ATN
ATN News
শিরোনাম
  •  

ডেঙ্গুর টিকা আনতে উদ্যোগ নেবে সরকার: ডিএসসিসি প্রশাসক

         
ডেঙ্গুর টিকা আনতে উদ্যোগ নেবে সরকার: ডিএসসিসি প্রশাসক

ডেঙ্গুর টিকা আনতে উদ্যোগ নেবে সরকার: ডিএসসিসি প্রশাসক

ডেঙ্গু প্রতিরোধে ভ্যাকসিন আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম। এ ক্ষেত্রে অর্থের কোনো সমস্যা হবে না বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জরিমানা থেকে আদায় করা অর্থ রোগে মৃত দুস্থ ব্যক্তিদের পরিবারের মধ্যে বিতরণের প্রস্তাব দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

আজ শুক্রবার বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনে (বিএফডিসি) ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগের চেয়ে নাগরিক সচেতনতা অধিক গুরুত্বপূর্ণ’ শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আবদুস সালাম বলেন, সরকার ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। ডেঙ্গুর প্রকোপ কমাতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকদেরও সচেতন হতে হবে। জনগণ সচেতন না হলে সরকারের একক উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধ সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু বর্তমানে জাতীয় সংকটে পরিণত হয়েছে। ডেঙ্গু মোকাবিলায় বিরোধী দলের দৃশ্যমান কর্মসূচি নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার অভিযোগ, লং মার্চের মতো কর্মসূচির মাধ্যমে জনভোগান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে।

রাজধানীর বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, হকার ও অটোরিকশা রাজধানীর অন্যতম প্রধান সমস্যা। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে, তবে এখনো সমাধান হয়নি। সরকার ও বিরোধী দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এসব সমস্যার সমাধান সম্ভব বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, ডেঙ্গু এখন বছরজুড়ে ভোগান্তির নাম। রাজধানীসহ সারাদেশে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বেড়েই চলেছে। ডেঙ্গু পরিস্থিতি মহামারি আকার ধারণ না করলেও হাসপাতালগুলোতে গেলে এর ভায়াবহতা দেখা যায়। বিশেষ করে ডেঙ্গু আক্রান্ত নিম্ন ও মধ্যআয়ের মানুষেরা চিকিৎসা খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের হাসপাতালের বারান্দা, মেঝে, সিঁড়ির নিচে অবস্থান করে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। সমন্বিত পদক্ষেপ ও চিকিৎসার অভাবে ডেঙ্গুর কাছে যাতে আমরা অসহায় হয়ে না পড়ি। ডেঙ্গু বিরোধী অভিযানে আদা করা অর্থ ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া দুস্থ পরিবারকে দেওয়া হোক। পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশে ডেঙ্গু প্রতিরোধে টিকার ব্যবহার শুরু হয়েছে। ডেঙ্গুর টিকায় বৈজ্ঞানিক তথ্য-প্রমাণ সঠিক হলেও জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি না থাকলে সরকার ডেঙ্গুর ভ্যাকসিন ক্রয় করার উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

তিনি বলেন, বিগত শাসন আমলে ডেঙ্গু চিকিৎসার নামে নানান ধরনের অনিয়মের স্পষ্ট প্রমাণ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। মশা মারার ওষুধ কেনা, ডেঙ্গু পরীক্ষার ডিভাইস সরবরাহে অনিয়ম ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, কৃত্রিম স্যালাইন সংকট, সরকার নির্ধারিত ফি এর চেয়ে ডেঙ্গু পরীক্ষায় অতিরিক্ত ফি আদায়সহ বিভিন্ন অনিয়মের ঘটনা ঘটেছিল। আওয়ামী শাসন আমলে ২০২৩ সালে দেশের ইতিহাসে ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বেশি ১,৭০৫ জন মানুষ মৃত্যুবরণ করেন। সেই সময় দুই সিটি কর্পোরেশন মশার লার্ভা নিধনের জন্য অবিজ্ঞানসম্মতভাবে ডোবা, নালা ও জলাশয়ে ব্যাঙ ও হাঁসের চাষের প্রকল্প গ্রহণ করে হাস্যরসের সৃষ্টি করেছিল আওয়ামী সরকার। সেই সময়ে নানা অনিয়মের কারণে স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সর্বাত্মক চেষ্টা করছে।

অনুষ্ঠানে ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগের চেয়ে নাগরিক সচেতনতা অধিক গুরুত্বপূর্ণ’ শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বিরোধী দলকে পরাজিত করে বিজয়ী হয় কবি নজরুল সরকারি কলেজের সরকারি দল।

প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, সাংবাদিক মো. আতিকুর রহমান, প্রতীক ইজাজ, মো. মেহেদী হাসান ও জেনিয়া কবির সূচনা।

রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/সা.সি
পাঠকের মন্তব্য

সংশ্লিষ্ট জাতীয় সংবাদ


অন্যান্য সংবাদ