ATN
শিরোনাম
  •  

‘টক্সিক’-এ যশের দাপট, কিন্তু গল্পের ঘাটতিতে হতাশ সমালোচকেরা

         
‘টক্সিক’-এ যশের দাপট, কিন্তু গল্পের ঘাটতিতে হতাশ সমালোচকেরা

‘টক্সিক’-এ যশের দাপট, কিন্তু গল্পের ঘাটতিতে হতাশ সমালোচকেরা

কন্নড় সুপারস্টার যশের বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘টক্সিক: আ ফেইরিটেল ফর গ্রোন-আপস’ বিশ্বজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে। ‘কেজিএফ’ সিরিজের সাফল্যের পর প্রায় চার বছরের বিরতি শেষে বড় পর্দায় ফিরেছেন যশ। গীতু মোহনদাস পরিচালিত সিনেমাটি ঘিরে মুক্তির আগে দর্শকদের মধ্যে ছিল ব্যাপক আগ্রহ। অগ্রিম টিকিট বিক্রিতেও দেখা গেছে উন্মাদনা।

তবে মুক্তির পর সমালোচকদের প্রতিক্রিয়ায় সেই উচ্ছ্বাস অনেকটাই ম্লান। বেশির ভাগ রিভিউতেই সিনেমাটির নির্মাণ, অ্যাকশন, ভিজ্যুয়াল ও যশের অভিনয়ের প্রশংসা থাকলেও দুর্বল গল্প ও চিত্রনাট্যকে বড় সমস্যা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। অর্থাৎ, সিনেমায় আয়োজনের কোনো ঘাটতি নেই, কিন্তু গল্পই হয়ে উঠেছে সবচেয়ে বড় দুর্বলতা।

বলিউড হাঙ্গামা সিনেমাটিকে ৫-এর মধ্যে ২ রেটিং দিয়েছে। তাদের মতে, ‘টক্সিক’-এ স্টাইল থাকলেও গল্প ও গভীরতার অভাব রয়েছে। বিশাল পরিসরের নির্মাণ, অ্যাকশন এবং যশের পর্দা-দাপট নজর কাড়লেও দুর্বল চিত্রনাট্য, ধীর গতি ও আবেগের ঘাটতি সিনেমাটিকে প্রত্যাশিত উচ্চতায় নিতে পারেনি।

যশের রায়া চরিত্রের অভিনয় প্রশংসা পেলেও কিয়ারা আদভানির পারফরম্যান্সকে অন্যতম সেরা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। নয়নতারা, তারা সুতারিয়া ও হুমা কুরেশির অভিনয়ও প্রশংসিত হয়েছে। সিনেমাটোগ্রাফি, প্রোডাকশন ডিজাইন, ভিএফএক্স ও অ্যাকশন দৃশ্যেও ছিল বড় আয়োজন। কিন্তু এসব উপাদান থাকা সত্ত্বেও সিনেমাটি যথেষ্ট প্রাণবন্ত হয়ে উঠতে পারেনি বলে মত সমালোচকদের।

হিন্দুস্তান টাইমস আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তাদের রিভিউতে ‘টক্সিক’-কে ৫-এর মধ্যে মাত্র ১ দেওয়া হয়েছে। প্রায় ৩ ঘণ্টা ১৪ মিনিটের সিনেমাটিকে ‘আত্মাহীন’ এবং দর্শকের ধৈর্যের পরীক্ষা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। রিভিউ অনুযায়ী, অতিরিক্ত চরিত্র ও বারবার অ্যাকশনের কারণে মূল গল্পের সঙ্গে দর্শকের সংযোগ দুর্বল হয়ে পড়ে। রায়া চরিত্রকে শক্তিশালী ও অপরাজেয় করে তুলতে গিয়ে গল্পের সংহতি নষ্ট হয়েছে বলেও মন্তব্য করা হয়েছে।

সিনেমায় একাধিক নারী চরিত্র থাকলেও তাদের অনেককেই মূল নায়ককে এগিয়ে নেওয়ার সহায়ক চরিত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে—এ বিষয়টিও সমালোচনায় উঠে এসেছে।

ইন্ডিয়া টুডের রিভিউতেও প্রায় একই ধরনের মন্তব্য পাওয়া গেছে। তাদের মতে, সিনেমায় স্টাইল থাকলেও শক্তিশালী বক্তব্যের ঘাটতি রয়েছে। তবে দ্বৈত চরিত্রে যশের অভিনয় এবং অ্যাকশন দৃশ্য প্রশংসা পেয়েছে। বিশেষ করে সার্কাসে রায়ার ওপর হামলার দৃশ্যটি আলাদাভাবে নজর কেড়েছে। নয়নতারা অভিনীত ‘গঙ্গা’ চরিত্রটি কার্যকর হলেও তাকে পর্যাপ্ত জায়গা দেওয়া হয়নি বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। কিয়ারার অভিনয় এখানেও প্রশংসিত।

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ‘টক্সিক’-কে ৫-এর মধ্যে ১.৫ রেটিং দিয়েছে এবং সিনেমাটিকে ‘অগভীর’ বলে মন্তব্য করেছে। তবে সব রিভিউ যে নেতিবাচক, তা নয়। এনডিটিভি তুলনামূলক ইতিবাচক অবস্থান নিয়ে সিনেমাটিকে ৩/৫ রেটিং দিয়েছে। যশের অভিনয়ের প্রশংসা করলেও তাদের মতে, বড় আয়োজন সত্ত্বেও ‘টক্সিক’ শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত ‘গ্যাংস্টার মহাকাব্য’ হয়ে উঠতে পারেনি।

সব মিলিয়ে ‘টক্সিক’-এর ক্ষেত্রে সমালোচকদের মতামতে একটি বিষয়ই সবচেয়ে বেশি ঘুরেফিরে আসছে—ভিজ্যুয়াল, অ্যাকশন, তারকা-দাপট ও নির্মাণের বিশালতা থাকলেও গল্প ও চিত্রনাট্যের দুর্বলতা সিনেমাটির সবচেয়ে বড় বাধা।

রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/সা.সি
পাঠকের মন্তব্য

সংশ্লিষ্ট বিনোদন সংবাদ


অন্যান্য সংবাদ