ভোতি কোশি নদীর পানি বৃদ্ধি ও আকস্মিক বন্যায় নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দুই অঞ্চলে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ১ হাজার ৩৮৪ জনে দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে প্রায় ৮০০ জন বিদেশি নাগরিক বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার নেপাল ও তিব্বতের সরকারি কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।
নেপালের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী রাসুয়া জেলায় নিখোঁজ রয়েছেন ৮২৬ জন। দেশটির পর্যটন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, তাদের মধ্যে প্রায় ৫০০ জন বিদেশি নাগরিক। নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ভারতের ১৭৭ জন, যুক্তরাষ্ট্রের ৬৩ জন, অস্ট্রেলিয়ার ৩৪ জন, যুক্তরাজ্যের ৩৩ জন এবং কানাডার ২৫ জন নাগরিক রয়েছেন। এ ছাড়া আরও বেশ কয়েকটি দেশের নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন।
বন্যার পর বিস্তীর্ণ এলাকায় জমে থাকা কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষের স্তূপ থেকে এখন পর্যন্ত ১৬৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকাজ ও তল্লাশি পুনরায় শুরু হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নেপাল পুলিশের মুখপাত্র আবি নারায়ণ কাফলে রয়টার্সকে বলেন, তল্লাশি পুনরায় শুরু হওয়ায় আরও মরদেহ উদ্ধারের আশঙ্কা রয়েছে এবং মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে।
অন্যদিকে, চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল সিসিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিব্বতের গিরং জেলায় ভোতি কোশি নদীর আকস্মিক বন্যায় ৫৫৮ জন নিখোঁজ হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক। বন্যার ধ্বংসস্তূপ থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধারের কথাও জানিয়েছে চীনা কর্তৃপক্ষ।
ভোতি কোশি নদীর হড়পা বানের সবচেয়ে ভয়াবহ আঘাত আসে তিব্বতের গিরং জেলার ওপর দিয়ে। যাচাইকৃত বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, গিরংয়ের একটি সীমান্ত ক্রসিংয়ে প্রবল পানির স্রোত ও ধ্বংসাবশেষের তোড়ে বহু মানুষ ভেসে যাচ্ছেন। একই স্রোত ভাটির দিকে নেপালের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে বাড়িঘর, সড়ক ও বিদ্যুৎ প্রকল্পের ব্যাপক ক্ষতি করেছে।
বন্যা থেকে প্রাণে বেঁচে গেলেও স্ত্রীকে হারিয়েছেন নেপালের ৬৮ বছর বয়সী কেশব প্রসাদ বরাল। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি রয়টার্সকে জানান, হঠাৎ বিশাল কাদার স্রোত তাদের বাড়ির দিকে ধেয়ে আসে। স্ত্রীকে নিয়ে ছাদে ওঠার চেষ্টা করলেও স্রোতের তোড়ে তিনি ভেসে যান।
কেশব বলেন, প্রায় চার ঘণ্টা পর একটি হেলিকপ্টার এসে তাকে বাড়ির ছাদ থেকে উদ্ধার করে। তবে তার স্ত্রী এখনও কাদার নিচে কোথাও চাপা পড়ে আছেন বলে ধারণা করছেন তিনি।
ভয়াবহ এই বন্যায় নেপাল ও তিব্বতের সীমান্তবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা, বসতবাড়ি ও অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধারকারী দলগুলো তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে।
সূত্র : রয়টার্স
রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/সা.সি
বৃহস্পতিবার নেপাল ও তিব্বতের সরকারি কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।
নেপালের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী রাসুয়া জেলায় নিখোঁজ রয়েছেন ৮২৬ জন। দেশটির পর্যটন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, তাদের মধ্যে প্রায় ৫০০ জন বিদেশি নাগরিক। নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ভারতের ১৭৭ জন, যুক্তরাষ্ট্রের ৬৩ জন, অস্ট্রেলিয়ার ৩৪ জন, যুক্তরাজ্যের ৩৩ জন এবং কানাডার ২৫ জন নাগরিক রয়েছেন। এ ছাড়া আরও বেশ কয়েকটি দেশের নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন।
বন্যার পর বিস্তীর্ণ এলাকায় জমে থাকা কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষের স্তূপ থেকে এখন পর্যন্ত ১৬৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকাজ ও তল্লাশি পুনরায় শুরু হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নেপাল পুলিশের মুখপাত্র আবি নারায়ণ কাফলে রয়টার্সকে বলেন, তল্লাশি পুনরায় শুরু হওয়ায় আরও মরদেহ উদ্ধারের আশঙ্কা রয়েছে এবং মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে।
অন্যদিকে, চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল সিসিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিব্বতের গিরং জেলায় ভোতি কোশি নদীর আকস্মিক বন্যায় ৫৫৮ জন নিখোঁজ হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক। বন্যার ধ্বংসস্তূপ থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধারের কথাও জানিয়েছে চীনা কর্তৃপক্ষ।
ভোতি কোশি নদীর হড়পা বানের সবচেয়ে ভয়াবহ আঘাত আসে তিব্বতের গিরং জেলার ওপর দিয়ে। যাচাইকৃত বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, গিরংয়ের একটি সীমান্ত ক্রসিংয়ে প্রবল পানির স্রোত ও ধ্বংসাবশেষের তোড়ে বহু মানুষ ভেসে যাচ্ছেন। একই স্রোত ভাটির দিকে নেপালের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে বাড়িঘর, সড়ক ও বিদ্যুৎ প্রকল্পের ব্যাপক ক্ষতি করেছে।
বন্যা থেকে প্রাণে বেঁচে গেলেও স্ত্রীকে হারিয়েছেন নেপালের ৬৮ বছর বয়সী কেশব প্রসাদ বরাল। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি রয়টার্সকে জানান, হঠাৎ বিশাল কাদার স্রোত তাদের বাড়ির দিকে ধেয়ে আসে। স্ত্রীকে নিয়ে ছাদে ওঠার চেষ্টা করলেও স্রোতের তোড়ে তিনি ভেসে যান।
কেশব বলেন, প্রায় চার ঘণ্টা পর একটি হেলিকপ্টার এসে তাকে বাড়ির ছাদ থেকে উদ্ধার করে। তবে তার স্ত্রী এখনও কাদার নিচে কোথাও চাপা পড়ে আছেন বলে ধারণা করছেন তিনি।
ভয়াবহ এই বন্যায় নেপাল ও তিব্বতের সীমান্তবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা, বসতবাড়ি ও অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধারকারী দলগুলো তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে।
সূত্র : রয়টার্স
রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/সা.সি
