ATN
শিরোনাম
  •  

ফলের বাজারে আগুন, কমলা ৫৫০ মাল্টা ৪৫০ টাকা কেজি

         
ফলের বাজারে আগুন, কমলা ৫৫০ মাল্টা ৪৫০ টাকা কেজি

ফলের বাজারে আগুন, কমলা ৫৫০ মাল্টা ৪৫০ টাকা কেজি

রাজধানীর বাজারে ফল কিনতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন ক্রেতারা। এক কেজি কমলার দাম উঠেছে ৫৫০ টাকা। মাল্টাও বিক্রি হচ্ছে ৪২০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে। অথচ বছরের এ সময়ে দেশে কমলার মৌসুম শুরু হওয়ার কথা। শুধু খোলা বাজার নয়, সুপারশপে এসব ফলের দাম আরও বেশি।

আজ রোববার রাজধানীর খিলগাঁও এলাকার ফল ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

খুচরা বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি কমলা ৫৫০ টাকা, মাল্টা ৪২০ থেকে ৪৫০ টাকা, আপেল ৩৮০ টাকা, আঙুর ৪২০ থেকে ৪৫০ টাকা, নাশপাতি ৩০০ টাকা এবং ডালিম ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি ড্রাগন ফলের দাম ১৮০ টাকা, কলা ১২০ থেকে ১৫০ টাকা এবং পেঁপে ও তরমুজ ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

সুপারশপে গিয়ে আরও বেশি দাম গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। সেখানে সবুজ আপেল ৫১০ টাকা, গালা আপেল ৪৫৫ টাকা, মাল্টা ৫১৫ টাকা, কমলা ৬৬৮ টাকা এবং নাশপাতি ৩৬৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মৌসুমেও কমলার সরবরাহে ঘাটতি

সাধারণত শরৎ থেকে শীতের শুরু পর্যন্ত দেশে কমলার মৌসুম। মৌলভীবাজারের জুড়ীতে স্থানীয় জাতের কমলার ভরা মৌসুম অক্টোবর থেকে নভেম্বরের মাঝামাঝি। রাঙামাটির নানিয়ারচরেও নভেম্বরের শুরু থেকে কমলা পাকতে শুরু করে, যা ডিসেম্বর পর্যন্ত বাজারে থাকে।

ফলে এ সময়ে দেশি কমলার সরবরাহ বাড়ার কথা। তবে দেশের মোট চাহিদার তুলনায় স্থানীয় উৎপাদন কম হওয়ায় বাজার এখনো আমদানিকৃত কমলার ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। আমদানিতে ঘাটতি দেখা দেওয়ায় এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। মাল্টা আমদানিতে ঘাটতি, বাড়ছে দাম

মাল্টার মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। সেখানে ব্যবসায়ীরা জানান, দেশে স্বাভাবিক চাহিদা মেটাতে প্রতিদিন প্রায় ১৫ কনটেইনার মাল্টা প্রয়োজন। কিন্তু কোনো কোনো সপ্তাহে এসেছে মাত্র ১২ থেকে ২৯ কনটেইনার।

ব্যবসায়ীদের দাবি, সরবরাহ ঘাটতির পাশাপাশি উচ্চ শুল্ক-কর, পরিবহন ব্যয়, জাহাজ ও বন্দরের জটিলতা এবং আগের চালানে লোকসানের কারণে অনেক আমদানিকারক মাল্টা আনা কমিয়ে দিয়েছেন। পচনশীল পণ্য হওয়ায় পরিবহন ও সংরক্ষণেও বাড়তি ঝুঁকি রয়েছে।

মাল্টার আমদানি মূল্য ও খুচরা দামের পার্থক্য নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ আফ্রিকা ও মিশর থেকে আমদানি করা মাল্টার গড় আমদানি মূল্য প্রতি কেজিতে প্রায় ৮৭ টাকা। অথচ রাজধানীর বাজারে একই ফল বিক্রি হচ্ছে ৫২০ টাকা পর্যন্ত।

এ অবস্থায় আমদানি মূল্য, শুল্ক-কর ও অন্যান্য ব্যয় যোগ হওয়ার পরও খুচরা দাম কীভাবে এত বেশি হচ্ছে, সে বিষয়ে ব্যবসায়ীদের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

গত ৩ অক্টোবর সচিবালয়ে ফলের সরবরাহ নিশ্চিত ও বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখতে ব্যবসায়ী এবং সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন।

মন্ত্রী বলেন, বাজারে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির সুযোগ দেওয়া হবে না। আমদানি করা মাল্টার অস্বাভাবিক মূল্য নির্ধারণের প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নিতে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিদেশি ফলের দাম বাড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে আমদানি পর্যায়ের কর-শুল্ককেও দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ফল আমদানিতে কাস্টমস ডিউটি, সম্পূরক শুল্ক, ভ্যাট, অগ্রিম আয়কর ও নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্কসহ মোট করভার অনেক ক্ষেত্রে ৯৬ দশমিক ১০ থেকে ১২১ দশমিক ৭৮ শতাংশ পর্যন্ত দাঁড়ায়।

বাংলাদেশ কাস্টমসের তথ্যেও সাইট্রাসজাতীয় ফলের একটি শ্রেণিতে মোট করভার ১২১ দশমিক ৭৮ শতাংশ দেখানো হয়েছে।

ফলে আমদানি মূল্য, শুল্ক-কর, জাহাজ ভাড়া, বন্দর খরচ, পরিবহন ও সংরক্ষণ ব্যয়ের সঙ্গে পচনজনিত ক্ষতি যোগ হয়ে কয়েক ধাপে বেড়ে যায় ফলের খুচরা দাম।

ব্যবসায়ীদের বক্তব্য শোনার পর মাল্টার শুল্কসংক্রান্ত বিষয় পর্যালোচনার আশ্বাস দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকে আমদানি বাড়ানো এবং দ্রুত ঋণপত্র (এলসি) খোলার মাধ্যমে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বাজারে সরবরাহ বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী ব্যবসায়ী ও সরকারি সংস্থাগুলোকে স্বচ্ছতা ও সততার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। তার মতে, কোনো পক্ষ কারসাজি করলে পুরো বাজার ব্যবস্থার ওপরই মানুষের আস্থা কমে যায়।

শুল্কায়ন ব্যবস্থায় ব্যবসায়ীরা যাতে অযৌক্তিক অ্যাসেসমেন্টের শিকার না হন, আবার পণ্যের মূল্য কম দেখিয়ে রাজস্ব ফাঁকির সুযোগও যাতে না থাকে—সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সভায় এনবিআরের প্রতিনিধি জানান, বিভিন্ন মান ও গ্রেডের খেজুরের প্রকৃত ক্রয়মূল্যে পার্থক্য থাকলেও শুল্কায়নের ক্ষেত্রে তা সবসময় যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয় না। বাস্তবসম্মত মূল্য নির্ধারণে আন্তর্জাতিক বাজারদর ও উৎসমূল্য বিবেচনায় নেওয়ার বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিভিন্ন জাতের কমলা ১৮০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং মাল্টা ২২০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছিল।

মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে কমলার দাম বেড়ে সর্বোচ্চ ৫৫০ টাকায় পৌঁছেছে। অর্থাৎ ফেব্রুয়ারির সর্বোচ্চ দামের তুলনায় কেজিতে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে কমলার দাম। একই সময়ে মাল্টার সর্বোচ্চ দাম ২৮০ টাকা থেকে বেড়ে ৪৫০ টাকা হয়েছে।

খিলগাঁও এলাকার খুচরা ফল ব্যবসায়ী জলিল মোল্লা বলেন, আমরা তো খুচরা ব্যবসায়ী। কেজিতে বড়জোর ১০-১৫ টাকা লাভ করি। ফলের বাজার আসলেই বেশি। গত কয়েক দিন যাবৎ কমলা তো আনিই না। কারণ এত দাম, সবাই শুধু দাম শুনেই চলে যায়। পাইকারি বাজারে দাম কমলে আবার আনব।

ক্রেতারা বলেন, কমলার কেজি ৫৫০ টাকা, এটা ভাবা যায়? মাল্টাও ৪৫০ টাকা কেজি। বাসায় তো পিচ্চিরা এই দুইটা ফলই বেশি পছন্দ করে। নিজেরা না খেলেও তো ওদের জন্য নিতে ইচ্ছে করে। এভাবে দাম বাড়লে তো সাধারণ মানুষ কিনতে পারবে না।

তিনি আরও বলেন, প্রত্যেকটা জিনিসেরই তো সীমা থাকে। ফল বাদ দেন, বাজারে কোনো সবজিই ৭০-৮০ টাকার নিচে নেই। মানুষ বাঁচবে কী খেয়ে? সরকারকে দ্রুত এসব বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে।

রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/সা.সি
পাঠকের মন্তব্য

সংশ্লিষ্ট অর্থনীতি সংবাদ


অন্যান্য সংবাদ