প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি, বৈঠক করবেন বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে আগামীকাল সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরকালে তিনি জাতিসংঘের বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি কয়েকটি দেশের শীর্ষ নেতার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন।
আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্ক পর্বে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। তার বক্তব্যে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, আইনের শাসন, জবাবদিহি, বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার সংস্কারের মতো বিষয় গুরুত্ব পাবে।
রোববার এক ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরের কর্মসূচি ও বৈঠকের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম।
পররাষ্ট্রসচিব জানান, ২২ সেপ্টেম্বর থেকে প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হবে। ওই দিন সকালে জাতিসংঘ মহাসচিবের আয়োজনে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সম্মানে দেওয়া স্বাগত প্রাতঃরাশে অংশ নেবেন তিনি।
এরপর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্য বিশ্বনেতার সঙ্গে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। সন্ধ্যায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের আয়োজনে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাদের সহধর্মিণীদের সম্মানে দেওয়া অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার।
২৩ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতঃরাশ বৈঠকে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, নরওয়ে ও স্পেনের আয়োজনে বৈশ্বিক বৈষম্য মোকাবিলাবিষয়ক একটি সভায় বক্তব্য দেবেন।
একই দিন বিকেলে জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে আয়োজিত ‘Climate Action and the Just Transition’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার।
২৪ সেপ্টেম্বর সকালে সাধারণ পরিষদের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আমন্ত্রণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট অস্তিত্বগত হুমকি মোকাবিলাবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সভায় উদ্বোধনী বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী।
তার বক্তব্যে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নবযাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহি, বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি যুব ও নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট, আধুনিক প্রযুক্তির ন্যায়সঙ্গত ব্যবহার এবং বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাওয়ার কথা রয়েছে।
জাতিসংঘ অধিবেশনের পাশাপাশি বাংলাদেশের আয়োজনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সাইড ইভেন্টেও অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।
২৩ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গা সংকটবিষয়ক সাইড ইভেন্টে বক্তব্য দেওয়ার সময় রোহিঙ্গাদের দ্রুততম সময়ে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর সহযোগিতা চাইবেন তিনি।
পরদিন ২৪ সেপ্টেম্বর মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য এবং মিডওয়াইফারি বিষয়ক আরেকটি সাইড ইভেন্টে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের উদ্যোগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবায় দক্ষ ও প্রশিক্ষিত ধাত্রীসেবার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে।
জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী।
এর মধ্যে কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স এবং ক্রোয়েশিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে।
এসব বৈঠকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
এ ছাড়া জাতিসংঘ মহাসচিব, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার এবং ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতের কথা রয়েছে।
অর্থনৈতিক কূটনীতির অংশ হিসেবে নিউইয়র্কে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্যে ওয়াল স্ট্রিট ও মেটার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক উল্লেখযোগ্য।
এসব আলোচনায় বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ, উৎপাদন, অবকাঠামো ও প্রযুক্তি খাতের সম্ভাবনা, দক্ষতা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং তরুণদের জন্য মানসম্পন্ন কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রসচিব।
রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/সা.সি
আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্ক পর্বে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। তার বক্তব্যে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, আইনের শাসন, জবাবদিহি, বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার সংস্কারের মতো বিষয় গুরুত্ব পাবে।
রোববার এক ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরের কর্মসূচি ও বৈঠকের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম।
পররাষ্ট্রসচিব জানান, ২২ সেপ্টেম্বর থেকে প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হবে। ওই দিন সকালে জাতিসংঘ মহাসচিবের আয়োজনে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সম্মানে দেওয়া স্বাগত প্রাতঃরাশে অংশ নেবেন তিনি।
এরপর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্য বিশ্বনেতার সঙ্গে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। সন্ধ্যায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের আয়োজনে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাদের সহধর্মিণীদের সম্মানে দেওয়া অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার।
২৩ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতঃরাশ বৈঠকে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, নরওয়ে ও স্পেনের আয়োজনে বৈশ্বিক বৈষম্য মোকাবিলাবিষয়ক একটি সভায় বক্তব্য দেবেন।
একই দিন বিকেলে জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে আয়োজিত ‘Climate Action and the Just Transition’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার।
২৪ সেপ্টেম্বর সকালে সাধারণ পরিষদের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আমন্ত্রণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট অস্তিত্বগত হুমকি মোকাবিলাবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সভায় উদ্বোধনী বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী।
তার বক্তব্যে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নবযাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহি, বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি যুব ও নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট, আধুনিক প্রযুক্তির ন্যায়সঙ্গত ব্যবহার এবং বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাওয়ার কথা রয়েছে।
জাতিসংঘ অধিবেশনের পাশাপাশি বাংলাদেশের আয়োজনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সাইড ইভেন্টেও অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।
২৩ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গা সংকটবিষয়ক সাইড ইভেন্টে বক্তব্য দেওয়ার সময় রোহিঙ্গাদের দ্রুততম সময়ে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর সহযোগিতা চাইবেন তিনি।
পরদিন ২৪ সেপ্টেম্বর মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য এবং মিডওয়াইফারি বিষয়ক আরেকটি সাইড ইভেন্টে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের উদ্যোগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবায় দক্ষ ও প্রশিক্ষিত ধাত্রীসেবার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে।
জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী।
এর মধ্যে কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স এবং ক্রোয়েশিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে।
এসব বৈঠকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
এ ছাড়া জাতিসংঘ মহাসচিব, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার এবং ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতের কথা রয়েছে।
অর্থনৈতিক কূটনীতির অংশ হিসেবে নিউইয়র্কে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্যে ওয়াল স্ট্রিট ও মেটার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক উল্লেখযোগ্য।
এসব আলোচনায় বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ, উৎপাদন, অবকাঠামো ও প্রযুক্তি খাতের সম্ভাবনা, দক্ষতা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং তরুণদের জন্য মানসম্পন্ন কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রসচিব।
রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/সা.সি
