দাতব্য তহবিল আত্মসাতের অভিযোগে শ্রীলঙ্কার সাবেক ফার্স্ট লেডি গ্রেপ্তার
শ্রীলঙ্কার সাবেক ফার্স্ট লেডি শিরান্থী রাজাপাকসেকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা। একটি শিশু হাসপাতালের জন্য সংগ্রহ করা দানের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে বুধবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কলম্বো থেকে শিরান্থী রাজাপাকসেকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কমিশন টু ইনভেস্টিগেট অ্যালিগেশনস অব ব্রাইবারি অর করাপশনের (সিআইএবিওসি) কার্যালয়ে নেওয়া হয়।
শিরান্থী হলেন শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসের স্ত্রী। তার বয়স ৭৩ বছর। দীর্ঘদিন ধরে দেশটির রাজনীতিতে প্রভাবশালী রাজাপাকসে পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করছে বর্তমান প্রেসিডেন্ট অনুঢ়া কুমারা দিশানায়েকের সরকার।
সিআইএবিওসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শিরান্থীর দাতব্য প্রতিষ্ঠান ‘সিজিলিয়া স্যাভিয়া ফাউন্ডেশন’-এর বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাকে আদালতে হাজির করা হবে। সেখানে তার জামিনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন ম্যাজিস্ট্রেট।
শিরান্থীর আইনজীবী মনোজ গামাগে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, দাতব্য কর্মকাণ্ডের জন্য সংগ্রহ করা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের বিরুদ্ধে শিরান্থী আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন।
সিআইএবিওসি জানিয়েছে, শিরান্থীর দাতব্য সংস্থায় প্রায় ১ কোটি শ্রীলঙ্কান রুপি বা ৩০ হাজার মার্কিন ডলার অনুদানের ঘটনায় রাষ্ট্রায়ত্ত ন্যাশনাল সেভিংস ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান প্রদীপ কারিয়াবাসামেকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, যথাযথ আর্থিক বিধি অনুসরণ না করে রাজাপাকসের দাতব্য প্রতিষ্ঠানে সরকারি অর্থ অনুদান হিসেবে দেওয়া হয়েছিল।
পুলিশের দাবি, স্থানীয় শিশুদের একটি ক্যানসার হাসপাতালের জন্য পিইটি স্ক্যানার কেনার কথা বলে সিজিলিয়া স্যাভিয়া ফাউন্ডেশন ৩০ হাজার ৩০০ ডলার সংগ্রহ করেছিল। কিন্তু তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, চীন সরকার এরই মধ্যে হাসপাতালটিকে ওই স্ক্যানার অনুদান হিসেবে দিয়েছিল। এরপরও দাতব্য সংস্থাটি অর্থ সংগ্রহ অব্যাহত রাখে এবং সেই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।
তবে শিরান্থী রাজাপাকসে সব ধরনের অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
সিঙ্গাপুর থেকে ফেরার পর গ্রেপ্তার
চিকিৎসার জন্য গত ১৬ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে যান শিরান্থী। পরে তার দাতব্য প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার জন্য তাকে কলম্বো বিমানবন্দরে হাজির হতে তলব করা হয়।
গ্রেপ্তার এড়াতে আদালতে আবেদন করার পর গত সোমবার তিনি দেশে ফেরেন। তবে তার আগাম জামিনের আবেদনের শুনানি আগামী ১২ অক্টোবর হওয়ার কথা রয়েছে।
আইনি জটিলতায় রাজাপাকসে পরিবারের সদস্যরা
শ্রীলঙ্কার প্রভাবশালী রাজাপাকসে পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্যও বর্তমানে আইনি জটিলতার মুখে রয়েছেন। শিরান্থী ও মাহিন্দা রাজাপাকসের বড় ছেলে এবং বিরোধীদলীয় আইনপ্রণেতা নামাল রাজাপাকসে বর্তমানে রিমান্ডে রয়েছেন। ২০১৩ সালে সই হওয়া একটি এয়ারবাস বিমান চুক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিযোগে তাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।
রাজাপাকসে পরিবার দীর্ঘদিন ধরে তাদের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। এসব মামলাকে তারা রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও দাবি করেছে।
মাহিন্দা রাজাপাকসে ২০০৫ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ২০২২ সালে ব্যাপক গণবিক্ষোভের মুখে তার ভাই গোতাবায়া রাজাপাকসে প্রেসিডেন্টের পদ থেকে সরে দাঁড়ান। এরপর রাজাপাকসে পরিবারের রাজনৈতিক প্রভাব কমে গেলেও মাহিন্দা দেশটির রাজনীতিতে এখনও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত।
রাজাপাকসে পরিবারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির পাশাপাশি দেশটিতে মুসলিমবিদ্বেষী মনোভাব উসকে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। ২০১৯ সালের ইস্টার সানডের বোমা হামলার পর মুসলিমদের দায়ী করার প্রবণতা নিয়ে পরিবারটির বিরুদ্ধে সমালোচনা হয়। ওই হামলায় প্রায় ২৭০ জন নিহত হন।
পরে শ্রীলঙ্কার অপরাধ তদন্ত সংস্থা ওই হামলার ঘটনায় ষড়যন্ত্র ও সহায়তার অভিযোগে দেশটির সাবেক গোয়েন্দা প্রধানকে গ্রেপ্তার করে।
সূত্র: এএফপি
রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/সা.সি
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কলম্বো থেকে শিরান্থী রাজাপাকসেকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কমিশন টু ইনভেস্টিগেট অ্যালিগেশনস অব ব্রাইবারি অর করাপশনের (সিআইএবিওসি) কার্যালয়ে নেওয়া হয়।
শিরান্থী হলেন শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসের স্ত্রী। তার বয়স ৭৩ বছর। দীর্ঘদিন ধরে দেশটির রাজনীতিতে প্রভাবশালী রাজাপাকসে পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করছে বর্তমান প্রেসিডেন্ট অনুঢ়া কুমারা দিশানায়েকের সরকার।
সিআইএবিওসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শিরান্থীর দাতব্য প্রতিষ্ঠান ‘সিজিলিয়া স্যাভিয়া ফাউন্ডেশন’-এর বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাকে আদালতে হাজির করা হবে। সেখানে তার জামিনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন ম্যাজিস্ট্রেট।
শিরান্থীর আইনজীবী মনোজ গামাগে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, দাতব্য কর্মকাণ্ডের জন্য সংগ্রহ করা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের বিরুদ্ধে শিরান্থী আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন।
সিআইএবিওসি জানিয়েছে, শিরান্থীর দাতব্য সংস্থায় প্রায় ১ কোটি শ্রীলঙ্কান রুপি বা ৩০ হাজার মার্কিন ডলার অনুদানের ঘটনায় রাষ্ট্রায়ত্ত ন্যাশনাল সেভিংস ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান প্রদীপ কারিয়াবাসামেকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, যথাযথ আর্থিক বিধি অনুসরণ না করে রাজাপাকসের দাতব্য প্রতিষ্ঠানে সরকারি অর্থ অনুদান হিসেবে দেওয়া হয়েছিল।
পুলিশের দাবি, স্থানীয় শিশুদের একটি ক্যানসার হাসপাতালের জন্য পিইটি স্ক্যানার কেনার কথা বলে সিজিলিয়া স্যাভিয়া ফাউন্ডেশন ৩০ হাজার ৩০০ ডলার সংগ্রহ করেছিল। কিন্তু তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, চীন সরকার এরই মধ্যে হাসপাতালটিকে ওই স্ক্যানার অনুদান হিসেবে দিয়েছিল। এরপরও দাতব্য সংস্থাটি অর্থ সংগ্রহ অব্যাহত রাখে এবং সেই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।
তবে শিরান্থী রাজাপাকসে সব ধরনের অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
সিঙ্গাপুর থেকে ফেরার পর গ্রেপ্তার
চিকিৎসার জন্য গত ১৬ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে যান শিরান্থী। পরে তার দাতব্য প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার জন্য তাকে কলম্বো বিমানবন্দরে হাজির হতে তলব করা হয়।
গ্রেপ্তার এড়াতে আদালতে আবেদন করার পর গত সোমবার তিনি দেশে ফেরেন। তবে তার আগাম জামিনের আবেদনের শুনানি আগামী ১২ অক্টোবর হওয়ার কথা রয়েছে।
আইনি জটিলতায় রাজাপাকসে পরিবারের সদস্যরা
শ্রীলঙ্কার প্রভাবশালী রাজাপাকসে পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্যও বর্তমানে আইনি জটিলতার মুখে রয়েছেন। শিরান্থী ও মাহিন্দা রাজাপাকসের বড় ছেলে এবং বিরোধীদলীয় আইনপ্রণেতা নামাল রাজাপাকসে বর্তমানে রিমান্ডে রয়েছেন। ২০১৩ সালে সই হওয়া একটি এয়ারবাস বিমান চুক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিযোগে তাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।
রাজাপাকসে পরিবার দীর্ঘদিন ধরে তাদের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। এসব মামলাকে তারা রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও দাবি করেছে।
মাহিন্দা রাজাপাকসে ২০০৫ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ২০২২ সালে ব্যাপক গণবিক্ষোভের মুখে তার ভাই গোতাবায়া রাজাপাকসে প্রেসিডেন্টের পদ থেকে সরে দাঁড়ান। এরপর রাজাপাকসে পরিবারের রাজনৈতিক প্রভাব কমে গেলেও মাহিন্দা দেশটির রাজনীতিতে এখনও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত।
রাজাপাকসে পরিবারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির পাশাপাশি দেশটিতে মুসলিমবিদ্বেষী মনোভাব উসকে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। ২০১৯ সালের ইস্টার সানডের বোমা হামলার পর মুসলিমদের দায়ী করার প্রবণতা নিয়ে পরিবারটির বিরুদ্ধে সমালোচনা হয়। ওই হামলায় প্রায় ২৭০ জন নিহত হন।
পরে শ্রীলঙ্কার অপরাধ তদন্ত সংস্থা ওই হামলার ঘটনায় ষড়যন্ত্র ও সহায়তার অভিযোগে দেশটির সাবেক গোয়েন্দা প্রধানকে গ্রেপ্তার করে।
সূত্র: এএফপি
রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/সা.সি
