আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী বলেছেন, মানবপাচার প্রতিরোধে আইনকে আরো কার্যকর করার পাশাপাশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি, সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ এবং বিচারপ্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে হবে।
আজ রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে আইন মন্ত্রণালয় ও জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তর (ইউএনওডিসি) আয়োজিত ‘মানব পাচার এবং অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার প্রতিক্রিয়া শক্তিশালীকরণ’ বিষয়ক জাতীয় পরামর্শ সভা’য় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, মানবপাচার প্রতিরোধের লক্ষ্যে বিভিন্ন আইন সংশোধন ও নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। তিনি বলেন, অনলাইন জুয়া, অনলাইনের মাধ্যমে সংঘটিত পাচারসহ বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডকে আইনি কাঠামোর আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নতুন জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬ প্রণয়ন করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মানবপাচারবিষয়ক প্রোটোকল অনুমোদন করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে দেওয়া অঙ্গীকার অনুযায়ী বাংলাদেশ এ বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছে। তবে মামলা পরিচালনা ও বিচারপ্রক্রিয়ায় কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না থাকা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জনবল, অভিযোগকারীদের সহযোগিতা এবং প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহে সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
বিচারপ্রক্রিয়ার ধীরগতির প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সারা দেশে প্রায় ৪৬ লাখ মামলা বিচারাধীন রয়েছে, যার বিপরীতে বিচারকের সংখ্যা প্রায় ২ হাজার ৪০০ জন। সরকার মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে কাজ করছে। বিদেশে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে যাওয়া বাংলাদেশিদের বিষয়ে তিনি বলেন, জীবিকা ও উন্নত ভবিষ্যতের সন্ধানে মানুষকে বিদেশে যাওয়া থেকে সম্পূর্ণভাবে বিরত রাখা সম্ভব নয়। তবে বিদেশে গিয়ে অনিয়মিত অভিবাসীতে পরিণত হয়ে অনেক বাংলাদেশি নানা ধরনের দুর্ভোগের শিকার হন। তাদের অধিকার সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সহযোগিতা প্রয়োজন।
আইনমন্ত্রী বলেন, লিগ্যাল এইড অধিদপ্তর অসহায় ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশাপাশি অভিবাসী কর্মীদেরও আইনগত সহায়তা প্রদান করছে। বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে থাকা বাংলাদেশি অভিবাসীরা প্রয়োজন হলে লিগ্যাল এইডের হটলাইনের মাধ্যমে সহায়তা নিতে পারেন।
মাদক অপরাধ মোকাবিলার প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংশোধিত আইন মাদকসংক্রান্ত অপরাধ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি আরো বলেন, অনলাইনে মাদক বিক্রি ও ক্রয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। এ ধরনের অপরাধ মোকাবিলায় সরকার পুলিশের একটি পৃথক সাইবার ইউনিট প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছে।
আইন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. খাদেম উল কায়েসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইউএনওডিসির দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক প্রতিনিধি ক্রিস্টিয়ান হোলগে। অনুষ্ঠানে আইন মন্ত্রণালয়, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, বিচার বিভাগ, ইউএনওডিসি এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/সা.সি
আজ রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে আইন মন্ত্রণালয় ও জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তর (ইউএনওডিসি) আয়োজিত ‘মানব পাচার এবং অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার প্রতিক্রিয়া শক্তিশালীকরণ’ বিষয়ক জাতীয় পরামর্শ সভা’য় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, মানবপাচার প্রতিরোধের লক্ষ্যে বিভিন্ন আইন সংশোধন ও নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। তিনি বলেন, অনলাইন জুয়া, অনলাইনের মাধ্যমে সংঘটিত পাচারসহ বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডকে আইনি কাঠামোর আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নতুন জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬ প্রণয়ন করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মানবপাচারবিষয়ক প্রোটোকল অনুমোদন করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে দেওয়া অঙ্গীকার অনুযায়ী বাংলাদেশ এ বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছে। তবে মামলা পরিচালনা ও বিচারপ্রক্রিয়ায় কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না থাকা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জনবল, অভিযোগকারীদের সহযোগিতা এবং প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহে সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
বিচারপ্রক্রিয়ার ধীরগতির প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সারা দেশে প্রায় ৪৬ লাখ মামলা বিচারাধীন রয়েছে, যার বিপরীতে বিচারকের সংখ্যা প্রায় ২ হাজার ৪০০ জন। সরকার মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে কাজ করছে। বিদেশে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে যাওয়া বাংলাদেশিদের বিষয়ে তিনি বলেন, জীবিকা ও উন্নত ভবিষ্যতের সন্ধানে মানুষকে বিদেশে যাওয়া থেকে সম্পূর্ণভাবে বিরত রাখা সম্ভব নয়। তবে বিদেশে গিয়ে অনিয়মিত অভিবাসীতে পরিণত হয়ে অনেক বাংলাদেশি নানা ধরনের দুর্ভোগের শিকার হন। তাদের অধিকার সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সহযোগিতা প্রয়োজন।
আইনমন্ত্রী বলেন, লিগ্যাল এইড অধিদপ্তর অসহায় ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশাপাশি অভিবাসী কর্মীদেরও আইনগত সহায়তা প্রদান করছে। বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে থাকা বাংলাদেশি অভিবাসীরা প্রয়োজন হলে লিগ্যাল এইডের হটলাইনের মাধ্যমে সহায়তা নিতে পারেন।
মাদক অপরাধ মোকাবিলার প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংশোধিত আইন মাদকসংক্রান্ত অপরাধ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি আরো বলেন, অনলাইনে মাদক বিক্রি ও ক্রয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। এ ধরনের অপরাধ মোকাবিলায় সরকার পুলিশের একটি পৃথক সাইবার ইউনিট প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছে।
আইন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. খাদেম উল কায়েসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইউএনওডিসির দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক প্রতিনিধি ক্রিস্টিয়ান হোলগে। অনুষ্ঠানে আইন মন্ত্রণালয়, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, বিচার বিভাগ, ইউএনওডিসি এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/সা.সি
