সংবিধান সংশোধনে ফিরছে গণভোট, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পরিবর্তনেও লাগবে জনসম্মতি
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংবিধানে পুনর্বহালের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ব্যবস্থা পরিবর্তন করতে হলেও জনগণের অনুমোদন নেওয়ার বিধান রাখা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ থেকে বাদ দেওয়া গণভোটের বিধান আদালতের রায়ের পর সংশোধিত সংবিধানে পুনরায় যুক্ত করা হবে।
আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবারের প্রতিনিধি ও ‘জুলাই যোদ্ধা’দের সঙ্গে সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত বিশেষ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আসন্ন সংবিধান সংশোধনীতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদে পরিবর্তন, সংশোধন ও সংযোজন করা হবে। এসব পরিবর্তনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের আগে সাংবিধানিক গণভোটের বিধান কার্যকর হবে।
তিনি বলেন, প্রস্তাবনা, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাসহ মৌলিক কিছু বিষয়ে পরিবর্তন আনার প্রস্তাব রয়েছে। সংবিধানের ৪৮ ও ৫৬ অনুচ্ছেদেও পরিবর্তন আসতে পারে।
গণভোটের বিধান পুনর্বহালের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ১৪২ অনুচ্ছেদ থেকে গণভোটের বিধান বাদ দেওয়া হয়েছিল। আদালত ওই পরিবর্তনকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছেন। ফলে আগের সাংবিধানিক বিধান পুনর্বহালের বিষয়টি সামনে এসেছে।
এ প্রসঙ্গে ‘ডকট্রিন অব ইক্লিপস’-এর কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কোনো সাংবিধানিক বিধান পরবর্তী সময়ে অসাংবিধানিকভাবে পরিবর্তন করা হলে আদালত সেই পরিবর্তন বাতিল করার পর আগের বিধানের কার্যকারিতা ফিরে আসার প্রশ্নটি এই নীতির সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে সংসদীয়ভাবে সংবিধানের সংশোধিত পাঠে বিষয়টি পুনঃস্থাপনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধানে এ ব্যবস্থা পুনর্বহাল করা হলে ভবিষ্যতে কেউ যাতে সহজে তা পরিবর্তন করতে না পারে, সে জন্য পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও জনগণের অনুমোদনের বিধান রাখা হবে। অর্থাৎ তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পরিবর্তনের উদ্যোগ নিলে সাংবিধানিক গণভোটের মাধ্যমে জনগণের মতামত নেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকবে।
তিনি আরও বলেন, আসন্ন সাংবিধানিক সংশোধনীগুলো আদালতের রায়ের ভিত্তিতে এবং সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুসরণ করে করা হবে। এতে গণভোটের বিধানসহ মৌলিক সাংবিধানিক বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে ১৪২ অনুচ্ছেদে গণভোটের বিধান যুক্ত হয়। পরে ২০১১ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আনা পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তা বাদ দেওয়া হয়। একই সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাও সংবিধান থেকে বাতিল করা হয়েছিল।
২০২৬ সালের ৯ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ পঞ্চদশ সংশোধনীর মূল অংশগুলো অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রাখেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোটের বিধান পুনর্বহালের বিষয়টি নতুন করে সাংবিধানিক আলোচনায় আসে।
আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি পাওয়ার পর আইন মন্ত্রণালয় সংবিধানের সংশোধিত রূপ বা নতুন একটি টেক্সট প্রকাশ করবে বলে জানা গেছে। সেখানে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাদ পড়া ১৪২ অনুচ্ছেদের গণভোটের বিধান এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারসংক্রান্ত বিধান পুনঃস্থাপনের বিষয়টি রাখা হবে।
রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/সা.সি
আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবারের প্রতিনিধি ও ‘জুলাই যোদ্ধা’দের সঙ্গে সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত বিশেষ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আসন্ন সংবিধান সংশোধনীতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদে পরিবর্তন, সংশোধন ও সংযোজন করা হবে। এসব পরিবর্তনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের আগে সাংবিধানিক গণভোটের বিধান কার্যকর হবে।
তিনি বলেন, প্রস্তাবনা, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাসহ মৌলিক কিছু বিষয়ে পরিবর্তন আনার প্রস্তাব রয়েছে। সংবিধানের ৪৮ ও ৫৬ অনুচ্ছেদেও পরিবর্তন আসতে পারে।
গণভোটের বিধান পুনর্বহালের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ১৪২ অনুচ্ছেদ থেকে গণভোটের বিধান বাদ দেওয়া হয়েছিল। আদালত ওই পরিবর্তনকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছেন। ফলে আগের সাংবিধানিক বিধান পুনর্বহালের বিষয়টি সামনে এসেছে।
এ প্রসঙ্গে ‘ডকট্রিন অব ইক্লিপস’-এর কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কোনো সাংবিধানিক বিধান পরবর্তী সময়ে অসাংবিধানিকভাবে পরিবর্তন করা হলে আদালত সেই পরিবর্তন বাতিল করার পর আগের বিধানের কার্যকারিতা ফিরে আসার প্রশ্নটি এই নীতির সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে সংসদীয়ভাবে সংবিধানের সংশোধিত পাঠে বিষয়টি পুনঃস্থাপনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধানে এ ব্যবস্থা পুনর্বহাল করা হলে ভবিষ্যতে কেউ যাতে সহজে তা পরিবর্তন করতে না পারে, সে জন্য পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও জনগণের অনুমোদনের বিধান রাখা হবে। অর্থাৎ তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পরিবর্তনের উদ্যোগ নিলে সাংবিধানিক গণভোটের মাধ্যমে জনগণের মতামত নেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকবে।
তিনি আরও বলেন, আসন্ন সাংবিধানিক সংশোধনীগুলো আদালতের রায়ের ভিত্তিতে এবং সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুসরণ করে করা হবে। এতে গণভোটের বিধানসহ মৌলিক সাংবিধানিক বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে ১৪২ অনুচ্ছেদে গণভোটের বিধান যুক্ত হয়। পরে ২০১১ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আনা পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তা বাদ দেওয়া হয়। একই সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাও সংবিধান থেকে বাতিল করা হয়েছিল।
২০২৬ সালের ৯ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ পঞ্চদশ সংশোধনীর মূল অংশগুলো অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রাখেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোটের বিধান পুনর্বহালের বিষয়টি নতুন করে সাংবিধানিক আলোচনায় আসে।
আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি পাওয়ার পর আইন মন্ত্রণালয় সংবিধানের সংশোধিত রূপ বা নতুন একটি টেক্সট প্রকাশ করবে বলে জানা গেছে। সেখানে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাদ পড়া ১৪২ অনুচ্ছেদের গণভোটের বিধান এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারসংক্রান্ত বিধান পুনঃস্থাপনের বিষয়টি রাখা হবে।
রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/সা.সি
