বিশ্ব শিক্ষক দিবসে সিরাজগঞ্জে উৎসবের আমেজ, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জাতীয়করণের দাবি
বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষ্যে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার ভদ্রঘাট শামছুন মহসীন উচ্চ বিদ্যালয়ে নানা আয়োজন করা হয়েছে। শিক্ষকদের ফুলেল শুভেচ্ছা, চকলেট বিতরণ, র্যালি, সম্মাননা সনদ প্রদান ও কেক কাটার মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
আজ সোমবার সকাল থেকেই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। দিবসটি উপলক্ষ্যে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা একই রঙের পোশাক এবং শিক্ষিকারাও একই ধরনের পোশাক পরেন। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৈরি হয় ভিন্নরকম আনন্দের আবহ।
সকালে অ্যাসেম্বলির মধ্য দিয়ে দিনের কার্যক্রম শুরু হয়। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী ও বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সদস্যদের অংশগ্রহণে একটি র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। র্যালিতে শিক্ষার্থীদের হাতে ছিল ‘বিশ্ব শিক্ষক ২০২৬’ লেখা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড।
র্যালি শেষে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীদের নিজেদের হাতে লেখা সম্মাননা সনদ প্রদর্শন ও উদ্বোধন করা হয়। এসব সনদের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশ করেন।
পরে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। সভায় শিক্ষকদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কেক কাটার মধ্য দিয়ে দিনের আয়োজন আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জাতীয়করণের দাবি জানান। তাদের অভিযোগ, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি পেলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা এখনো নানা ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার। তারা এসব বৈষম্য দূর করে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জাতীয়করণের জন্য সরকারের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেন।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক উত্তম কুমার বলেন, ‘আমাদের চিকিৎসাভাতা মাত্র ৫০০ টাকা, অথচ সরকারি শিক্ষকদের চিকিৎসাভাতা ৩ হাজার টাকা। বর্তমান সময়ে একজন চিকিৎসকের ভিজিট দিতেই অনেক টাকা লাগে। কিন্তু আমাদের চিকিৎসাভাতা বাড়ানো হয়নি। আমরা এই বৈষম্য থেকে মুক্তি চাই।’
সহকারী শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সরকার আমাদের যে বেতন দেয়, বর্তমান বাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে তা মিলিয়ে চলা কঠিন। আমাদের জাতীয়করণ করতে হবে এবং সব ধরনের বৈষম্য দূর করতে হবে।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাছিদা খাতুন বলেন, ‘আজ যারা ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, এমপি বা মন্ত্রী হয়েছেন, তারা আমাদের মতো শিক্ষকদের কাছ থেকেই শিক্ষা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিচ্ছিন্নভাবে নয়, সব শিক্ষককে একসঙ্গে জাতীয়করণের দাবি জানাচ্ছি।’
বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য মির্জা আব্দুস সামাদ বলেন, শিক্ষকেরা জাতির মেরুদণ্ড। জাতির মেরুদণ্ড যদি ভালো থাকে তাহলে দেশ ও ভালো থাকবে। আমরা চাই তাদের বেতন ভাতা, সুযোগ সুবিধা বাড়ানো হোক। গত ৮-১০ বছরেও তারা যে বেতন পেতেন, এখনো সেই বেতন পান কিন্তু বর্তমান নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে কয়েকগুণ। সেই অনুপাতে তাদের বেতন ভাতা বাড়েনি। আমরা চাই তাদের যেন ন্যায্য পারিশ্রমিক দেওয়া হয়। তারা ভালো থাকলে দেশও ভালো থাকবে।
বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি আব্দুল আলিম খান বলেন, শিক্ষকরা জাতি গঠনের কারিগর। তাদের যথাযথ মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। শিক্ষকদের যৌক্তিক দাবিগুলো বিবেচনা করে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে, এটাই প্রত্যাশা।
দিবসটির আয়োজনে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এডহক কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/সা.সি
আজ সোমবার সকাল থেকেই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। দিবসটি উপলক্ষ্যে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা একই রঙের পোশাক এবং শিক্ষিকারাও একই ধরনের পোশাক পরেন। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৈরি হয় ভিন্নরকম আনন্দের আবহ।
সকালে অ্যাসেম্বলির মধ্য দিয়ে দিনের কার্যক্রম শুরু হয়। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী ও বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সদস্যদের অংশগ্রহণে একটি র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। র্যালিতে শিক্ষার্থীদের হাতে ছিল ‘বিশ্ব শিক্ষক ২০২৬’ লেখা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড।
র্যালি শেষে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীদের নিজেদের হাতে লেখা সম্মাননা সনদ প্রদর্শন ও উদ্বোধন করা হয়। এসব সনদের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশ করেন।
পরে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। সভায় শিক্ষকদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কেক কাটার মধ্য দিয়ে দিনের আয়োজন আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জাতীয়করণের দাবি জানান। তাদের অভিযোগ, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি পেলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা এখনো নানা ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার। তারা এসব বৈষম্য দূর করে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জাতীয়করণের জন্য সরকারের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেন।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক উত্তম কুমার বলেন, ‘আমাদের চিকিৎসাভাতা মাত্র ৫০০ টাকা, অথচ সরকারি শিক্ষকদের চিকিৎসাভাতা ৩ হাজার টাকা। বর্তমান সময়ে একজন চিকিৎসকের ভিজিট দিতেই অনেক টাকা লাগে। কিন্তু আমাদের চিকিৎসাভাতা বাড়ানো হয়নি। আমরা এই বৈষম্য থেকে মুক্তি চাই।’
সহকারী শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সরকার আমাদের যে বেতন দেয়, বর্তমান বাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে তা মিলিয়ে চলা কঠিন। আমাদের জাতীয়করণ করতে হবে এবং সব ধরনের বৈষম্য দূর করতে হবে।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাছিদা খাতুন বলেন, ‘আজ যারা ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, এমপি বা মন্ত্রী হয়েছেন, তারা আমাদের মতো শিক্ষকদের কাছ থেকেই শিক্ষা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিচ্ছিন্নভাবে নয়, সব শিক্ষককে একসঙ্গে জাতীয়করণের দাবি জানাচ্ছি।’
বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য মির্জা আব্দুস সামাদ বলেন, শিক্ষকেরা জাতির মেরুদণ্ড। জাতির মেরুদণ্ড যদি ভালো থাকে তাহলে দেশ ও ভালো থাকবে। আমরা চাই তাদের বেতন ভাতা, সুযোগ সুবিধা বাড়ানো হোক। গত ৮-১০ বছরেও তারা যে বেতন পেতেন, এখনো সেই বেতন পান কিন্তু বর্তমান নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে কয়েকগুণ। সেই অনুপাতে তাদের বেতন ভাতা বাড়েনি। আমরা চাই তাদের যেন ন্যায্য পারিশ্রমিক দেওয়া হয়। তারা ভালো থাকলে দেশও ভালো থাকবে।
বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি আব্দুল আলিম খান বলেন, শিক্ষকরা জাতি গঠনের কারিগর। তাদের যথাযথ মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। শিক্ষকদের যৌক্তিক দাবিগুলো বিবেচনা করে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে, এটাই প্রত্যাশা।
দিবসটির আয়োজনে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এডহক কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/সা.সি
