অবরোধ পেরিয়ে খাগড়াছড়ি ফিরলেন সাজেকে আটকে পড়া পর্যটকেরা
সাজেকে চলমান আন্দোলন ও সড়ক অবরোধের কারণে আটকে পড়া পর্যটকেরা সেনাবাহিনীর সহায়তায় নিরাপদে খাগড়াছড়ি শহরে পৌঁছেছেন।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে পর্যটকবাহী গাড়ির বহরটি শহরে পৌঁছায়। পথে কয়েকটি স্থানে অবরোধের মুখে পড়লেও পর্যটকদের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে সাজেক থেকে খাগড়াছড়ির উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন পর্যটকেরা। ফেরার পথে বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধের কারণে তাঁদের অপেক্ষা করতে হয়। এ সময় অবরোধকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে।
ঢাকা থেকে সাজেকে বেড়াতে যাওয়া পর্যটক আবুল কাশেম বলেন, দুই রাত তিন দিনের ভ্রমণে বুধবার তাঁরা সাজেকে গিয়েছিলেন। সেখানে পৌঁছানোর পর সন্ধ্যায় আন্দোলনের খবর জানতে পারেন। বৃহস্পতিবার সকালে তাঁদের সাজেক থেকে ফিরিয়ে আনা হয়।
তিনি বলেন, তিন দিনের জন্য গাড়ি ভাড়া করে অগ্রিম টাকা দেওয়া হয়েছিল। এখন নির্ধারিত সময়ের আগেই ফিরে আসায় গাড়িভাড়ার বিষয়টি কীভাবে সমাধান হবে, তা নিয়ে চিন্তায় আছেন। এ ছাড়া ঢাকায় ফেরার বাসের টিকিটও দুই দিন পরের। এ বিষয়ে বাস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
অয়ন নামে আরেক পর্যটক জানান, সেনাবাহিনীর এসকর্টের মাধ্যমে পর্যটকবাহী গাড়িগুলো খাগড়াছড়িতে নিয়ে আসা হয়। পথে দুটি স্থানে প্রায় আধাঘণ্টা করে অপেক্ষা করতে হয়েছে। আন্দোলনকারীদের সড়ক অবরোধের কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
তিনি বলেন, ফেরার পথে কয়েকটি স্থানে অবরোধকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। সড়কের ওপর ভাঙা ইট ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। তবে সেনাবাহিনীর নিরাপত্তায় তাঁরা নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছেছেন।
হবিগঞ্জ থেকে বেড়াতে যাওয়া পর্যটক অপু বলেন, আনন্দ করতে সাজেকে গেলেও আন্দোলনের কারণে দুশ্চিন্তায় পড়তে হয়। বুধবার সেখানে পৌঁছানোর পর পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ঠিকমতো ঘোরাঘুরি করতে পারেননি। নিরাপদে ফিরতে পারবেন কি না, তা নিয়ে উদ্বেগে ছিলেন তাঁরা। শেষ পর্যন্ত সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় খাগড়াছড়িতে পৌঁছাতে পেরেছেন।
অপু আরও বলেন, ফেরার পথে দুটি স্থানে তাঁদের গাড়িবহর আটকে পড়ে। বহরের সামনে সেনাবাহিনীর কয়েকটি গাড়ি ছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আন্দোলনকারীরা সেনাবাহিনী ও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পরে নিরাপত্তা বাহিনী অবরোধকারীদের সড়কের দুই পাশে সরিয়ে দিয়ে পর্যটকবাহী গাড়িগুলোকে ওই এলাকা পার করে দেয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে সাজেকে ২ হাজার ৬০০ জনের বেশি পর্যটক অবস্থান করছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে তাদের মধ্যে আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে সেনাবাহিনী সহযোগিতা করে।
সাজেকে সড়ক অবরোধের কর্মসূচি পালন করছে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন নামে দুটি সংগঠন। সংগঠন দুটি পাহাড়ের আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ-প্রসিত গ্রুপ) সমর্থিত বলে প্রচার রয়েছে।
তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে, সাজেক থেকে আরেক সশস্ত্র সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস-সন্তু গ্রুপ) সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে দেওয়া। গত কিছুদিন ধরে সাজেকে পিসিজেএসএস এর সশস্ত্র গ্রুপ সাজেকের কয়েকটি এলাকায় অবস্থান করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি, সাধারণ মানুষকে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন বলে অবরোধকারী সংগঠনগুলো অভিযোগ তুলেছে। তাদের ওই এলাকাগুলো থেকে সরিয়ে দিতে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সার্বিক নিরাপত্তা ও জানমাল রক্ষার দাবিতে অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে সংগঠন দুটি।
তবে এ বিষয়ে আঞ্চলিক ওই সংগঠন দুটির পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি।
এদিকে সড়ক অবরোধ ও আন্দোলনের কারণে সাজেকে বেড়াতে যাওয়া পর্যটকদের ভ্রমণ ব্যাহত হয়েছে। অনেকে নির্ধারিত সময়ের আগেই ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছেন। এতে পরিবহন ভাড়া ও ফেরার বাসের টিকিট নিয়েও অনিশ্চয়তায় পড়েছেন পর্যটকেরা।
রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/সা.সি
আজ বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে পর্যটকবাহী গাড়ির বহরটি শহরে পৌঁছায়। পথে কয়েকটি স্থানে অবরোধের মুখে পড়লেও পর্যটকদের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে সাজেক থেকে খাগড়াছড়ির উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন পর্যটকেরা। ফেরার পথে বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধের কারণে তাঁদের অপেক্ষা করতে হয়। এ সময় অবরোধকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে।
ঢাকা থেকে সাজেকে বেড়াতে যাওয়া পর্যটক আবুল কাশেম বলেন, দুই রাত তিন দিনের ভ্রমণে বুধবার তাঁরা সাজেকে গিয়েছিলেন। সেখানে পৌঁছানোর পর সন্ধ্যায় আন্দোলনের খবর জানতে পারেন। বৃহস্পতিবার সকালে তাঁদের সাজেক থেকে ফিরিয়ে আনা হয়।
তিনি বলেন, তিন দিনের জন্য গাড়ি ভাড়া করে অগ্রিম টাকা দেওয়া হয়েছিল। এখন নির্ধারিত সময়ের আগেই ফিরে আসায় গাড়িভাড়ার বিষয়টি কীভাবে সমাধান হবে, তা নিয়ে চিন্তায় আছেন। এ ছাড়া ঢাকায় ফেরার বাসের টিকিটও দুই দিন পরের। এ বিষয়ে বাস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
অয়ন নামে আরেক পর্যটক জানান, সেনাবাহিনীর এসকর্টের মাধ্যমে পর্যটকবাহী গাড়িগুলো খাগড়াছড়িতে নিয়ে আসা হয়। পথে দুটি স্থানে প্রায় আধাঘণ্টা করে অপেক্ষা করতে হয়েছে। আন্দোলনকারীদের সড়ক অবরোধের কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
তিনি বলেন, ফেরার পথে কয়েকটি স্থানে অবরোধকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। সড়কের ওপর ভাঙা ইট ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। তবে সেনাবাহিনীর নিরাপত্তায় তাঁরা নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছেছেন।
হবিগঞ্জ থেকে বেড়াতে যাওয়া পর্যটক অপু বলেন, আনন্দ করতে সাজেকে গেলেও আন্দোলনের কারণে দুশ্চিন্তায় পড়তে হয়। বুধবার সেখানে পৌঁছানোর পর পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ঠিকমতো ঘোরাঘুরি করতে পারেননি। নিরাপদে ফিরতে পারবেন কি না, তা নিয়ে উদ্বেগে ছিলেন তাঁরা। শেষ পর্যন্ত সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় খাগড়াছড়িতে পৌঁছাতে পেরেছেন।
অপু আরও বলেন, ফেরার পথে দুটি স্থানে তাঁদের গাড়িবহর আটকে পড়ে। বহরের সামনে সেনাবাহিনীর কয়েকটি গাড়ি ছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আন্দোলনকারীরা সেনাবাহিনী ও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পরে নিরাপত্তা বাহিনী অবরোধকারীদের সড়কের দুই পাশে সরিয়ে দিয়ে পর্যটকবাহী গাড়িগুলোকে ওই এলাকা পার করে দেয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে সাজেকে ২ হাজার ৬০০ জনের বেশি পর্যটক অবস্থান করছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে তাদের মধ্যে আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে সেনাবাহিনী সহযোগিতা করে।
সাজেকে সড়ক অবরোধের কর্মসূচি পালন করছে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন নামে দুটি সংগঠন। সংগঠন দুটি পাহাড়ের আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ-প্রসিত গ্রুপ) সমর্থিত বলে প্রচার রয়েছে।
তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে, সাজেক থেকে আরেক সশস্ত্র সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস-সন্তু গ্রুপ) সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে দেওয়া। গত কিছুদিন ধরে সাজেকে পিসিজেএসএস এর সশস্ত্র গ্রুপ সাজেকের কয়েকটি এলাকায় অবস্থান করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি, সাধারণ মানুষকে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন বলে অবরোধকারী সংগঠনগুলো অভিযোগ তুলেছে। তাদের ওই এলাকাগুলো থেকে সরিয়ে দিতে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সার্বিক নিরাপত্তা ও জানমাল রক্ষার দাবিতে অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে সংগঠন দুটি।
তবে এ বিষয়ে আঞ্চলিক ওই সংগঠন দুটির পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি।
এদিকে সড়ক অবরোধ ও আন্দোলনের কারণে সাজেকে বেড়াতে যাওয়া পর্যটকদের ভ্রমণ ব্যাহত হয়েছে। অনেকে নির্ধারিত সময়ের আগেই ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছেন। এতে পরিবহন ভাড়া ও ফেরার বাসের টিকিট নিয়েও অনিশ্চয়তায় পড়েছেন পর্যটকেরা।
রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/সা.সি
