নেদারল্যান্ডস ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট নকল করে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা, চক্রের নারী সদস্য গ্রেফতার
নেদারল্যান্ডস ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট নকল করে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা, চক্রের নারী সদস্য গ্রেফতার
নেদারল্যান্ডসের একটি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট নকল করে অনলাইনভিত্তিক চাকরির প্রলোভনে প্রতারণার মাধ্যমে ২৪ লাখ ১৯ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সংঘবদ্ধ চক্রের এক নারী সদস্যকে গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টর এলাকা থেকে প্রীয়ন্তী সরকার চিত্রা (২২) নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ৮ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ রাত আনুমানিক ১১টার দিকে উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত প্রীয়ন্তী সরকার চিত্রা রংপুর জেলার সাতগাড়া এলাকার বাসিন্দা। তার পিতার নাম শ্রী শ্যামল সরকার এবং মাতার নাম শ্রীমতি রেখা রানী সরকার।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায় যে, ভুক্তভোগী বাদী একজন ব্যবসায়ী। সংঘবদ্ধ চক্রটি ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে একটি টেলিগ্রাম আইডি থেকে বাদীর মোবাইল নম্বরে মেসেজের মাধ্যমে অনলাইন পার্টটাইম চাকরির প্রস্তাব দেয়। নেদারল্যান্ডসের একটি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটের আদলে নকল ওয়েবসাইট তৈরি করে চক্রটি একটি ট্রাভেল প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রের ইতিবাচক রেটিং ও ফিডব্যাক দেওয়ার কাজের বিনিময়ে প্রতিদিন ৮০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত আয়ের প্রলোভন দেখায়। প্রস্তাবে আকৃষ্ট হয়ে বাদী কাজ শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে কাজের পারিশ্রমিক হিসেবে তাকে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা পাঠানো হয়।
পরবর্তী সময়ে বাদীকে টেলিগ্রামের একটি গ্রুপে যুক্ত করা হয়। ওই টেলিগ্রাম গ্রুপে প্রতিষ্ঠানের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে ০১ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগের বিপরীতে আকর্ষণীয় মুনাফা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। গ্রুপে অন্য সদস্যদের বিনিয়োগের কথিত প্রমাণ হিসেবে ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়ার স্লিপের ছবি প্রদর্শন করা হলে বাদীও বিনিয়োগে আগ্রহী হন।T
২০২৫ সালের ২২ আগস্ট বাদী তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এর ব্যাংক হিসাব থেকে প্রথমে ০১ লাখ টাকা প্রতারক চক্রের দেওয়া ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করেন। পরবর্তী সময়ে একটি ওয়েবসাইটে নির্দিষ্টসংখ্যক ভিজিট সম্পন্ন করা, বিভিন্ন রাউন্ডে অংশ নেওয়া এবং অন্যান্য শর্ত পূরণের কথা বলে অভিযুক্তরা তাঁকে পর্যায়ক্রমে আরও অর্থ পাঠাতে প্ররোচিত করেন। এভাবে একই দিনে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যমে বাদীর কাছ থেকে সর্বমোট ২৪ লাখ ১৯ হাজার ১৯৯ টাকা নেওয়া হয়। চক্রটি বাদীর পাঠানো অর্থের একটি অংশ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তরিত করে। অনলাইনে কাজ ও বিনিয়োগের নামে বিভিন্ন শর্ত আরোপ করে এসব অর্থ নেওয়া হলেও তাকে প্রতিশ্রুত মুনাফা কিংবা মূলধন কোনোটাই ফেরত দেওয়া হয়নি।
পরবর্তী সময়ে চক্রটি আরও অর্থ দাবি করতে থাকলে বাদীর সন্দেহ হয়। তিনি বিনিয়োগের অর্থ ফেরত চাইলে চক্রটি অর্থ ফেরত না দিয়ে নতুন করে অর্থ পাঠানোর কথা বলে এবং একপর্যায়ে যোগাযোগে সাড়া দেওয়া বন্ধ করে দেয়। প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে পল্টন থানার মামলা নং-০২, তারিখ ০১/১১/ ২০২৫ খ্রি., ধারা- ৩৪/১০৯/৪০৬/৪২০ পেনাল কোড দায়ের করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্তরা পরস্পর যোগসাজশে সংঘবদ্ধভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে আকর্ষণীয় চাকরির প্রস্তাব এবং অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিতেন।
সিআইডির তদন্তে জানা যায়, প্রতারণা চক্রটির ‘লিজা’ নাম ব্যবহারকারী এক সন্দেহভাজনের নির্দেশনার সঙ্গে ওই টাকা পাঠানোর সময়ের যোগসূত্র পাওয়া গেছে। বাদীর বিশ্বাস অর্জন করে ধীরে ধীরে অধিক অর্থ বিনিয়োগে প্রলুব্ধ করানোর জন্য গ্রেফতারকৃত অভিযুক্ত প্রীয়ন্তী সরকার চিত্রার নামে নিবন্ধিত মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্ট থেকে বাদীকে পারিশ্রমিক পাঠানো হয় মর্মে তদন্তে উঠে আসে। তবে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার অভিযুক্ত নারীকে ওই অর্থ পাঠানোর নির্দেশদাতা সম্পর্কে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেন। এ কারণে প্রতারণার ঘটনায় গ্রেফতারকৃতর সংশ্লিষ্টতা এবং অর্থের উৎস ও গন্তব্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের জন্য তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, একই মামলায় প্রীয়ন্তী সরকার চিত্রা ছাড়া বিভিন্ন সময় ও তারিখে আরও ০৬ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতারপূর্বক বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ০৪ জন ইতোমধ্যে বিজ্ঞ আদালতে নিজেদের দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
সিআইডি অনলাইনভিত্তিক চাকরি, টাস্ক সম্পন্ন করে আয়ের প্রলোভন এবং অপরিচিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে জনসাধারণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছে। এ ধরনের প্রতারণার শিকার হলে সংশ্লিষ্ট তথ্য-প্রমাণ সংরক্ষণ করে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করার পরামর্শ দেওয়া হলো।
রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/সা.সি
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টর এলাকা থেকে প্রীয়ন্তী সরকার চিত্রা (২২) নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ৮ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ রাত আনুমানিক ১১টার দিকে উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত প্রীয়ন্তী সরকার চিত্রা রংপুর জেলার সাতগাড়া এলাকার বাসিন্দা। তার পিতার নাম শ্রী শ্যামল সরকার এবং মাতার নাম শ্রীমতি রেখা রানী সরকার।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায় যে, ভুক্তভোগী বাদী একজন ব্যবসায়ী। সংঘবদ্ধ চক্রটি ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে একটি টেলিগ্রাম আইডি থেকে বাদীর মোবাইল নম্বরে মেসেজের মাধ্যমে অনলাইন পার্টটাইম চাকরির প্রস্তাব দেয়। নেদারল্যান্ডসের একটি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটের আদলে নকল ওয়েবসাইট তৈরি করে চক্রটি একটি ট্রাভেল প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রের ইতিবাচক রেটিং ও ফিডব্যাক দেওয়ার কাজের বিনিময়ে প্রতিদিন ৮০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত আয়ের প্রলোভন দেখায়। প্রস্তাবে আকৃষ্ট হয়ে বাদী কাজ শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে কাজের পারিশ্রমিক হিসেবে তাকে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা পাঠানো হয়।
পরবর্তী সময়ে বাদীকে টেলিগ্রামের একটি গ্রুপে যুক্ত করা হয়। ওই টেলিগ্রাম গ্রুপে প্রতিষ্ঠানের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে ০১ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগের বিপরীতে আকর্ষণীয় মুনাফা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। গ্রুপে অন্য সদস্যদের বিনিয়োগের কথিত প্রমাণ হিসেবে ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়ার স্লিপের ছবি প্রদর্শন করা হলে বাদীও বিনিয়োগে আগ্রহী হন।T
২০২৫ সালের ২২ আগস্ট বাদী তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এর ব্যাংক হিসাব থেকে প্রথমে ০১ লাখ টাকা প্রতারক চক্রের দেওয়া ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করেন। পরবর্তী সময়ে একটি ওয়েবসাইটে নির্দিষ্টসংখ্যক ভিজিট সম্পন্ন করা, বিভিন্ন রাউন্ডে অংশ নেওয়া এবং অন্যান্য শর্ত পূরণের কথা বলে অভিযুক্তরা তাঁকে পর্যায়ক্রমে আরও অর্থ পাঠাতে প্ররোচিত করেন। এভাবে একই দিনে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যমে বাদীর কাছ থেকে সর্বমোট ২৪ লাখ ১৯ হাজার ১৯৯ টাকা নেওয়া হয়। চক্রটি বাদীর পাঠানো অর্থের একটি অংশ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তরিত করে। অনলাইনে কাজ ও বিনিয়োগের নামে বিভিন্ন শর্ত আরোপ করে এসব অর্থ নেওয়া হলেও তাকে প্রতিশ্রুত মুনাফা কিংবা মূলধন কোনোটাই ফেরত দেওয়া হয়নি।
পরবর্তী সময়ে চক্রটি আরও অর্থ দাবি করতে থাকলে বাদীর সন্দেহ হয়। তিনি বিনিয়োগের অর্থ ফেরত চাইলে চক্রটি অর্থ ফেরত না দিয়ে নতুন করে অর্থ পাঠানোর কথা বলে এবং একপর্যায়ে যোগাযোগে সাড়া দেওয়া বন্ধ করে দেয়। প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে পল্টন থানার মামলা নং-০২, তারিখ ০১/১১/ ২০২৫ খ্রি., ধারা- ৩৪/১০৯/৪০৬/৪২০ পেনাল কোড দায়ের করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্তরা পরস্পর যোগসাজশে সংঘবদ্ধভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে আকর্ষণীয় চাকরির প্রস্তাব এবং অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিতেন।
সিআইডির তদন্তে জানা যায়, প্রতারণা চক্রটির ‘লিজা’ নাম ব্যবহারকারী এক সন্দেহভাজনের নির্দেশনার সঙ্গে ওই টাকা পাঠানোর সময়ের যোগসূত্র পাওয়া গেছে। বাদীর বিশ্বাস অর্জন করে ধীরে ধীরে অধিক অর্থ বিনিয়োগে প্রলুব্ধ করানোর জন্য গ্রেফতারকৃত অভিযুক্ত প্রীয়ন্তী সরকার চিত্রার নামে নিবন্ধিত মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্ট থেকে বাদীকে পারিশ্রমিক পাঠানো হয় মর্মে তদন্তে উঠে আসে। তবে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার অভিযুক্ত নারীকে ওই অর্থ পাঠানোর নির্দেশদাতা সম্পর্কে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেন। এ কারণে প্রতারণার ঘটনায় গ্রেফতারকৃতর সংশ্লিষ্টতা এবং অর্থের উৎস ও গন্তব্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের জন্য তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, একই মামলায় প্রীয়ন্তী সরকার চিত্রা ছাড়া বিভিন্ন সময় ও তারিখে আরও ০৬ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতারপূর্বক বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ০৪ জন ইতোমধ্যে বিজ্ঞ আদালতে নিজেদের দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
সিআইডি অনলাইনভিত্তিক চাকরি, টাস্ক সম্পন্ন করে আয়ের প্রলোভন এবং অপরিচিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে জনসাধারণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছে। এ ধরনের প্রতারণার শিকার হলে সংশ্লিষ্ট তথ্য-প্রমাণ সংরক্ষণ করে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করার পরামর্শ দেওয়া হলো।
রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/সা.সি
