ATN News
শিরোনাম
  •  

টাকা ছিটালেই মুড়ি-মুড়কির মতো লবিস্ট পাওয়া যায়!

         
টাকা ছিটালেই মুড়ি-মুড়কির মতো লবিস্ট পাওয়া যায়!

টাকা ছিটালেই মুড়ি-মুড়কির মতো লবিস্ট পাওয়া যায়!

ওয়াশিংটনে অর্থ ব্যয় করে লবিস্ট ফার্ম নিয়োগ করা গেলেও অর্থের বিনিময়ে যোগাযোগ ও বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী। তার ভাষ্য, তারা ওয়াশিংটনে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও মানবাধিকার পরিস্থিতি তুলে ধরতে যে প্রচেষ্টা চালিয়েছে, তা কোনো ভাড়া করা কক্ষে এক দিনের অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে অর্জিত হয়নি।

সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পোস্টে এসব কথা বলেন ওয়াশিংটনভিত্তিক সাবেক সাংবাদিক ও বিশ্লেষক মুশফিকুল ফজল আনসারী। পোস্টে তিনি ওয়াশিংটন ন্যাশনাল প্রেসক্লাবে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত একটি অনুষ্ঠান এবং এর রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়ে মন্তব্য করেন।

ওয়াশিংটন ন্যাশনাল প্রেসক্লাবের এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন সাংবাদিক তাকে জানিয়েছে, গতকাল প্রেসক্লাবের ১৩ তলায় ভাড়া করা একটি কক্ষে অনুষ্ঠান চলতে দেখে তিনি সেখানে প্রবেশ করেন। অনুষ্ঠানটি মুশফিকুল ফজল আনসারীর কোনো আয়োজন বলে মনে করেছিল ওই সাংবাদিক। পরে তিনি দেখতে পান, সেটি শেখ হাসিনার অনলাইন অংশগ্রহণে ‘বঙ্গবন্ধু পরিষদ’ আয়োজিত সজীব ওয়াজেদ জয়ের একটি অনুষ্ঠান।

এ প্রসঙ্গে আনসারী বলেন, প্রেসক্লাবে একটি কক্ষ ভাড়া করে অনুষ্ঠান আয়োজন করা সম্ভব হলেও এর মাধ্যমে প্রেসক্লাবের সমর্থন কিংবা ওয়াশিংটনের স্বীকৃতি অর্জন করা যায় না।

তিনি তার পোস্টে অতীতের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে তাদের অধিকাংশ অনুষ্ঠান প্রেসক্লাবের সদস্যদের জন্য নির্ধারিত ম্যাকক্লেন্ডার বা কসগ্রোভ লাউঞ্জে অনুষ্ঠিত হতো। তবে অনুষ্ঠানগুলো প্রকাশ্য হলে আওয়ামী লীগের কর্মী এবং বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সেখানে উপস্থিত হতে দেখা যেত বলে তিনি অভিযোগ করেন। অনুষ্ঠানে কারা অংশ নিচ্ছেন এবং কারা বক্তব্য দিচ্ছেন, তা নথিবদ্ধ করার প্রবণতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

পোস্টে আনসারী আরও অভিযোগ করেন, একবার উইলসন সেন্টারে অধ্যাপক আলী রীয়াজের একটি বই নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠানে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের তৎকালীন উপমিশনপ্রধান মাহবুব সালেহর নেতৃত্বে যুবলীগের একদল লোক জোর করে প্রবেশ করেন। তার দাবি, সেখানে মাহবুব সালেহ টেবিল চাপড়ান এবং আলী রীয়াজের উদ্দেশে আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে একপর্যায়ে নিরাপত্তাকর্মীদের ডাকতে হয়। অনুষ্ঠান শেষে ওই দলের কয়েকজন বাইরে রাখা বই নিয়ে চলে যান বলেও জানান তিনি।

বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে অতীতের অভিজ্ঞতার তুলনা করে আনসারী বলেন, আগে তাদের বিভিন্ন আয়োজনকে ‘ষড়যন্ত্র’ আখ্যা দিয়ে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হতো। অথচ এখন ভিন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন এবং ‘নিরপেক্ষতা’র দাবি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

ওয়াশিংটনে দীর্ঘদিনের কার্যক্রমের বিবরণ দিতে গিয়ে আনসারী বলেন, বাংলাদেশের তৎকালীন সরকারের শাসনামলে সংঘটিত হত্যা, গুম ও অন্যান্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরতে তাদের টানা ১৫ বছর কাজ করতে হয়েছে। এ সময়ে শতাধিক ব্যক্তিগত ও উন্মুক্ত অনুষ্ঠান, পরিস্থিতি বিশ্লেষণমূলক অধিবেশন, ওয়েবিনার, গোলটেবিল বৈঠক ও প্যানেল আলোচনার আয়োজনের পাশাপাশি বিভিন্ন মহলের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন এবং তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে আস্থা অর্জনের চেষ্টা করেছেন তারা।

তিনি আরও বলেন, ওয়াশিংটনে তাদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও যোগাযোগ কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে। তবে অর্থ ব্যয় করে লবিস্ট ফার্ম নিয়োগ করলেই সেই ধরনের গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয় না। তার মতে, যোগাযোগ ও বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে হয় দীর্ঘমেয়াদি প্রচেষ্টার মাধ্যমে।

পোস্টের শেষাংশে আনসারী বলেন, একটি সম্মেলন আয়োজন করেই অতীতের সবকিছু বদলে ফেলার প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়। তার ভাষায়, “হল ভাড়া নেয়া যায় কিন্তু অতীত মুছে ফেলা যায় না।”

তিনি বক্তব্যের সমাপ্তিতে ঐতিহাসিক সুফি সাধক হযরত নিজামুদ্দীন আউলিয়ার নামে প্রচলিত ‘হনুজ দিল্লি দূর অস্ত’ উক্তিটি উল্লেখ করেন। এর মাধ্যমে তিনি সংশ্লিষ্ট পক্ষের প্রত্যাশিত রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জন এখনো অনেক দূরে—এমন ইঙ্গিত দেন।

রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/সা.সি
পাঠকের মন্তব্য

সংশ্লিষ্ট বিশ্ব সংবাদ


অন্যান্য সংবাদ