ATN
শিরোনাম
  •  

মাদকসেবীর অপবাদে রিকশাচালককে পিটিয়ে হত্যা: সোনাইমুড়ীতে দুই কিশোরের স্বীকারোক্তি

         
মাদকসেবীর অপবাদে রিকশাচালককে পিটিয়ে হত্যা: সোনাইমুড়ীতে দুই কিশোরের স্বীকারোক্তি

মাদকসেবীর অপবাদে রিকশাচালককে পিটিয়ে হত্যা: সোনাইমুড়ীতে দুই কিশোরের স্বীকারোক্তি

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে পূর্বশত্রুতার জেরে রিকশাচালক মো. ফয়েজ আহাম্মদকে মাদকসেবীর অপবাদ দিয়ে মব সৃষ্টি করে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দুই কিশোরকে আইনের হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। আদালতে সোপর্দের পর তারা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।

পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ জুন রাত আনুমানিক ১১টা থেকে ১২ জুন রাত ১টা ৩৫ মিনিটের মধ্যে সোনাইমুড়ী উপজেলার শাকতলা ছিদ্দিকিয়া আলীয়া মাদ্রাসার পূর্ব পাশে এবং পরে নদোনা আছিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন সড়কে রিকশাচালক ফয়েজ আহাম্মদকে পূর্বশত্রুতার জেরে মাদকসেবীর অপবাদ দেওয়া হয়। একপর্যায়ে কয়েকজন লাঠিসোঁটা ও রড নিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর আহত অবস্থায় রাস্তায় ফেলে যায়।

পরে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় ফয়েজ আহাম্মদকে উদ্ধার করে সোনাইমুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় নিহতের বড় ছেলে রেজাউল করিম বাদশা বাদী হয়ে সোনাইমুড়ী থানায় মামলা করেন। ১২ জুন দায়ের করা মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩২৩, ৩২৫, ৩০৭, ৩০২ ও ৩৪ ধারায় এজাহারনামীয় আসামিসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়।

মামলাটি পিবিআইয়ের সিডিউলভুক্ত হওয়ায় গত ২৫ আগস্ট পিবিআই নোয়াখালী জেলা স্ব-উদ্যোগে তদন্তভার গ্রহণ করে। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছেন এসআই ফরিদ উদ্দিন।

পিবিআই জানায়, পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. মোস্তফা কামালের সার্বিক তত্ত্বাবধান এবং পিবিআই নোয়াখালী জেলার ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার আর এম ফয়জুর রহমানের নির্দেশনায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই ফরিদ উদ্দিনের নেতৃত্বে বিশেষ তদন্ত দল কাজ করছে।

তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ৪ অক্টোবর সোনাইমুড়ী থানার শাকতলা এলাকা থেকে আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য হিসেবে শনাক্ত আশ্রাফুল ইসলাম শ্রাবন (১৬) ও আকবর হোসেন ফাহিমকে (১৭) আইনের হেফাজতে নেয় পিবিআই।

পরে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হলে দুজনই ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে বলে জানিয়েছে তদন্ত সংস্থা।

পিবিআইয়ের তদন্তে আরও উঠে এসেছে, আশ্রাফুল ইসলাম শ্রাবন ও আকবর হোসেন ফাহিম নিজ এলাকা ও আশপাশের এলাকার কিশোরদের নিয়ে একটি কিশোর গ্যাং গড়ে তুলেছিল। ওই গ্যাং এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি, অরাজক পরিস্থিতি তৈরি এবং মব সৃষ্টির মাধ্যমে জনশান্তি বিঘ্নিত করত বলে তদন্তে জানা গেছে।

তদন্ত সংস্থার দাবি, ঘটনার দিন পূর্বশত্রুতার জেরে ওই দুই কিশোরসহ তাদের সহযোগীরা ফয়েজ আহাম্মদকে মাদকসেবীর অপবাদ দিয়ে পরিকল্পিতভাবে মব সৃষ্টি করে এবং মারধরের একপর্যায়ে তাকে হত্যা করে।

ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।

রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/সা.সি
পাঠকের মন্তব্য

সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ সংবাদ


অন্যান্য সংবাদ