ATN
শিরোনাম
  •  

ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ বন্ধ না হলে জ্বালানি সংকট নিরসন সম্ভব নয়: রিজভী

         
ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ বন্ধ না হলে জ্বালানি সংকট নিরসন সম্ভব নয়: রিজভী

ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ বন্ধ না হলে জ্বালানি সংকট নিরসন সম্ভব নয়: রিজভী

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে দেশের জ্বালানি সংকট পুরোপুরি নিরসন করা সম্ভব নয়। তবে সংকট মোকাবিলায় সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীতে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে ফাতেহা পাঠ ও পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন রিজভী।

তিনি বলেন, দেশে গ্যাস ও জ্বালানি সংকট রয়েছে। এটি শুধু বাংলাদেশের একক কোনো সমস্যা নয়, বরং আন্তর্জাতিক সংকট। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত কোনো একক রাষ্ট্রের পক্ষে এ সংকট পুরোপুরি সমাধান করা কঠিন।

রিজভী বলেন, হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগর দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহন করা হয়। ওই অঞ্চলে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশের সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশ থেকে গ্যাস আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, মিয়ানমার, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে গ্যাস আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে গ্যাসবাহী কার্গো দেশে আসছে।

তিনি আরও বলেন, মহেশখালীর গভীর সমুদ্রের টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে কিছু সময় গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছিল। ত্রুটি মেরামতের পর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে।

জনদুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে প্রয়োজনে সরকার আরও ভর্তুকি দিয়ে গ্যাস ও জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নিচ্ছে বলেও জানান রিজভী। এ জন্য অতিরিক্ত ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

দেশে মূল্যস্ফীতি কমেছে দাবি করে রিজভী বলেন, আগস্ট মাসে মূল্যস্ফীতি কমেছে। সাধারণত বর্ষা শেষে শরৎকালে খাদ্যপণ্য, শাকসবজি, চাল, ডাল ও লবণের দাম বাড়ার প্রবণতা থাকে। তবে সরকারের বাজার হস্তক্ষেপের কারণে প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়েনি বলে দাবি করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, সামাজিক সুরক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’সহ ইমাম-মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের সম্মানী ভাতার মতো কর্মসূচির মাধ্যমে মানুষের জীবনমান উন্নয়নের চেষ্টা চলছে। পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্যের মধ্যে ইতোমধ্যে এক হাজার কিলোমিটারের বেশি খাল খনন হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

বিদেশে কর্মসংস্থান বাড়াতেও সরকার কাজ করছে জানিয়ে রিজভী বলেন, কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবার খুলে দেওয়া হয়েছে। ফলে এখন বাংলাদেশি শ্রমিকরা দেশটিতে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।

তিনি বলেন, একটি দেশের জনগণের জন্য সামগ্রিক কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা গেলে সেই দেশ উন্নয়নের পথে দ্রুত এগিয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে নারীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নারীর ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর সুবিধা পরিবারের নারী অভিভাবকের হাতে দেওয়া হচ্ছে। পরিবারের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নারীরা হাঁস-মুরগি ও ছাগল পালনসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকেন। তাদের হাতে সরাসরি আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হলে তা পরিবারের আর্থিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।

রিজভী বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া মেয়েদের দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই সুবিধা বিএ ও বিএ (অনার্স) পর্যন্ত সম্প্রসারণের ঘোষণা দিয়েছেন। এসব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা।

জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের প্রতিষ্ঠার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নারীদের ক্ষমতায়ন ছাড়া কোনো সমাজ বা সভ্যতার পূর্ণ বিকাশ সম্ভব নয়—এই দর্শন থেকেই শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ৪৮ বছর আগে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সেই আদর্শ ধারণ করেই জাতীয়তাবাদী মহিলা দল সামনে এগিয়ে যাবে।

রিজভী বলেন, জাতীয়তাবাদী মহিলা দল দেশের অন্যতম শক্তিশালী নারী সংগঠন। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ করেছেন এবং নির্যাতনের শিকার পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছেন।

মতপ্রকাশের কারণে রাতে নারীদের গ্রেপ্তার কিংবা নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় সংগঠনের নেতাকর্মীরা সংশ্লিষ্ট পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। খাদিজা, মিতু, নুসরাত, রূপাসহ বিভিন্ন নারী নির্যাতনের ঘটনায় সংগঠনটি রাজপথে প্রতিবাদ করেছে বলে জানান রিজভী।

এ সময় অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় উল্লাস প্রকাশকারীদের সমালোচনা করেন তিনি। রিজভী বলেন, যারা নারীর ওপর হামলা চালায় এবং সেই ঘটনায় উল্লাস প্রকাশ করে, তারা ‘কাপুরুষ’ ও ‘বর্বর’।

তিনি বলেন, জুলাইয়ের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ভূমিকা রাখা একজন নারীর ওপর হামলা অত্যন্ত ঘৃণ্য ও নিকৃষ্ট কাপুরুষোচিত কাজ।

ঘটনার নিন্দা জানিয়ে রিজভী বলেন, জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের পক্ষ থেকেও এর তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। সংসদেও সব দল একসঙ্গে এ ঘটনার প্রতিবাদ করেছে বলে জানান তিনি।

এটিএন নিউজ/মা.ই.স
পাঠকের মন্তব্য

সংশ্লিষ্ট রাজনীতি সংবাদ


অন্যান্য সংবাদ