ATN
শিরোনাম
  •  

ইতালিতে মানবপাচারের সময় সাগরে নৌকা ডুবে ০৮ বাংলাদেশির মৃত্যু, সিআইডির হাতে গ্রেফতার ০২

         
ইতালিতে মানবপাচারের সময় সাগরে নৌকা ডুবে ০৮ বাংলাদেশির মৃত্যু,  সিআইডির হাতে গ্রেফতার ০২

ইতালিতে মানবপাচারের সময় সাগরে নৌকা ডুবে ০৮ বাংলাদেশির মৃত্যু, সিআইডির হাতে গ্রেফতার ০২

ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার চেষ্টাকালে নৌকা ডুবিতে ০৮ বাংলাদেশির মৃত্যুর ঘটনায় মানব পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ০২ জনকে গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সিআইডির মানব পাচার ইউনিট ( টিএইচবি) ইউনিটের একটি দল গত ১৬/০৯/২০২৬ খ্রি. সন্ধ্যায় মাদারীপুর জেলার রাজৈর থানাধীন টেকেরহাট বাজার এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে। তদন্তেপ্রাপ্ত গ্রেফতারকৃতদের নাম (০১) মো. রফিকুল ইসলাম রফিক বাঘা (৫৪), পিতা- মৃত আশরাফ আলী বাঘা, গ্রাম- পূর্ব সরমঙ্গল, থানা- রাজৈর, জেলা-মাদারীপুর এবং (০২) মো. আমির হোসেন স্বপন (৩৮), পিতা- মৃত দেলোয়ার হোসেন, গ্রাম- কানোরিয়া, থানা- মুকসুদপুর, জেলা- গোপালগঞ্জ।

মামলার এজাহার হতে জানা যায় যে, ০৯/১২/ ২০২৩ খ্রি. থেকে ১৪/০২/ ২০২৪ খ্রি. তারিখ পর্যন্ত স্থানীয় বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের লিবিয়া থেকে সমুদ্রপথে ইতালি পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। এ সময় ভূমধ্যসাগরের তিউনিসিয়া উপকূলে নৌকা ডুবে ০৮ জন বাংলাদেশি মৃত্যুবরণ করেন। পরবর্তীতে নিহতদের মরদেহ সরকারি ব্যবস্থাপনায় দেশে ফিরিয়ে এনে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। মামলার ঘটনাস্থল থেকে বেঁচে ফেরা একমাত্র ভিকটিম বিজ্ঞ আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম ও ঠিকানা প্রকাশ করেন।

সিআইডির তদন্তে জানা যায়, একটি সংঘবদ্ধ মানব পাচারকারী চক্র ভিকটিমদের বৈধভাবে ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে তাদের পরিবারের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ গ্রহণ করে। পরবর্তীতে তাদের অবৈধভাবে লিবিয়া থেকে ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে করে সমুদ্রপথে ইতালি পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। এ সময় তিউনিসিয়া উপকূলে ট্রলারটি ডুবে গেলে ০৮ জন বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়।

গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তারা নিহত ভিকটিম রাসেল শেখ (১৯)-এর পরিবারের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ, মানব পাচারকারী চক্রের অন্যান্য সদস্যদের কাছে অর্থ পৌঁছে দেওয়া এবং তাকে বিদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করার কথা জানিয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের আইনি প্রক্রিয়া মোতাবেক বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত মো. রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে মাদারীপুর এর রাজৈর থানার মামলা নং- ২৪, তারিখ- ১৪/০৫/২০২৬ খ্রি.; ধারা- মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২ এর ৬/৭/৮/৯/১০ তৎসহ পেনাল কোড-১৮৬০ এর ৩০২ মামলা সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যায়।

বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে সিআইডি। মামলাটির তদন্তে গ্রেফতারকৃতদের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তি, পলাতক আসামি এবং চক্রটির দেশি-বিদেশি সহযোগী ও সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের শনাক্ত করতে সিআইডির তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। উল্লেখ্য যে অত্র মামলা সংক্রান্তে ইতোপূর্বে (০১) গুরুদাস বারই (৪৫) এবং (০২) মো. মোতলেব মাতব্বর (৬৮) নামীয় দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

সিআইডি বিদেশে কর্মসংস্থান, অভিবাসন বা ভ্রমণের ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রলোভনে পড়ে যাচাই-বাছাই ছাড়া অর্থ বা পাসপোর্ট হস্তান্তর না করতে দেশের নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে। বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সরকার অনুমোদিত ও বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বৈধতা যথাযথভাবে যাচাই করার জন্য সকলকে অনুরোধ করা হচ্ছে।

এছাড়াও কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ভিসা পাইয়ে দেওয়ার নামে অস্বাভাবিক অঙ্কের অর্থ দাবি করলে, পাসপোর্ট জিম্মি করে রাখলে অথবা ভিসা জালিয়াতি, মানবপাচার কিংবা অবৈধ অভিবাসনের সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহ হলে দ্রুত নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অথবা সিআইডিকে অবহিত করার জন্যও অনুরোধ করা হচ্ছে।

রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/সা.সি
পাঠকের মন্তব্য

সংশ্লিষ্ট জাতীয় সংবাদ


অন্যান্য সংবাদ