছু দৈনন্দিন খাবারে এই অপরিহার্য পুষ্টি উপাদানটি আরও বেশি পরিমাণে থাকে।

ভিটামিন সি শরীরকে কোলাজেন উৎপাদনে সাহায্য করে, ক্ষত নিরাময়ে সহায়তা করে, উদ্ভিদ-ভিত্তিক খাবার থেকে আয়রন শোষণ উন্নত করে এবং স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতে অবদান রাখে। যেহেতু শরীর বেশি পরিমাণে ভিটামিন সি তৈরি বা সঞ্চয় করতে পারে না, তাই দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় ফল এবং শাক-সবজি অন্তর্ভুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ। এখানে এমন পাঁচটি দৈনন্দিন খাবারের কথা বলা হলো যা একটি কমলার চেয়ে বেশি ভিটামিন সি সরবরাহ করতে পারে-

১. পেয়ারা

ভিটামিন সি-এর অন্যতম সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক উৎস পেয়ারা। সমপরিমাণ কমলার তুলনায় পেয়ারায় সাধারণত অনেক বেশি ভিটামিন সি থাকে। পাশাপাশি এতে রয়েছে খাদ্য আঁশ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা হজমের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া এবং শরীরের কোষের সুরক্ষায় সহায়তা করে।

যেভাবে খাবেন: সকালের নাশতা বা বিকেলের হালকা খাবার হিসেবে তাজা পেয়ারা খেতে পারেন। ফলের সালাদেও পেয়ারা যোগ করা যায়। স্বাদ বাড়াতে সামান্য ভাজা জিরার গুঁড়া ব্যবহার করতে পারেন। তবে অতিরিক্ত লবণ এড়িয়ে চলুন।

২. আমলকী

ছোট আকারের এই দেশীয় ফলটি ভিটামিন সি-এর অত্যন্ত ভালো উৎস। আমলকীতে ভিটামিন সি-এর পাশাপাশি বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ উপাদান রয়েছে, যা এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যে অবদান রাখে।

নিয়মিত সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে আমলকী খেলে শরীরের ভিটামিন সি-এর চাহিদা পূরণে সহায়তা পাওয়া যায়। তবে এটি খাওয়া মানেই সর্দি-কাশি বা মৌসুমি সংক্রমণ থেকে নিশ্চিত সুরক্ষা পাওয়া নয়।

যেভাবে খাবেন: তাজা আমলকী সরাসরি খেতে পারেন। এ ছাড়া সালাদ, চাটনি কিংবা অন্যান্য খাবারের সঙ্গে কুচি বা কুরানো আমলকী মিশিয়ে খাওয়া যায়।

৩. লাল ও হলুদ ক্যাপসিকাম

ভিটামিন সি শুধু ফলেই নয়, বিভিন্ন সবজিতেও প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। বিশেষ করে লাল ও হলুদ ক্যাপসিকাম এই ভিটামিনের ভালো উৎস। অনেক ক্ষেত্রে সমপরিমাণ কমলার তুলনায় এসব ক্যাপসিকামে বেশি ভিটামিন সি থাকে।

এ ছাড়া ক্যাপসিকামে ক্যারোটিনয়েডের মতো উদ্ভিজ্জ উপাদান রয়েছে, যা বৈচিত্র্যময় খাদ্যতালিকার পুষ্টিমান বাড়াতে সাহায্য করে।

যেভাবে খাবেন: সালাদ, স্যান্ডউইচ, সবজির স্টির-ফ্রাই কিংবা বিভিন্ন রান্নায় ক্যাপসিকাম যোগ করতে পারেন। ভিটামিন সি-এর ক্ষয় কমাতে কাঁচা অথবা অল্প সময় রান্না করে খাওয়া ভালো। কারণ দীর্ঘ সময় তাপে রান্না করলে এই ভিটামিনের পরিমাণ কমে যেতে পারে।

৪. কাঁচা মরিচ

অল্প পরিমাণ কাঁচা মরিচ থেকেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ভিটামিন সি পাওয়া সম্ভব। তবে মরিচের জাত, আকার ও সতেজতার ওপর এর পুষ্টিমান নির্ভর করে।

কাঁচা মরিচে ক্যাপসাইসিন নামের একটি যৌগও রয়েছে, যা এর ঝাল স্বাদের জন্য দায়ী। তবে বেশি মরিচ খেলেই যে বেশি উপকার পাওয়া যাবে, এমন নয়। অতিরিক্ত ঝাল কারও কারও ক্ষেত্রে অ্যাসিডিটি বা পেটের অস্বস্তি বাড়াতে পারে।

যেভাবে খাবেন: ডাল, ভর্তা, চাটনি কিংবা সবজির তরকারিতে পরিমিত পরিমাণ কাঁচা মরিচ যোগ করতে পারেন। ঝাল সহ্য করতে সমস্যা হলে কম ঝালযুক্ত মরিচ বেছে নেওয়াই ভালো।

৫. পেঁপে

সহজলভ্য ও তুলনামূলক সাশ্রয়ী ফল পেঁপে ভিটামিন সি, খাদ্য আঁশ এবং ক্যারোটিনয়েডের ভালো উৎস। পেঁপের জাত ও পরিপক্বতার ওপর নির্ভর করে এর ভিটামিন সি-এর পরিমাণ পরিবর্তিত হয়। কিছু ক্ষেত্রে সমপরিমাণ কমলার চেয়েও বেশি ভিটামিন সি পাওয়া যায় পেঁপে থেকে।

পেঁপের খাদ্য আঁশ হজমের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে। পাশাপাশি পাকা পেঁপে সকালের নাশতা কিংবা দিনের যেকোনো সময়ের হালকা খাবার হিসেবে সহজেই খাওয়া যায়।

যেভাবে খাবেন: তাজা পাকা পেঁপে কেটে খেতে পারেন। চাইলে পেয়ারা ও অন্যান্য ফলের সঙ্গে মিশিয়ে ফলের সালাদ তৈরি করতে পারেন। ফলের রসের বদলে গোটা ফল খেলে খাদ্য আঁশও পাওয়া যায়। প্রতিদিন কতটা ভিটামিন সি প্রয়োজন?

ভিটামিন সি-এর দৈনিক চাহিদা বয়স, লিঙ্গ ও শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে। সাধারণভাবে প্রাপ্তবয়স্কদের দৈনিক প্রয়োজন প্রায় ৭৫ থেকে ৯০ মিলিগ্রাম। গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদানের সময় এই চাহিদা বেড়ে যেতে পারে। তাই সবার জন্য একই পরিমাণ প্রযোজ্য নয়।

ভিটামিন সি তাপ, বাতাস ও দীর্ঘ সময় সংরক্ষণের কারণে নষ্ট হতে পারে। এ কারণে তাজা ফল ও সবজি খাওয়া, অতিরিক্ত রান্না এড়িয়ে চলা এবং প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় বিভিন্ন ধরনের ফল ও সবজি রাখা উপকারী।

রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/সা.সি
পাঠকের মন্তব্য

সংশ্লিষ্ট লাইফস্টাইল সংবাদ


অন্যান্য সংবাদ