ATN
শিরোনাম
  •  

তদবির ঠেকাতে ঢাকার সাবরেজিস্ট্রারদের পোস্টিংয়ে আসছে লটারি ব্যবস্থা: আইনমন্ত্রী

         
তদবির ঠেকাতে ঢাকার সাবরেজিস্ট্রারদের পোস্টিংয়ে আসছে লটারি ব্যবস্থা: আইনমন্ত্রী

তদবির ঠেকাতে ঢাকার সাবরেজিস্ট্রারদের পোস্টিংয়ে আসছে লটারি ব্যবস্থা: আইনমন্ত্রী

ঢাকা শহরের সাবরেজিস্ট্রারদের পোস্টিংয়ে তদবির ঠেকাতে লটারি ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। একই সঙ্গে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন ব্যবস্থাকে পুরোপুরি অনলাইনের আওতায় এনে তা জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও পাসপোর্টের তথ্যের সঙ্গে পর্যায়ক্রমে যুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

আজ শনিবার সকালে রাজধানীর নিকেতনে ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে নিকাহ রেজিস্ট্রারদের জন্য আয়োজিত ‘অনলাইনে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনে সফটওয়্যারের ব্যবহারবিধি’ শীর্ষক ১০ দিনব্যাপী আবাসিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী।

আইনমন্ত্রী বলেন, ঢাকা শহরের সাবরেজিস্ট্রাররা দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকায় তাদের বদলি বা পোস্টিংয়ের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের তদবিরের মুখোমুখি হতে হয়। এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে ঢাকা শহরের মধ্যে সাবরেজিস্ট্রারদের পোস্টিং লটারির মাধ্যমে করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে প্রচলিত নিয়মনীতি অনুসরণ করেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অনলাইনে আসছে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন

বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন ব্যবস্থাকে ডিজিটাল করার উদ্যোগের কথা জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, অনলাইনে এসব নিবন্ধনের তথ্য সংরক্ষণ করা হবে। পর্যায়ক্রমে এসব তথ্য জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্টের সঙ্গে যুক্ত করা হবে।

কেন্দ্রীয়ভাবে তথ্য সংযুক্ত করা সম্ভব হলে একজন ব্যক্তির গুরুত্বপূর্ণ তথ্য একটি সমন্বিত ব্যবস্থার মাধ্যমে যাচাই করা যাবে বলেও জানান তিনি।

আইনমন্ত্রী বলেন, অনলাইনে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের তথ্য সংরক্ষণ করা হলে বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহ প্রতিরোধেও সহায়তা পাওয়া যাবে। কোনো ব্যক্তি আগের বিয়ের তথ্য গোপন করে অন্যত্র আবার বিয়ে করতে চাইলে অনলাইন ব্যবস্থায় তার পূর্ববর্তী বিবাহের তথ্য যাচাই করা সম্ভব হবে।

এ ছাড়া ভবিষ্যতে কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পর স্ত্রী বা সন্তানদের পক্ষ থেকে সম্পত্তি বা উত্তরাধিকার নিয়ে একাধিক দাবি উঠলে নিবন্ধিত তথ্যের মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই করা যাবে। এতে এ ধরনের বিরোধ ও মামলা-মোকদ্দমার সংখ্যা কমতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

বিদেশে থাকা কিংবা বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও অনলাইনে সংরক্ষিত বিবাহ নিবন্ধনের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে জানান আইনমন্ত্রী।

তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি বিদেশে গিয়ে স্ত্রীকে সঙ্গে নিতে চাইলে সংশ্লিষ্ট দেশ থেকে অনলাইনে তার বিবাহসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে ওই ব্যক্তির বৈবাহিক সম্পর্কের তথ্য দ্রুত যাচাই করা যাবে।

মন্ত্রী বলেছেন, শরীয়তপুরের নড়িয়া থানায় একজন সাব-ইন্সপেক্টরের বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে পুলিশ ভেরিফিকেশনের জন্য প্রথমে ২ হাজার ২০০ টাকা, পরে ২ হাজার টাকা ঘুস চাওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত ৭০০ টাকায় রফাদফা হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। বিবাহসংক্রান্ত নিবন্ধন অনলাইনে এলে এ ধরনের কিছু প্রক্রিয়ায় অনিয়ম বন্ধে সহায়তা পাওয়া যাবে।

তিনি আরও বলেন, ডিজিটালাইজেশনের বিভিন্ন ব্যবস্থা যখন একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হবে, তখন এর দীর্ঘমেয়াদি সুফল পাওয়া যাবে। জন্মনিবন্ধন, এনআইডি ও পাসপোর্টের তথ্যের মধ্যে যেভাবে সংযোগ রয়েছে, একইভাবে বিবাহ নিবন্ধনের তথ্যও পর্যায়ক্রমে এনআইডি ও পাসপোর্টের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। আইনমন্ত্রী বলেন, একটি শিশু জন্মের পর তার জন্মনিবন্ধন করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পরবর্তীকালে ১৮ বছর বয়সে জাতীয় পরিচয়পত্র করার সময় জন্মনিবন্ধনের তথ্য প্রয়োজন হয়। একইভাবে পাসপোর্ট করার সময় জন্মনিবন্ধন ও এনআইডির তথ্যের প্রয়োজন হয়। অর্থাৎ একজন ব্যক্তির জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ের তথ্য পরস্পরের সঙ্গে সংযুক্ত হচ্ছে।

আইনমন্ত্রী বলেছেন, বিভিন্ন দেশে মানুষের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে যুক্ত থাকে। বাংলাদেশেও এনআইডি নম্বরের মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য সংযুক্ত করার ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। বিবাহ নিবন্ধনের তথ্যও যখন এনআইডি ও পাসপোর্টের সঙ্গে যুক্ত হবে, তখন একজন ব্যক্তির তথ্য কেন্দ্রীয়ভাবে পাওয়া সম্ভব হবে।

রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/সা.সি
পাঠকের মন্তব্য

সংশ্লিষ্ট জাতীয় সংবাদ


অন্যান্য সংবাদ