ATN
শিরোনাম
  •  

বরগুনা আদালতে আসামির হামলা, আহত ৩ পুলিশ

         
বরগুনা আদালতে আসামির হামলা, আহত ৩ পুলিশ

বরগুনা আদালতে আসামির হামলা, আহত ৩ পুলিশ

বরগুনায় আদালতের এজলাসের ভেতরে এক আসামির হামলায় তিন পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আদালতের বিচারক জামিন নামঞ্জুর করায় এ হামলা করেন তিনি। পরে এ ঘটনায় অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলাম ওই আসামিকে এক বছরের কারাদণ্ড দেন।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের এজলাসে এ ঘটনা ঘটে। দণ্ডপ্রাপ্ত ওই আসামি হলেন বরগুনা সদর উপজেলার ২ নম্বর গৌরীচন্না ইউনিয়নের ছোট গৌরীচন্না এলাকার বাসিন্দা মো. বশির।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, একটি সিআর মামলায় অস্থায়ী জামিনে ছিলেন বশির। বুধবার ওই মামলায় তার জামিনের আবেদন শুনানি হয়। শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।

এতে বশির আদালতের ভেতরেই উত্তেজিত হয়ে পড়েন। জামিন কেন নামঞ্জুর করা হয়েছে, তা জানতে চেয়ে তিনি বিচারকের কাছে একের পর এক প্রশ্ন করতে থাকেন। এ সময় তিনি উচ্চবাচ্য ও অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

এজলাসে উপস্থিত আইনজীবীরা তাকে শান্ত হওয়ার জন্য বললেও তিনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেননি। পরে দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যরা তাকে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে আদালত থেকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তিনি তাদের ওপর চড়াও হন এবং মারধর করেন।

এ ঘটনায় পুলিশ সদস্য মো. সিদ্দিক, মো. শাহজাহান ও হনুফা আহত হন।

ঘটনার পর অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলাম তাৎক্ষণিকভাবে একটি সিআর মামলা আমলে নেন। পরে উপস্থিত সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বশিরকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।

অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এপিপি অ্যাডভোকেট মো. কামরুল ইসলাম ফরাজি বলেন, জামিন আবেদন নামঞ্জুরের পর আসামি এজলাসে উত্তেজিত হয়ে পড়েন। পরে পুলিশ তাকে হ্যান্ডকাপ পরাতে গেলে তিনি পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা করেন।

বরগুনা জেলা সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফা কাদের বলেন, আজকে আদালতের এজলাসে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। বশির নামে এক আসামি স্বেচ্ছায় আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। জামিনের বিষয় আদেশের সময় ওই আসামি উত্তেজিত হয়ে পড়েন। এরপর আদালত থেকে তাকে নিয়ে যেতে পুলিশ সদস্যরা এলে তাদের ওপরও হামলা করেন। একজন আইনজীবী ও সুজনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। এটা বিচার বিভাগের জন্য একটি হুমকি।

এ বিষয়ে জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যডভোকেট নুরুল আমিন বলেন, আদালতে হাজির হওয়া এক আসামিকে বিচারক জেল হাজতে পাঠানোর আদেশ দেন। এতে ওই আসামি উত্তেজিত হয়ে উচ্চবাচ্য করেন। একপর্যায়ে পুলিশ থাোতে গেলে তাদেরকে গায়ে হাত তোলাসহ ধাক্কাধাক্কি করেন। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে আদালতের বিচারক ৩২৩ ধারায় এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।

রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/সা.সি
পাঠকের মন্তব্য

সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ সংবাদ


অন্যান্য সংবাদ