তত্ত্বাবধায়ক সরকার কাঠামো নিয়ে লিখিত প্রস্তাব চাইল বিশেষ কমিটি
তত্ত্বাবধায়ক সরকার কী প্রক্রিয়ায় এবং কাদের নিয়ে গঠিত হবে-সে বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
আজ মঙ্গলবার সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির চতুর্থ বৈঠক শেষে জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি, গঠন প্রক্রিয়া ও রূপরেখা নিয়ে একটি উন্মুক্ত আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। সুশীল সমাজসহ সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত লিখিত প্রস্তাব ও গঠনমূলক পরামর্শ আহ্বান করে তিনি জানান, উত্থাপিত প্রস্তাবগুলোর মধ্যে যা জাতির জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত বিবেচিত হবে, জাতীয় সংসদেই পর্যালোচনার পর সেটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হবে।
তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়া ও বিভিন্ন ধাপ নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। জুলাই জাতীয় সনদে এ বিষয়ে কিছু প্রস্তাব থাকলেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভিন্নমতও রয়েছে। ফলে কোন ধাপে এবং কী প্রক্রিয়ায় সরকার গঠিত হবে, সে বিষয়ে একাধিক বিকল্প এখনো আলোচনার মধ্যে রয়েছে।
কমিটির সভাপতি আশা প্রকাশ করেন, সংসদের ভেতরে ও বাইরে ব্যাপক আলোচনার মাধ্যমে এ বিষয়ে একটি গ্রহণযোগ্য কাঠামো নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। গণমাধ্যমের মতামত গ্রহণ
বিশেষ কমিটির চতুর্থ বৈঠকে গণমাধ্যমের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিদের মতামত নেওয়া হয়। এতে টেলিভিশন, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন সংবাদমাধ্যম, সংবাদ সংস্থা এবং বার্তা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।
এর আগে রোববার সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করে কমিটি। পর্যাপ্ত সময় নিয়ে মতামত গ্রহণের জন্য গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা দুই ধাপে করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের কাছ থেকে বেশ কিছু প্রস্তাব পাওয়া গেছে। যারা এখনো লিখিত প্রস্তাব দেননি, তাদের দ্রুত তা জমা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মতামত নেওয়ার উদ্যোগ
শুধু গণমাধ্যম নয়, সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে কমিটির।
এ জন্য সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী, শিক্ষাবিদ, সাবেক ও বর্তমান বিচারকসহ বিভিন্ন শ্রেণির বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। গত ১৭ বছরে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে বঞ্চনা বা নিপীড়নের শিকার পরিবারগুলোর মতামতও নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানের তরুণ অংশগ্রহণকারী এবং শহীদ পরিবারের প্রতিনিধিদের কাছ থেকেও পরামর্শ নেওয়া হবে। সব পক্ষের মতামত পর্যালোচনার পর দেশের সংবিধান বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করবে কমিটি। দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ নিয়েও আলোচনা
সংবাদ সম্মেলনে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ নিয়েও আলোচনা হয়। বাংলাদেশের মতো এককেন্দ্রিক রাষ্ট্রে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের যৌক্তিকতা নিয়ে বিভিন্ন মত থাকলেও জুলাই জাতীয় সনদে থাকা ঐকমত্যকে গুরুত্ব দিয়ে এ কাঠামোর দিকে এগিয়ে যাওয়ার কথা জানান সালাহউদ্দিন আহমদ।
তবে সংসদ বা সরকারি দলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো বিকল্প প্রস্তাব এলে তা সংসদীয় প্রক্রিয়ায় বিবেচনা করা হবে বলেও জানান তিনি।
বৈঠকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ এবং বিচারব্যবস্থাকে প্রভাবমুক্ত রাখার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। সব রাজনৈতিক পক্ষকে আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান
সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় কোনো রাজনৈতিক পক্ষকে বাদ দেওয়া হবে না উল্লেখ করে বিরোধী দলকে আলোচনায় অংশগ্রহণের জোর আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, সংবিধান সংশোধন কমিটিতে নাম অন্তর্ভুক্ত করে সকল পক্ষ যাতে সক্রিয় সংলাপে অংশ নেয়, সে বিষয়ে সবার সহযোগিতা কামনা করা হচ্ছে। মূলত একটি পূর্ণাঙ্গ অন্তর্ভুক্তিমূলক বা ইনক্লুসিভ সংশোধন আইন উপহার দেওয়াই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। বিএনপির পক্ষ থেকে উত্থাপিত 'একক ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছর বা দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী পদে থাকতে পারবেন না'—সংক্রান্ত নীতিগত প্রস্তাবের ওপর ভিত্তি করে গঠিত অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি স্পষ্ট করেন, ব্যক্তিকেন্দ্রিক শাসন রোধে তাদের অবস্থান অনড় হলেও সংসদে সকল বিকল্প রাজনৈতিক প্রস্তাব আলোচনার জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে।
সংস্কার কমিশনগুলোর কাজের ব্যাপ্তি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মূল ছয়টি সংস্কার কমিশনের সুপারিশের ওপর ভিত্তি করে গঠিত জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে তারা শতভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যদিও পূর্ববর্তী ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় অন্য কয়েকটি কমিশনের সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত ছিল না, তথাপি সরকার চাইলে যেকোনো সময়ে মিডিয়া বা অপরাপর খাতে নতুন সংস্কার কমিশন গঠন করে দেশের জনদাবির প্রেক্ষিতে তা বাস্তবায়ন করার পূর্ণ এখতিয়ার রাখে। বিশেষ কমিটির চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রস্তুতের পর তা সংসদে বিল আকারে উত্থাপন করা হবে এবং সংসদীয় কাঠামোর ভেতর ও বাইরে ব্যাপক জনমত যাচাইয়ের মাধ্যমে একটি সার্বজনীনভাবে গ্রহণযোগ্য সংবিধান সংশোধনী রূপ নেবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/সা.সি
আজ মঙ্গলবার সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির চতুর্থ বৈঠক শেষে জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি, গঠন প্রক্রিয়া ও রূপরেখা নিয়ে একটি উন্মুক্ত আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। সুশীল সমাজসহ সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত লিখিত প্রস্তাব ও গঠনমূলক পরামর্শ আহ্বান করে তিনি জানান, উত্থাপিত প্রস্তাবগুলোর মধ্যে যা জাতির জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত বিবেচিত হবে, জাতীয় সংসদেই পর্যালোচনার পর সেটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হবে।
তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়া ও বিভিন্ন ধাপ নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। জুলাই জাতীয় সনদে এ বিষয়ে কিছু প্রস্তাব থাকলেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভিন্নমতও রয়েছে। ফলে কোন ধাপে এবং কী প্রক্রিয়ায় সরকার গঠিত হবে, সে বিষয়ে একাধিক বিকল্প এখনো আলোচনার মধ্যে রয়েছে।
কমিটির সভাপতি আশা প্রকাশ করেন, সংসদের ভেতরে ও বাইরে ব্যাপক আলোচনার মাধ্যমে এ বিষয়ে একটি গ্রহণযোগ্য কাঠামো নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। গণমাধ্যমের মতামত গ্রহণ
বিশেষ কমিটির চতুর্থ বৈঠকে গণমাধ্যমের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিদের মতামত নেওয়া হয়। এতে টেলিভিশন, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন সংবাদমাধ্যম, সংবাদ সংস্থা এবং বার্তা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।
এর আগে রোববার সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করে কমিটি। পর্যাপ্ত সময় নিয়ে মতামত গ্রহণের জন্য গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা দুই ধাপে করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের কাছ থেকে বেশ কিছু প্রস্তাব পাওয়া গেছে। যারা এখনো লিখিত প্রস্তাব দেননি, তাদের দ্রুত তা জমা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মতামত নেওয়ার উদ্যোগ
শুধু গণমাধ্যম নয়, সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে কমিটির।
এ জন্য সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী, শিক্ষাবিদ, সাবেক ও বর্তমান বিচারকসহ বিভিন্ন শ্রেণির বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। গত ১৭ বছরে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে বঞ্চনা বা নিপীড়নের শিকার পরিবারগুলোর মতামতও নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানের তরুণ অংশগ্রহণকারী এবং শহীদ পরিবারের প্রতিনিধিদের কাছ থেকেও পরামর্শ নেওয়া হবে। সব পক্ষের মতামত পর্যালোচনার পর দেশের সংবিধান বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করবে কমিটি। দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ নিয়েও আলোচনা
সংবাদ সম্মেলনে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ নিয়েও আলোচনা হয়। বাংলাদেশের মতো এককেন্দ্রিক রাষ্ট্রে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের যৌক্তিকতা নিয়ে বিভিন্ন মত থাকলেও জুলাই জাতীয় সনদে থাকা ঐকমত্যকে গুরুত্ব দিয়ে এ কাঠামোর দিকে এগিয়ে যাওয়ার কথা জানান সালাহউদ্দিন আহমদ।
তবে সংসদ বা সরকারি দলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো বিকল্প প্রস্তাব এলে তা সংসদীয় প্রক্রিয়ায় বিবেচনা করা হবে বলেও জানান তিনি।
বৈঠকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ এবং বিচারব্যবস্থাকে প্রভাবমুক্ত রাখার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। সব রাজনৈতিক পক্ষকে আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান
সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় কোনো রাজনৈতিক পক্ষকে বাদ দেওয়া হবে না উল্লেখ করে বিরোধী দলকে আলোচনায় অংশগ্রহণের জোর আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, সংবিধান সংশোধন কমিটিতে নাম অন্তর্ভুক্ত করে সকল পক্ষ যাতে সক্রিয় সংলাপে অংশ নেয়, সে বিষয়ে সবার সহযোগিতা কামনা করা হচ্ছে। মূলত একটি পূর্ণাঙ্গ অন্তর্ভুক্তিমূলক বা ইনক্লুসিভ সংশোধন আইন উপহার দেওয়াই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। বিএনপির পক্ষ থেকে উত্থাপিত 'একক ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছর বা দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী পদে থাকতে পারবেন না'—সংক্রান্ত নীতিগত প্রস্তাবের ওপর ভিত্তি করে গঠিত অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি স্পষ্ট করেন, ব্যক্তিকেন্দ্রিক শাসন রোধে তাদের অবস্থান অনড় হলেও সংসদে সকল বিকল্প রাজনৈতিক প্রস্তাব আলোচনার জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে।
সংস্কার কমিশনগুলোর কাজের ব্যাপ্তি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মূল ছয়টি সংস্কার কমিশনের সুপারিশের ওপর ভিত্তি করে গঠিত জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে তারা শতভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যদিও পূর্ববর্তী ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় অন্য কয়েকটি কমিশনের সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত ছিল না, তথাপি সরকার চাইলে যেকোনো সময়ে মিডিয়া বা অপরাপর খাতে নতুন সংস্কার কমিশন গঠন করে দেশের জনদাবির প্রেক্ষিতে তা বাস্তবায়ন করার পূর্ণ এখতিয়ার রাখে। বিশেষ কমিটির চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রস্তুতের পর তা সংসদে বিল আকারে উত্থাপন করা হবে এবং সংসদীয় কাঠামোর ভেতর ও বাইরে ব্যাপক জনমত যাচাইয়ের মাধ্যমে একটি সার্বজনীনভাবে গ্রহণযোগ্য সংবিধান সংশোধনী রূপ নেবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/সা.সি
