ATN
শিরোনাম
  •  

নেপালে আকস্মিক বন্যায় ভয়াবহ পরিস্থিতি, মর্গগুলোতেও আর জায়গা নেই

         
নেপালে আকস্মিক বন্যায় ভয়াবহ পরিস্থিতি, মর্গগুলোতেও আর জায়গা নেই

নেপালে আকস্মিক বন্যায় ভয়াবহ পরিস্থিতি, মর্গগুলোতেও আর জায়গা নেই

নেপালের ভোটেকোশি জেলায় আকস্মিক বন্যায় ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। প্রবল স্রোতে মরদেহগুলো ভেসে গিয়ে দূরের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়ায় উদ্ধারকারী দল ও স্থানীয় প্রশাসনকে নতুন করে সংকটের মুখে পড়তে হচ্ছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৫৪৭টি মরদেহ উদ্ধারের তথ্য জানিয়েছে নেপাল পুলিশ।

গত বুধবার ভোটেকোশি নদীতে শক্তিশালী আকস্মিক বন্যার পর ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে। বন্যার পানির তীব্র স্রোতে অনেক মরদেহ মূল ঘটনাস্থল থেকে দূরের বিভিন্ন এলাকায় চলে যায়। ফলে বর্তমানে ভাটির বিভিন্ন জেলা থেকেই বেশি মরদেহ উদ্ধার করা হচ্ছে।

নেপালের সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্ট জানিয়েছে, রাসুয়া ও নুয়াকোট জেলার নিখোঁজ ব্যক্তিদের মরদেহ পাওয়া যাচ্ছে চিতওয়ান, তানাহুন, নাওয়ালপারাসিসহ বিভিন্ন এলাকায়। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে চিতওয়ানে ত্রিশূলি ও নারায়ণি নদীর তীরবর্তী এলাকা থেকে ১৩৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবারও ওই এলাকায় মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে।

মরদেহের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় বিভিন্ন জেলার হাসপাতাল ও মর্গে জায়গার সংকট তৈরি হয়েছে। নুয়াকোট, ধাদিং ও নাওয়ালপারাসির মর্গে প্রায় ধারণক্ষমতা শেষ হয়ে যাওয়ায় কিছু মরদেহ পার্শ্ববর্তী জেলার মর্গে পাঠানো হয়েছে।

চিতওয়ান হাসপাতালের মর্গেও জায়গা না থাকায় সেখানে অস্থায়ী মর্গ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাধারণত তাদের মর্গে ৩০ থেকে ৫০টি মরদেহ রাখা সম্ভব। নতুন অস্থায়ী মর্গে প্রায় ২৫০টি মরদেহ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

এদিকে অন্যান্য জেলা থেকে মরদেহ আসতে থাকায় পোখরার হাসপাতালের মর্গেও জায়গা সংকট দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

চিতওয়ানে সবচেয়ে বেশি মরদেহ উদ্ধারের কারণে নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকার মানুষ সেখানে ছুটে আসছেন। একদিকে মরদেহ উদ্ধার ও সংরক্ষণ, অন্যদিকে পরিচয় শনাক্ত করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর—দুই কাজ সামাল দিতে প্রশাসন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ব্যাপক চাপের মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে।

প্রবল বন্যার পর মরদেহ দূরের জেলাগুলোতে ভেসে যাওয়ায় নিখোঁজদের সন্ধান আরও জটিল হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোতে উদ্ধার কার্যক্রমের পাশাপাশি মরদেহ শনাক্তকরণ ও সংরক্ষণের কাজও জোরদার করা হয়েছে।

সূত্র: কাঠমান্ডু পোস্ট

রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/সা.সি
পাঠকের মন্তব্য

সংশ্লিষ্ট বিশ্ব সংবাদ


অন্যান্য সংবাদ