ATN
শিরোনাম
  •  

লিভার ভালো রাখতে ‘ডিটক্স’ নয়, নজর দিন প্রতিদিনের খাবারে

         
লিভার ভালো রাখতে ‘ডিটক্স’ নয়, নজর দিন প্রতিদিনের খাবারে

লিভার ভালো রাখতে ‘ডিটক্স’ নয়, নজর দিন প্রতিদিনের খাবারে

শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ লিভার। শরীরে প্রবেশ করা বিভিন্ন পদার্থ প্রক্রিয়াজাত করা, রক্ত থেকে কিছু ক্ষতিকর উপাদান অপসারণ, পিত্তরস তৈরি এবং রক্ত জমাট বাঁধার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে ভূমিকা রাখে অঙ্গটি। তাই লিভারের সুস্থতার জন্য কোনো নির্দিষ্ট ‘ডিটক্স খাবার’-এর ওপর নির্ভর না করে প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যালকোহল, অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন লিভারের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। তবে কোনো নির্দিষ্ট খাবার সরাসরি লিভারকে ‘পরিষ্কার’ বা ‘ডিটক্স’ করে—এমন দাবির পক্ষে শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। বরং সুষম খাদ্যাভ্যাস লিভারের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে। যেসব খাবার থাকতে পারে খাদ্যতালিকায়

রসুন: রসুনে সালফারযুক্ত বিভিন্ন যৌগ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। পরিমিত রসুন খাওয়া সামগ্রিক স্বাস্থ্য ও বিপাকীয় কার্যক্রমের জন্য উপকারী হতে পারে।

কমলা, মাল্টা ও লেবু: এসব ফলে ভিটামিন সি ও বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে এসব ফল খাওয়া সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

ব্রোকলি ও অন্যান্য সবজি: ব্রোকলি, ফুলকপি, বাঁধাকপিসহ ক্রুসিফেরাস সবজিতে ফাইবার ও বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ পুষ্টি উপাদান রয়েছে। নিয়মিত শাক-সবজি খাওয়া স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

হলুদ: হলুদে থাকা কারকিউমিনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহবিরোধী বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণা হয়েছে। তবে হলুদ বা কারকিউমিনকে কোনো লিভার রোগের চিকিৎসা হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।

আখরোট: এতে স্বাস্থ্যকর চর্বি, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। পরিমিত বাদাম খাওয়া সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে।

বিট ও গাজর: বিটে ফাইবার, ফোলেট ও উদ্ভিজ্জ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। অন্যদিকে গাজরে রয়েছে বিটা-ক্যারোটিনসহ বিভিন্ন ক্যারোটিনয়েড, যা শরীরে ভিটামিন এ তৈরিতে ভূমিকা রাখে।

গ্রিন টি: গ্রিন টিতে ক্যাটেচিন নামের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। তবে সাধারণ গ্রিন টি এবং ঘনত্ব বেশি গ্রিন টি-এক্সট্র্যাক্ট এক নয়। অতিরিক্ত গ্রিন টি-এক্সট্র্যাক্ট গ্রহণের সঙ্গে লিভারের ক্ষতির ঘটনাও দেখা গেছে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এ ধরনের সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ না করাই ভালো।

আপেল: আপেলে পেকটিনসহ বিভিন্ন ধরনের ফাইবার রয়েছে। পর্যাপ্ত ফাইবার হজম ও অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

অ্যাভোকাডো: এতে স্বাস্থ্যকর অসম্পৃক্ত চর্বি, ফাইবার ও বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ পুষ্টি উপাদান রয়েছে। পরিমিত পরিমাণে অ্যাভোকাডো সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে। খাবারের পাশাপাশি জীবনযাপনেও গুরুত্ব

লিভার সুস্থ রাখতে শুধু নির্দিষ্ট কিছু খাবার খাওয়াই যথেষ্ট নয়। অতিরিক্ত অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করা এবং অতিরিক্ত চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

লিভারের কোনো রোগ, অস্বাভাবিক লিভার এনজাইমের মাত্রা বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা থাকলে শুধু খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করে তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা উচিত নয়। এ ধরনের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/সা.সি
পাঠকের মন্তব্য

সংশ্লিষ্ট লাইফস্টাইল সংবাদ


অন্যান্য সংবাদ