ATN
শিরোনাম
  •  

এআইয়ের অপব্যবহারে বাড়ছে নিরাপত্তা ঝুঁকি, প্রয়োজন বৈশ্বিক আইন: ড. মুহাম্মদ ইব্রাহীম

         
এআইয়ের অপব্যবহারে বাড়ছে নিরাপত্তা ঝুঁকি, প্রয়োজন বৈশ্বিক আইন: ড. মুহাম্মদ ইব্রাহীম

এআইয়ের অপব্যবহারে বাড়ছে নিরাপত্তা ঝুঁকি, প্রয়োজন বৈশ্বিক আইন: ড. মুহাম্মদ ইব্রাহীম

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অপব্যবহারে রাষ্ট্রীয়, অর্থনৈতিক, সাইবার ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ক্রমেই হুমকির মুখে পড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন বর্ষীয়ান বিজ্ঞান লেখক ও গবেষক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইব্রাহীম। তিনি বলেছেন, এআইয়ের অপব্যবহারে সত্যকে গুজব এবং গুজবকে সত্য হিসেবে উপস্থাপনের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় এআইয়ের ওপর মানুষের ‘কমনসেন্স’ বা বিচারবোধের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা এবং বৈশ্বিক আইনি কাঠামো গড়ে তোলা জরুরি।

শনিবার রাজধানীর এফডিসিতে ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশ ও মানব সভ্যতার অস্তিত্বের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিযোগিতার আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি।

অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাবে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। একই সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তাও নাজুক হয়ে উঠছে। বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অর্থ চুরির ঘটনায় এআইয়ের কোনো প্রভাব ছিল কি না, তা নিয়েও গবেষণা ও বিশ্লেষণের প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, এআইয়ের মাধ্যমে ভুয়া তথ্য ও কনটেন্ট তৈরি করে মানুষের ব্যক্তিত্ব ও ভাবমূর্তি বদলে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। ফলে কোনটি সত্য আর কোনটি গুজব, তা নির্ধারণ করা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে। এআইয়ের অপব্যবহারে বিশ্ব দ্রুত এমন এক বাস্তবতার দিকে যাচ্ছে, যা মানুষের কাছে ক্রমেই ‘অচেনা’ হয়ে উঠছে।

অধ্যাপক ইব্রাহীম আরও বলেন, এআইয়ের ওপর মানুষের জ্ঞানের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এআইয়ের অনেক ধরনের ‘সেন্স’ থাকলেও মানুষের মতো কমনসেন্স নেই। সুপার এআই আসার আগেই এর ব্যবহার ও ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে একটি নতুন বৈশ্বিক সংস্থার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সমঝোতা গড়ে তোলা প্রয়োজন। এআই ব্যবহারে বৈশ্বিক আইনি বিধানও প্রয়োজন বলে তিনি মত দেন।

তার ভাষ্য, এআইয়ের প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বহু মানুষের কর্মসংস্থান ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এআই বিকল্প কর্মসংস্থান তৈরির উদ্দেশ্যে তৈরি হয়নি; বরং এর বিকাশের সঙ্গে অর্থনীতির কাঠামোতেও পরিবর্তন আসতে পারে। তবে ভবিষ্যতে মানুষের এআইয়ের সঙ্গেই মানিয়ে নিয়ে চলতে হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, প্রযুক্তি মানুষের জন্য আশীর্বাদ হলেও এর অপব্যবহার সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

তিনি বলেন, চিকিৎসাবিজ্ঞান, রোগ নির্ণয়, নতুন ওষুধ উদ্ভাবন, কৃষিতে উৎপাদন বৃদ্ধি, দুর্যোগের পূর্বাভাস, মানবশ্রমের অপচয় কমানো, ব্যবসা-বাণিজ্য ও গ্রাহকসেবাসহ জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে এর অপব্যবহারে ভুয়া ছবি, ভিডিও ও অডিও ক্লোনিংয়ের মাধ্যমে ঘৃণা ছড়ানো এবং প্রতারণার ঘটনা বাড়ছে।

হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, কণ্ঠ ও চেহারা নকল করে ভুয়া কনটেন্ট তৈরির মাধ্যমে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা সম্ভব হচ্ছে। এআই প্রযুক্তির অপব্যবহারের কারণে অপসাংবাদিকতার যে প্রবণতা তৈরি হচ্ছে, তা প্রতিরোধ করা না গেলে মূলধারার গণমাধ্যমও হুমকির মুখে পড়বে। এতে সংবাদ ও তথ্যের ওপর মানুষের আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলো সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। দেশের ডিজিটাল অবকাঠামো ও ব্যবস্থাপনার কিছু অংশ বিদেশি প্রযুক্তি ও সেবার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় তথ্য ও যোগাযোগের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশ মানবসভ্যতার জন্য আশীর্বাদ নয়, অস্তিত্বের সংকট’ শীর্ষক বিতর্কে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে পরাজিত করে সরকারি তিতুমীর কলেজ বিজয়ী হয়।

প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অধ্যাপক আবু মুহাম্মদ রইস, সাংবাদিক মাঈনুল আলম, ড. শাকিলা জেসমিন, মাইদুর রহমান রুবেল ও আনোয়ার হোসেন। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী দলের বিতার্কিকদের ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।

রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/সা.সি
পাঠকের মন্তব্য

সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সংবাদ


অন্যান্য সংবাদ