ATN
শিরোনাম
  •  

ইসলামী ব্যাংকের সামনে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক

         
ইসলামী ব্যাংকের সামনে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক

ইসলামী ব্যাংকের সামনে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক

ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সচেতন গ্রাহক ফোরামের সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৫৫ জন আহত হয়েছেন বলে দুই পক্ষের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

আহতদের কয়েকজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে এ ঘটনা ঘটে। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই পক্ষকে সরিয়ে দেয়।

জানা গেছে, এস আলম গ্রুপের সময়ে নিয়োগ পাওয়া এবং পরে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চাকরি পুনর্বহালের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। একই সময়ে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা সেখানে অবস্থান নিলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়।

গ্রাহক ফোরামের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, চাকরিচ্যুত ব্যক্তিরাই প্রথমে তাঁদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলা চালান। এতে ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক নুর নবী মানিকসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়।

হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

অন্যদিকে, চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিযোগ, গ্রাহক ফোরামের সদস্যরাই তাঁদের ওপর প্রথমে হামলা চালিয়েছেন। তাঁদের পক্ষ থেকে অন্তত ২৫ জন আহত হওয়ার দাবি করা হয়েছে।

চাকরিচ্যুতদের একজন শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা দ্বিতীয় দিনের মতো ব্যাংকের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলাম। সেখানে উপস্থিত হওয়ার প্রায় ২০ মিনিটের মধ্যে গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা আমাদের ওপর হামলা চালান। পরে পুলিশ আমাদের সরিয়ে দেয়। আহতদের মধ্যে ২০ থেকে ২৫ জন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।’

সংঘর্ষের পর ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম সংবাদ সম্মেলন করে হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানায়।

সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক নুর নবী মানিক বলেন, সৎ, যোগ্য ও পেশাদার ব্যক্তিদের সমন্বয়ে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ গঠন এবং ব্যাংকে এস আলম গ্রুপের ‘অশুভ হস্তক্ষেপের’ প্রতিবাদে তাঁরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছিলেন। কর্মসূচি শুরুর পর আগে থেকে সেখানে অবস্থান নেওয়া একদল ব্যক্তি শেয়ারহোল্ডার ও গ্রাহকদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তাঁর দাবি, হামলায় ফোরামের সহসভাপতি ও ব্যবসায়ী মোতাছিম বিল্লাহসহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। সিসিটিভি ফুটেজ ও গণমাধ্যমকর্মীদের ধারণ করা ভিডিও দেখে হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি।

অধ্যাপক নুর নবী মানিক আরও বলেন, ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম একটি অরাজনৈতিক সংগঠন। ব্যাংকের প্রায় তিন কোটি গ্রাহকের আমানতের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সাত দফা দাবিতে তাঁরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে কর্মসূচি পালন করছেন।

তিনি অভিযোগ করেন, হামলার সঙ্গে এস আলমের সময়ে নিয়োগ পাওয়া ও পরে চাকরিচ্যুত ব্যক্তিদের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ এবং তাদের সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করা ছাত্রলীগ ও যুবলীগের লোকজনও জড়িত থাকতে পারেন। তবে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগের পক্ষে নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির নাম বা প্রমাণ তুলে ধরা হয়নি।

গ্রাহক ফোরামের সভাপতির দাবি, অন্তর্বর্তী সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োগ দেওয়া চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে এস আলমের সময়ে নিয়োগ পাওয়া কয়েকজনকে ইসলামী ব্যাংক থেকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁদের পাওনাও পরিশোধ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে, সংঘর্ষের বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মহসীন আল মুরাদ বলেন, সকালের সংঘর্ষের ঘটনা সম্পর্কে তিনি অবগত নন। বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবস্থান করছেন। কেপিআইভুক্ত প্রতিষ্ঠান হওয়ায় তাঁদের সেখান থেকে চলে যেতে বলা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।

রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/সা.সি
পাঠকের মন্তব্য

সংশ্লিষ্ট অর্থনীতি সংবাদ


অন্যান্য সংবাদ