ইনানীর রিসোর্টে আগুন: স্ত্রী-সন্তান হারিয়ে শোকে পাথর নুর আলম
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে শোকে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন নুর আলম। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আনন্দঘন সময় কাটানোর উদ্দেশ্যে কক্সবাজারে গিয়েছিলেন তাঁর স্ত্রী ফারিহা কবির ও ছেলে ফায়িজান আহম্মেদ। কিন্তু সেই ভ্রমণই শেষ পর্যন্ত পরিণত হয়েছে এক হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডিতে।
নুর আলমের বাড়ি বরিশালের উজিরপুর উপজেলায়। চাকরির সুবাদে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার দক্ষিণ হাসপাতালপাড়ায় একটি ভাড়া বাসায় টানা আট বছর ধরে বসবাস করছিলেন তিনি। ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের চুয়াডাঙ্গার মেডিকেল প্রমোশন অফিসার (এমপিও) হিসেবে কর্মরত নুর আলমের সুখের সংসার ছিল স্ত্রী-সন্তানকে ঘিরে। কিন্তু ইনানীর অগ্নিকাণ্ড কেড়ে নিয়েছে তাঁর জীবনের সবচেয়ে প্রিয় দুই মানুষকে।
নুর আলম বলেন, গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) স্ত্রী ফারিহা কবির (৩৩), ছেলে ফায়িজান আহম্মেদ এবং তিন শ্যালিকা ও এক শ্যালককে নিয়ে কক্সবাজারে বেড়াতে যান তিনি। তবে অফিসের কাজ থাকায় শুক্রবার পরিবারের সদস্যদের সেখানে রেখে তিনি চুয়াডাঙ্গায় ফিরে আসেন। শনিবার সকালে অগ্নিকাণ্ডে স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের সদস্যদের মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি ঢাকায় ছুটে যান।
শোকাহত নুর আলম আরও বলেন, “আজ (শনিবার) কক্সবাজার থেকে তাদের ফিরে আসার কথা ছিল। কীভাবে রিসোর্টে আগুন লাগল, জানি না। সেখানে আটকা পড়ে আমার স্ত্রী, সন্তানসহ ছয়জন মারা গেছে। এর বেশি কিছু বলতে পারছি না।”
কথা বলতে গিয়ে বারবার থেমে যাচ্ছিলেন তিনি। কয়েক দিন আগেও যাঁদের নিয়ে আনন্দময় সময় কাটানোর পরিকল্পনা ছিল, তাঁদের আর কখনো ফিরে পাবেন না—এ বাস্তবতা যেন মেনে নিতে পারছেন না নুর আলম।
তিনি জানান, তাঁর স্ত্রী ফারিহা কবির অসুস্থ ছিলেন। স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে অন্যের সহায়তা নিতে হতো তাঁকে। এ কারণে পরিবারের অন্য সদস্যরাও একসঙ্গে কক্সবাজারে গিয়েছিলেন, যাতে ফারিহার দেখাশোনা করতে সুবিধা হয়। কিন্তু পরিবারের সবার একসঙ্গে যাওয়া যে এমন মর্মান্তিক পরিণতি ডেকে আনবে, তা কেউ ভাবেননি।
স্ত্রী-সন্তানের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে নুর আলম বলেন, “আমার স্ত্রী অসুস্থ ছিলেন। চলাফেরা করতে অন্যের সাহায্য নিতে হয়। এ জন্য একসঙ্গে সবাই গিয়েছিল। এখন সবাই…”—কথা শেষ করতে পারেননি তিনি।
নুর আলমের একমাত্র সন্তান ফায়িজান আহম্মেদ স্থানীয় প্রদীপন মাধ্যমিক বিদ্যাপীঠের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। ছোট্ট যে শিশুটির স্কুল, খেলাধুলা আর পরিবারের সান্নিধ্যে বেড়ে ওঠার কথা, সেই শিশুটির জীবনই কেড়ে নিল ভয়াবহ আগুন।
আজ (শনিবার) সকালে কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে মেরিন ড্রাইভ সড়ক-সংলগ্ন পাটুয়ারটেক সৈকত এলাকায় কাঠের তৈরি টুপটুপ রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে আগুনের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আগুন লাগে। এ ঘটনায় ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন।
এদিকে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার দক্ষিণ হাসপাতালপাড়ায় নুর আলমের ভাড়া বাসায় গিয়ে দেখা যায়, তাদের কক্ষটি তালাবদ্ধ। যে বাড়িতে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে টানা আট বছর ধরে বসবাস করছিলেন তিনি, সেই বাড়ি এখন তাদের অনুপস্থিতিতে নিস্তব্ধ।
বাড়ির মালিক হারুন আর রশিদ বলেন, টানা আট বছর ধরে আমার বাড়ির তৃতীয় তলায় স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ভাড়া থাকেন নুর আলম। তারা খুবই ভালো মনের মানুষ। ঘটনা শোনার পর তিনি ঢাকায় শ্বশুরবাড়িতে চলে গেছেন। আসলে এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা।
কক্সবাজারে বেড়াতে যাওয়া পরিবারটির ফেরার কথা ছিল আজ (শনিবার)। কিন্তু সেই ফেরার অপেক্ষা আর পূরণ হলো না। চুয়াডাঙ্গার ভাড়া বাসায় তাদের ফিরে আসার বদলে রয়ে গেল তালাবদ্ধ ঘর, আর নুর আলমের জীবনে রয়ে গেল এমন এক শূন্যতা, যা কোনো সান্ত্বনাতেই পূরণ হওয়ার নয়।
রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/সা.সি
নুর আলমের বাড়ি বরিশালের উজিরপুর উপজেলায়। চাকরির সুবাদে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার দক্ষিণ হাসপাতালপাড়ায় একটি ভাড়া বাসায় টানা আট বছর ধরে বসবাস করছিলেন তিনি। ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের চুয়াডাঙ্গার মেডিকেল প্রমোশন অফিসার (এমপিও) হিসেবে কর্মরত নুর আলমের সুখের সংসার ছিল স্ত্রী-সন্তানকে ঘিরে। কিন্তু ইনানীর অগ্নিকাণ্ড কেড়ে নিয়েছে তাঁর জীবনের সবচেয়ে প্রিয় দুই মানুষকে।
নুর আলম বলেন, গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) স্ত্রী ফারিহা কবির (৩৩), ছেলে ফায়িজান আহম্মেদ এবং তিন শ্যালিকা ও এক শ্যালককে নিয়ে কক্সবাজারে বেড়াতে যান তিনি। তবে অফিসের কাজ থাকায় শুক্রবার পরিবারের সদস্যদের সেখানে রেখে তিনি চুয়াডাঙ্গায় ফিরে আসেন। শনিবার সকালে অগ্নিকাণ্ডে স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের সদস্যদের মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি ঢাকায় ছুটে যান।
শোকাহত নুর আলম আরও বলেন, “আজ (শনিবার) কক্সবাজার থেকে তাদের ফিরে আসার কথা ছিল। কীভাবে রিসোর্টে আগুন লাগল, জানি না। সেখানে আটকা পড়ে আমার স্ত্রী, সন্তানসহ ছয়জন মারা গেছে। এর বেশি কিছু বলতে পারছি না।”
কথা বলতে গিয়ে বারবার থেমে যাচ্ছিলেন তিনি। কয়েক দিন আগেও যাঁদের নিয়ে আনন্দময় সময় কাটানোর পরিকল্পনা ছিল, তাঁদের আর কখনো ফিরে পাবেন না—এ বাস্তবতা যেন মেনে নিতে পারছেন না নুর আলম।
তিনি জানান, তাঁর স্ত্রী ফারিহা কবির অসুস্থ ছিলেন। স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে অন্যের সহায়তা নিতে হতো তাঁকে। এ কারণে পরিবারের অন্য সদস্যরাও একসঙ্গে কক্সবাজারে গিয়েছিলেন, যাতে ফারিহার দেখাশোনা করতে সুবিধা হয়। কিন্তু পরিবারের সবার একসঙ্গে যাওয়া যে এমন মর্মান্তিক পরিণতি ডেকে আনবে, তা কেউ ভাবেননি।
স্ত্রী-সন্তানের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে নুর আলম বলেন, “আমার স্ত্রী অসুস্থ ছিলেন। চলাফেরা করতে অন্যের সাহায্য নিতে হয়। এ জন্য একসঙ্গে সবাই গিয়েছিল। এখন সবাই…”—কথা শেষ করতে পারেননি তিনি।
নুর আলমের একমাত্র সন্তান ফায়িজান আহম্মেদ স্থানীয় প্রদীপন মাধ্যমিক বিদ্যাপীঠের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। ছোট্ট যে শিশুটির স্কুল, খেলাধুলা আর পরিবারের সান্নিধ্যে বেড়ে ওঠার কথা, সেই শিশুটির জীবনই কেড়ে নিল ভয়াবহ আগুন।
আজ (শনিবার) সকালে কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে মেরিন ড্রাইভ সড়ক-সংলগ্ন পাটুয়ারটেক সৈকত এলাকায় কাঠের তৈরি টুপটুপ রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে আগুনের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আগুন লাগে। এ ঘটনায় ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন।
এদিকে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার দক্ষিণ হাসপাতালপাড়ায় নুর আলমের ভাড়া বাসায় গিয়ে দেখা যায়, তাদের কক্ষটি তালাবদ্ধ। যে বাড়িতে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে টানা আট বছর ধরে বসবাস করছিলেন তিনি, সেই বাড়ি এখন তাদের অনুপস্থিতিতে নিস্তব্ধ।
বাড়ির মালিক হারুন আর রশিদ বলেন, টানা আট বছর ধরে আমার বাড়ির তৃতীয় তলায় স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ভাড়া থাকেন নুর আলম। তারা খুবই ভালো মনের মানুষ। ঘটনা শোনার পর তিনি ঢাকায় শ্বশুরবাড়িতে চলে গেছেন। আসলে এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা।
কক্সবাজারে বেড়াতে যাওয়া পরিবারটির ফেরার কথা ছিল আজ (শনিবার)। কিন্তু সেই ফেরার অপেক্ষা আর পূরণ হলো না। চুয়াডাঙ্গার ভাড়া বাসায় তাদের ফিরে আসার বদলে রয়ে গেল তালাবদ্ধ ঘর, আর নুর আলমের জীবনে রয়ে গেল এমন এক শূন্যতা, যা কোনো সান্ত্বনাতেই পূরণ হওয়ার নয়।
রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/সা.সি
