অল্প বয়সেই চুল পাতলা হয়ে যাওয়া বা অতিরিক্ত চুল পড়া নিয়ে অনেকেই উদ্বিগ্ন। বয়স বাড়ার সঙ্গে চুল পড়া স্বাভাবিক হলেও তরুণ বয়সে হঠাৎ চুল পড়ার পরিমাণ বেড়ে গেলে এর পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। বংশগত প্রবণতা, হরমোনের পরিবর্তন, মানসিক চাপ, পুষ্টির ঘাটতি কিংবা কিছু শারীরিক সমস্যাও চুল পড়ার কারণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন কিছু চুল পড়া স্বাভাবিক। তবে দীর্ঘ সময় ধরে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি চুল পড়তে থাকলে বা মাথার নির্দিষ্ট অংশের চুল পাতলা হয়ে গেলে কারণ নির্ণয় করা প্রয়োজন।
পুরুষদের ক্ষেত্রে অ্যান্ড্রোজেনিক অ্যালোপেশিয়া বা বংশগত টাক অল্প বয়সেই শুরু হতে পারে। শরীরে টেস্টোস্টেরন থেকে তৈরি ডাইহাইড্রোটেস্টোস্টেরন (ডিএইচটি) চুলের ফলিকলে প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে ধীরে ধীরে চুলের ফলিকল ছোট হয়ে চুল পাতলা হয়ে আসতে পারে।
নারীদের ক্ষেত্রেও হরমোনের পরিবর্তন, বিশেষ করে কিছু হরমোনজনিত সমস্যা, চুল পড়ার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
অতিরিক্ত মানসিক চাপ, অসুস্থতা, অস্ত্রোপচার বা শরীরে বড় ধরনের পরিবর্তনের পর অনেকের সাময়িকভাবে অতিরিক্ত চুল পড়তে পারে। এ অবস্থাকে টেলোজেন এফ্লুভিয়াম বলা হয়। সাধারণত মূল কারণ নিয়ন্ত্রণে এলে ধীরে ধীরে চুল পড়া কমে আসতে পারে।
পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
শরীরে আয়রন, প্রোটিন বা কিছু প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি থাকলে চুল পড়ার প্রবণতা বাড়তে পারে। তাই খাদ্যতালিকায় ডিম, মাছ, ডাল, সয়াবিন, শাকসবজি, বাদামসহ পুষ্টিকর খাবার রাখা উচিত।
তবে প্রয়োজন ছাড়া বায়োটিন বা অন্য কোনো সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। কারণ সব ধরনের চুল পড়ার চিকিৎসায় এসব সাপ্লিমেন্ট কার্যকর নয়। চুলের যত্নে কী করবেন?
চুল ও স্ক্যাল্প পরিষ্কার রাখতে নিজের চুলের ধরন অনুযায়ী মৃদু শ্যাম্পু ব্যবহার করা যেতে পারে। চুলে অতিরিক্ত তাপ, শক্ত রাসায়নিক এবং বারবার টান দেওয়ার মতো অভ্যাস এড়িয়ে চলা উচিত।
নারকেল তেল চুলের শুষ্কতা ও ভঙ্গুরতা কমাতে সহায়ক হতে পারে, তবে তেল ব্যবহার করলেই বংশগত টাক বা হরমোনজনিত চুল পড়া বন্ধ হয়ে যাবে—এমন প্রমাণ নেই।
চুল গজানোর উদ্দেশ্যে ডার্মারোলার বা মাইক্রোনিডলিং নিয়ে আগ্রহ বাড়লেও এটি সঠিক পদ্ধতি ও জীবাণুমুক্ত উপায়ে ব্যবহার করা জরুরি। ভুলভাবে ব্যবহার করলে স্ক্যাল্পে সংক্রমণ, প্রদাহ বা ক্ষত হতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ঘরে ডার্মারোলার ব্যবহার না করাই নিরাপদ।
চুল পড়ার চিকিৎসা নির্ভর করে এর কারণের ওপর। বংশগত চুল পড়ার ক্ষেত্রে চিকিৎসক রোগীর অবস্থা বিবেচনা করে ওষুধ বা অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতি দিতে পারেন। কিছু ক্ষেত্রে মিনোক্সিডিলের মতো চিকিৎসা ব্যবহার করা হয়। পুরুষদের অ্যান্ড্রোজেনিক অ্যালোপেশিয়ার ক্ষেত্রে ফিনাস্টেরাইডও নির্দিষ্ট রোগীর জন্য বিবেচনা করা হতে পারে; তবে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও উপযোগিতা সম্পর্কে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
চুল পড়া রোধে এর পুষ্টি নিশ্চিত করতে হবে। আর চুলের পুষ্টি আসে হেয়ার বালবের শিরা-উপশিরা থেকে। তাই চুলের পুষ্টি সঞ্চালন করতে হলে হেয়ার ফলিকলের নিচে, ত্বকের গভীরে হেয়ার বালবে রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে হবে।
রোগীভেদে চিকিৎসক খাওয়ার ওষুধ, চুল ঝরা বন্ধের লোশন, শ্যাম্পু ইত্যাদি প্রেসক্রাইব করে থাকেন। আধুনিক চিকিৎসা হচ্ছে মেসোথেরাপি ও পিআরপি। এ ধরনের আধুনিক চিকিৎসা করতে বেশ কয়েকটি সেশন ও সময় লাগে। অ্যান্ড্রোজেনিক অ্যালোপেশিয়া বা বংশগত টাকের জন্য এটি একটি কার্যকরী চিকিৎসা। চুলের চিকিৎসা দীর্ঘ মেয়াদে নিতে হয়। তাই ধৈর্য প্রয়োজন এবং লাইফস্টাইল ও খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন কাম্য।
রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/সা.সি
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন কিছু চুল পড়া স্বাভাবিক। তবে দীর্ঘ সময় ধরে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি চুল পড়তে থাকলে বা মাথার নির্দিষ্ট অংশের চুল পাতলা হয়ে গেলে কারণ নির্ণয় করা প্রয়োজন।
পুরুষদের ক্ষেত্রে অ্যান্ড্রোজেনিক অ্যালোপেশিয়া বা বংশগত টাক অল্প বয়সেই শুরু হতে পারে। শরীরে টেস্টোস্টেরন থেকে তৈরি ডাইহাইড্রোটেস্টোস্টেরন (ডিএইচটি) চুলের ফলিকলে প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে ধীরে ধীরে চুলের ফলিকল ছোট হয়ে চুল পাতলা হয়ে আসতে পারে।
নারীদের ক্ষেত্রেও হরমোনের পরিবর্তন, বিশেষ করে কিছু হরমোনজনিত সমস্যা, চুল পড়ার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
অতিরিক্ত মানসিক চাপ, অসুস্থতা, অস্ত্রোপচার বা শরীরে বড় ধরনের পরিবর্তনের পর অনেকের সাময়িকভাবে অতিরিক্ত চুল পড়তে পারে। এ অবস্থাকে টেলোজেন এফ্লুভিয়াম বলা হয়। সাধারণত মূল কারণ নিয়ন্ত্রণে এলে ধীরে ধীরে চুল পড়া কমে আসতে পারে।
পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
শরীরে আয়রন, প্রোটিন বা কিছু প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি থাকলে চুল পড়ার প্রবণতা বাড়তে পারে। তাই খাদ্যতালিকায় ডিম, মাছ, ডাল, সয়াবিন, শাকসবজি, বাদামসহ পুষ্টিকর খাবার রাখা উচিত।
তবে প্রয়োজন ছাড়া বায়োটিন বা অন্য কোনো সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। কারণ সব ধরনের চুল পড়ার চিকিৎসায় এসব সাপ্লিমেন্ট কার্যকর নয়। চুলের যত্নে কী করবেন?
চুল ও স্ক্যাল্প পরিষ্কার রাখতে নিজের চুলের ধরন অনুযায়ী মৃদু শ্যাম্পু ব্যবহার করা যেতে পারে। চুলে অতিরিক্ত তাপ, শক্ত রাসায়নিক এবং বারবার টান দেওয়ার মতো অভ্যাস এড়িয়ে চলা উচিত।
নারকেল তেল চুলের শুষ্কতা ও ভঙ্গুরতা কমাতে সহায়ক হতে পারে, তবে তেল ব্যবহার করলেই বংশগত টাক বা হরমোনজনিত চুল পড়া বন্ধ হয়ে যাবে—এমন প্রমাণ নেই।
চুল গজানোর উদ্দেশ্যে ডার্মারোলার বা মাইক্রোনিডলিং নিয়ে আগ্রহ বাড়লেও এটি সঠিক পদ্ধতি ও জীবাণুমুক্ত উপায়ে ব্যবহার করা জরুরি। ভুলভাবে ব্যবহার করলে স্ক্যাল্পে সংক্রমণ, প্রদাহ বা ক্ষত হতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ঘরে ডার্মারোলার ব্যবহার না করাই নিরাপদ।
চুল পড়ার চিকিৎসা নির্ভর করে এর কারণের ওপর। বংশগত চুল পড়ার ক্ষেত্রে চিকিৎসক রোগীর অবস্থা বিবেচনা করে ওষুধ বা অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতি দিতে পারেন। কিছু ক্ষেত্রে মিনোক্সিডিলের মতো চিকিৎসা ব্যবহার করা হয়। পুরুষদের অ্যান্ড্রোজেনিক অ্যালোপেশিয়ার ক্ষেত্রে ফিনাস্টেরাইডও নির্দিষ্ট রোগীর জন্য বিবেচনা করা হতে পারে; তবে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও উপযোগিতা সম্পর্কে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
চুল পড়া রোধে এর পুষ্টি নিশ্চিত করতে হবে। আর চুলের পুষ্টি আসে হেয়ার বালবের শিরা-উপশিরা থেকে। তাই চুলের পুষ্টি সঞ্চালন করতে হলে হেয়ার ফলিকলের নিচে, ত্বকের গভীরে হেয়ার বালবে রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে হবে।
রোগীভেদে চিকিৎসক খাওয়ার ওষুধ, চুল ঝরা বন্ধের লোশন, শ্যাম্পু ইত্যাদি প্রেসক্রাইব করে থাকেন। আধুনিক চিকিৎসা হচ্ছে মেসোথেরাপি ও পিআরপি। এ ধরনের আধুনিক চিকিৎসা করতে বেশ কয়েকটি সেশন ও সময় লাগে। অ্যান্ড্রোজেনিক অ্যালোপেশিয়া বা বংশগত টাকের জন্য এটি একটি কার্যকরী চিকিৎসা। চুলের চিকিৎসা দীর্ঘ মেয়াদে নিতে হয়। তাই ধৈর্য প্রয়োজন এবং লাইফস্টাইল ও খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন কাম্য।
রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/সা.সি
