ATN
শিরোনাম
  •  

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ফের বন্যার শঙ্কা, উদ্ধারকাজ স্থগিত করল চীন

         
নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ফের বন্যার শঙ্কা, উদ্ধারকাজ স্থগিত করল চীন

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ফের বন্যার শঙ্কা, উদ্ধারকাজ স্থগিত করল চীন

গত ২৬ আগস্ট বুধবার নেপাল-তিব্বত ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা বা হড়পা বানের রেশ না কাটতেই সেই একই এলাকায় শিগগিরই আরও একটি বানের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ কারণে তিব্বতে উদ্ধারকাজ স্থগিত করেছে চীন।

আজ শুক্রবার চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন চ্যানেল সিসিটিভি নিশ্চিত করেছে এ তথ্য। সিসিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিব্বত-নেপাল সীমান্তের কাছের নতুন একটি ‘বেরিয়ার হ্রদের’ সন্ধান মিলেছে এবং যে কোনো সময়ে সেটির ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য সামনের আগামী তিন দিন তিব্বতে উদ্ধার কাজ স্থগিত থাকবে।

ব্যারিয়ার হ্রদ মূলত কোনো নদী বা জলপ্রবাহের পথ প্রাকৃতিকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়ে তৈরি হয়। গত বুধবার নেপালের সীমান্তবর্তী রাসুয়া জেলা ও তিব্বতের গিরং এলাকায় যে আকস্মিক বন্যা হয়েছিল, তার পেছনেও এমন একটি হ্রদের ভূমিকা ছিল।

জানা গেছে, তুষারধসের কারণে নেপাল-চীন সীমান্তের ভোতি কোশি নদীর শাখা লেহেন্দে নদীর একটি অংশে প্রাকৃতিকভাবে পানি আটকে যায়। এতে সেখানে একটি ব্যারিয়ার হ্রদের সৃষ্টি হয়। পরে পানির প্রবল চাপে সেই হ্রদ ভেঙে গেলে বিপুল পরিমাণ পানি লেহেন্দে নদী হয়ে ভোতি কোশিতে প্রবেশ করে। এর ফলে বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হঠাৎ বন্যা দেখা দেয়।

বন্যায় নেপালের রাসুয়া ও তিব্বতের গিরং এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয়ভাবে প্রায় ৫০০ মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে ৮৬৫ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন।

বন্যার পানির সঙ্গে নেমে আসা বিপুল পরিমাণ কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষে রাসুয়া, গিরংসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা চাপা পড়েছে। নেপালে এখনো উদ্ধার অভিযান চলছে।

এরই মধ্যে নতুন যে ব্যারিয়ার হ্রদটির সন্ধান মিলেছে, সেটি বুধবার ভেঙে পড়া হ্রদের আরও উজানে তিব্বতের ছোচেন খোলা ও পুরেপু সাংপো নদীর সংযোগস্থলের কাছে অবস্থিত।

বর্তমানে হ্রদটিতে প্রায় ২০ লাখ ঘনমিটার পানি রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই হ্রদ থেকে জল উপচে পড়তে শুরু করেছে। আগামী তিন দিনে আরও প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি ওই হ্রদে ঢুকতে পারে বলে সতর্কতা জারি করেছে চিন।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় হ্রদটির পানির স্তর এবং আশপাশের ভৌগোলিক পরিবর্তন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে চীনের জলসম্পদ মন্ত্রণালয়। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার গ্রামগুলো থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তার জন্য বেইজিং ও চেংদু থেকে বিশেষ দল পাঠানো হয়েছে।

নতুন হ্রদটি ভেঙে পড়লে নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় আবারও বড় ধরনের আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/সা.সি
পাঠকের মন্তব্য

সংশ্লিষ্ট বিশ্ব সংবাদ


অন্যান্য সংবাদ