ATN
শিরোনাম
  •  

নেপাল-চীন সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা, নিখোঁজ ১,৩০০ জনের মধ্যে ৭০০ জনই বিদেশি পর্যটক

         
নেপাল-চীন সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা, নিখোঁজ ১,৩০০ জনের মধ্যে ৭০০ জনই বিদেশি পর্যটক

নেপাল-চীন সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা, নিখোঁজ ১,৩০০ জনের মধ্যে ৭০০ জনই বিদেশি পর্যটক

নেপাল ও চীন সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা ৩৫০ ছাড়িয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ। নিখোঁজদের মধ্যে শত শত বিদেশি পর্যটকও রয়েছেন। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপে জীবিত মানুষের খোঁজ চালিয়ে গেলেও ভাঙা সড়ক, যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে কাজ কঠিন হয়ে পড়েছে।

বুধবার হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহের একটি বড় অংশ ধসে পড়ার পর এই বিপর্যয় ঘটে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বরফ, কাদা ও পাথরের বিশাল অংশ পাহাড়ি নদীতে পড়ে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি করে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই সীমান্তঘেঁষা বহু এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যায়।

নেপালের নুওয়াকোট, রাসুওয়া এবং ত্রিশুলি নদীঘেঁষা এলাকাগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেতু, সড়ক, ঘরবাড়ি এবং বিদ্যুৎ অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও কোথাও পুরো বাজার এলাকা কাদা ও পাথরের স্তূপে পরিণত হয়েছে। আকাশ থেকে তোলা ছবিতে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ এলাকা ধূসর কাদা ও ধ্বংসাবশেষে ঢেকে গেছে।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনেক স্থানে কৃষিজমি পুরোপুরি বিলীন হয়ে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েক ঘণ্টার স্রোতে ধানের ক্ষেত ও বসতি এলাকা নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। বহু পরিবার এখন খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছে।

এর মধ্যেই দেখা দিয়েছে নতুন উদ্বেগ। পাহাড় ধসে কয়েকটি স্থানে অস্থায়ী হ্রদ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এগুলোর কোনোটি ভেঙে গেলে আবারও আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে আগামী কয়েক দিনে আরও বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় ঝুঁকি বেড়েছে।

নিখোঁজদের খুঁজে পেতে বিশেষ ওয়েবসাইট চালু করেছে নেপাল পুলিশ। সেখানে পরিচয়হীন মরদেহের ছবি ও তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে। স্বজনরা অনলাইনে তথ্য খুঁজে দেখতে পারছেন। স্থানীয় প্রশাসন বলছে, দুর্গম এলাকায় এখনও অনেক মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন।

উদ্ধার কাজে নেপালের সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থাগুলো অংশ নিয়েছে। হেলিকপ্টার ব্যবহার করে দুর্গম এলাকায় ত্রাণ ও জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। তবে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির চিত্র জানতে আরও সময় লাগবে বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা।

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক, এটিএন নিউজ

রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/সা.সি
পাঠকের মন্তব্য

সংশ্লিষ্ট বিশ্ব সংবাদ


অন্যান্য সংবাদ