এআই প্রশিক্ষণের পর এবার নিরাপদ ডেটা অবকাঠামোয় এক্সওয়াইজেড ক্লাউড
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোর সামনে নতুন একটি প্রশ্নও গুরুত্ব পাচ্ছে—কর্মীদের এআই ব্যবহারে দক্ষ করার পাশাপাশি সংবেদনশীল তথ্যের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা যাবে। এ দুই বিষয়কে একই কাঠামোর মধ্যে আনার উদ্যোগ নিয়েছে এক্সওয়াইজেড ক্লাউড বাংলাদেশ লিমিটেড।
প্রতিষ্ঠানটি এআই প্রশিক্ষণ, হাতে-কলমে অনুশীলন এবং নিরাপদ ক্লাউডভিত্তিক ডেটা ব্যবস্থাপনাকে সমন্বিত করতে ‘এক্সওয়াইজেড ক্লাউড এআই ল্যাব’, ‘অ্যাপ্লায়েড এআই অ্যাকসেলারেটর’ এবং ‘এক্সওয়াইজেড ড্রাইভস’—এই তিনটি উদ্যোগকে এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে।
প্রতিষ্ঠানটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, পেশাজীবীদের জন্য আগামী ৪ ও ৫ সেপ্টেম্বর দুই দিনব্যাপী ‘অ্যাপ্লায়েড এআই অ্যাকসেলারেটর ফর প্রফেশনালস’ প্রশিক্ষণ আয়োজন করা হবে। প্রশিক্ষণের পর অংশগ্রহণকারীদের জন্য থাকবে ৬০ দিনের নির্দেশিত অনুশীলন ও এআই ব্যবহারের সুযোগ।
প্রম্পটের বাইরে বাস্তব কর্মপ্রবাহ
পেশাগত কাজে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে শুধু ভালো প্রম্পট তৈরি করাকে যথেষ্ট মনে করছে না প্রতিষ্ঠানটি। বরং একটি কাজের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নির্দিষ্ট কর্মপ্রবাহ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রস্তাবিত কর্মপ্রবাহটি হলো—ব্রিফ, প্রেক্ষাপট, সীমাবদ্ধতা, খসড়া, যাচাই এবং উন্নয়ন। অর্থাৎ প্রথমে কাজের উদ্দেশ্য ও প্রত্যাশিত ফল নির্ধারণ, এরপর প্রয়োজনীয় তথ্য ও প্রেক্ষাপট যুক্ত করা, সীমাবদ্ধতা ঠিক করা, প্রাথমিক ফল তৈরি, তথ্য যাচাই এবং সবশেষে ফলাফল উন্নত করা।
এই পদ্ধতিতে বিপণন, মানবসম্পদ, সাংবাদিকতা, আর্থিক বিশ্লেষণ, শিক্ষা, করপোরেট যোগাযোগ ও প্রশাসনিক কাজের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের অনুশীলন করানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রশিক্ষণে বাস্তব কর্মক্ষেত্রভিত্তিক বিভিন্ন ঘটনা ও সমস্যা নিয়ে অনুশীলনের সুযোগ রাখার কথাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
দুই দিনের প্রশিক্ষণের পর ৬০ দিনের অনুশীলন
এক্সওয়াইজেড ক্লাউডের উদ্যোগটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার পরও শেখার সুযোগ চালু রাখা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, দুই দিনের সরাসরি প্রশিক্ষণের পর অংশগ্রহণকারীরা ৬০ দিন ধরে নির্দেশিত অনুশীলন, কাজ সংরক্ষণ এবং অভ্যন্তরীণ এআই ব্যবহারের সুযোগ পাবেন।
প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য শুধু বিভিন্ন এআই টুলের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া নয়; বরং অংশগ্রহণকারীরা যেন নিজেদের কর্মক্ষেত্রের বাস্তব সমস্যায় এআই প্রয়োগ করতে পারেন, সেই দক্ষতা তৈরি করা।
প্রশিক্ষণের অভিজ্ঞতা থেকে নতুন উদ্যোগ
পেশাগত প্রশিক্ষণে এক্সওয়াইজেড ক্লাউড বাংলাদেশের কার্যক্রম শুরু হয়েছে কয়েক বছর আগে। প্রতিষ্ঠানটি ২০২৩ সাল থেকে গেমপ্লিফাই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কমিউনিটি অনুষ্ঠান, কুইজ, সম্মেলন ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
পরবর্তী সময়ে কার্যক্রম পেশাগত প্রশিক্ষণেও বিস্তৃত হয়। ক্রীড়া সাংবাদিকতা বিষয়ক একটি কর্মশালায় পাঁচ শতাধিক ব্যক্তি নিবন্ধন করেন এবং ১৭০ জন সরাসরি অংশ নেন। এ ছাড়া এআই, তথ্য যাচাই, ডিজিটাল নিরাপত্তা ও পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন নিয়েও প্রশিক্ষণ আয়োজন করা হয়েছে।
একটি দুই দিনব্যাপী কর্মসূচিতে ৬০ জন সংবাদকর্মী অংশ নেন। চলতি বছরের মে মাসে ঢাকায় কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সদস্যদের জন্য সাত ব্যাচে সাত দিনব্যাপী প্রশিক্ষণও পরিচালনা করা হয়।
এ ছাড়া দেশের একটি বড় অনলাইন সংবাদমাধ্যমের ৫০ জনের বেশি কর্মীর জন্য হাতে-কলমে এআই প্রশিক্ষণ আয়োজন করে এক্সওয়াইজেড ক্লাউড বাংলাদেশ ও গেমপ্লিফাই।
এআই ব্যবহারে ডেটা নিরাপত্তার প্রশ্ন
এআই ব্যবহারের বিস্তারের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ডেটা নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। গোপন নথি, গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য, আর্থিক রেকর্ড, আইনগত দলিল বা অপ্রকাশিত কনটেন্ট এআই ব্যবস্থায় ব্যবহার করার ক্ষেত্রে তথ্য কোথায় যাচ্ছে, কে তা ব্যবহার করতে পারছে এবং তৈরি হওয়া ফলাফল কোথায় সংরক্ষিত হচ্ছে—এসব প্রশ্ন সামনে আসে।
এই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এক্সওয়াইজেড ক্লাউড বাংলাদেশ তাদের ‘এক্সওয়াইজেড ড্রাইভস’ উদ্যোগকে এআই ল্যাবের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা করছে।
প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এক্সওয়াইজেড ড্রাইভস ব্যবহারকারী-নিয়ন্ত্রিত এনক্রিপ্টেড স্টোরেজ, অনুমোদন ব্যবস্থা এবং গোপনীয়তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া ডেটা ব্যবস্থাপনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি একটি ক্লাউড অবকাঠামো। প্রতিষ্ঠানটি এর মূল প্রযুক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রে পেটেন্ট আবেদন প্রক্রিয়াধীন এনক্রিপ্টেড স্টোরেজ প্রযুক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছে।
ভল্টভিত্তিক ডেটা ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা
এক্সওয়াইজেড ড্রাইভসের পরিকল্পনায় আলাদা ‘ভল্ট’ বা নিরাপত্তা সীমানার ধারণা রয়েছে। এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট দল, প্রকল্প, গ্রাহক বা সংবেদনশীল কাজের তথ্যকে আলাদা নিরাপত্তা ও অনুমোদন কাঠামোর মধ্যে রাখার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
এক ভল্ট থেকে অন্য ভল্টে তথ্য স্থানান্তরের ক্ষেত্রেও এনক্রিপ্টেড ট্রান্সফারের ব্যবস্থা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। ভবিষ্যতে অঞ্চলভিত্তিক ডেটা সংরক্ষণ, প্রতিষ্ঠানভিত্তিক তথ্যনীতি এবং নির্দিষ্ট দেশ বা ক্লাউড পরিবেশে তথ্য সংরক্ষণের মতো নিয়ন্ত্রণ যুক্ত করার সুযোগও রাখা হচ্ছে।
অনুমতিসচেতন এআই ব্যবহারের লক্ষ্য
এআই ল্যাব ও ড্রাইভসের সমন্বিত ব্যবহারের একটি সম্ভাব্য ক্ষেত্র হলো প্রতিষ্ঠানভিত্তিক অনুমতিসচেতন এআই।
একটি প্রতিষ্ঠানের সব কর্মীর সব নথি দেখার অনুমতি থাকে না। সেই ক্ষেত্রে এমন একটি এআই কর্মপ্রবাহ প্রয়োজন হতে পারে, যেখানে কর্মী যে তথ্য ব্যবহারের অনুমতি রাখেন, এআইও কেবল সেই সীমার মধ্যেই তথ্য ব্যবহার করবে।
এ ধরনের ব্যবস্থায় কোন উৎস থেকে তথ্য নেওয়া হয়েছে, কোন সংস্করণের নথি ব্যবহার করা হয়েছে, কার অনুমোদন ছিল এবং কখন ফলাফল তৈরি হয়েছে—এসব তথ্য সংরক্ষণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে এআই ব্যবহারে জবাবদিহিতা বাড়ানোর পাশাপাশি তথ্য ব্যবহারের ইতিহাসও অনুসরণ করা সম্ভব হতে পারে।
ভবিষ্যতে ডিজিটাল কনটেন্টের উৎস, সময়, সংস্করণ ও হস্তান্তরের ইতিহাস সংরক্ষণ, ডিজিটাল চুক্তি, একাধিক পক্ষের অনুমোদন এবং প্রতিষ্ঠানভিত্তিক নথি থেকে অনুমতিসচেতন এআই উত্তর তৈরির মতো অ্যাপ্লিকেশন তৈরির পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
তবে এসব উদ্যোগের কিছু এখনো উন্নয়ন ও যাচাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে। বিশেষ করে ডিজিটাল মালিকানা, চুক্তি বা সম্মতির ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত রেকর্ড কোনো দেশের প্রচলিত আইনি কাঠামোর বিকল্প নয়। পরিচয় যাচাই, গোপনীয়তা, তথ্য সংরক্ষণ, তথ্য প্রত্যাহারের অধিকার এবং সংশ্লিষ্ট দেশের আইনও বিবেচনায় রাখতে হবে।
নিরাপত্তা দাবির স্বাধীন যাচাই গুরুত্বপূর্ণ
এআই প্রশিক্ষণ ও নিরাপদ ডেটা অবকাঠামোকে একই ব্যবস্থায় আনার উদ্যোগটি সম্ভাবনাময় হলেও এর বাস্তব সাফল্য নির্ভর করবে প্রযুক্তির কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা কতটা যাচাই করা যাচ্ছে তার ওপর।
নিরাপত্তা অবকাঠামোর ক্ষেত্রে স্বাধীন নিরাপত্তা পরীক্ষা, শক্তিশালী কী-ম্যানেজমেন্ট, তথ্য পুনরুদ্ধার ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা-ঘটনা মোকাবিলার নীতিমালা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে প্রযোজ্য আইন ও তথ্য সুরক্ষা নীতিমালা মেনে চলাও প্রয়োজন।
এ ছাড়া কোনো প্রযুক্তির পেটেন্ট আবেদন প্রক্রিয়াধীন থাকা এবং পেটেন্ট অনুমোদিত হওয়ার বিষয়টি এক নয়। ফলে প্রযুক্তিগত দাবির ক্ষেত্রে আবেদন ও অনুমোদনের অবস্থাও আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
ক্লাউড অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর লক্ষ্য
এক্সওয়াইজেড ক্লাউড বাংলাদেশের পরিকল্পনার পেছনে ক্লাউড অবকাঠামো ও বৃহৎ পরিসরের ডেটা ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্ল্যাটফর্ম আর্কিটেক্ট মো. মশিউর রহমানের প্রকাশ্য পেশাগত প্রোফাইলে অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেসের স্টোরেজ ডেটা প্লেন এবং ওরাকল ক্লাউড ইনফ্রাস্ট্রাকচারের টিয়ার-জিরো প্ল্যাটফর্মে কাজের অভিজ্ঞতার উল্লেখ রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, ক্লাউড ও ডিস্ট্রিবিউটেড সিস্টেম নিয়ে এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ডেটা সংরক্ষণ, অনুমোদন, নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ এআই ব্যবহারের জন্য একটি সমন্বিত কাঠামো তৈরির লক্ষ্য রয়েছে।
বাংলাদেশে এআই ব্যবহারের পরিধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এখন শুধু এআই ব্যবহার শেখাই নয়, নিজেদের তথ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে এআই ব্যবহারের সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এক্সওয়াইজেড ক্লাউড বাংলাদেশের পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য সেই দুই প্রয়োজন—পেশাগত এআই দক্ষতা ও নিরাপদ ডেটা ব্যবস্থাপনাকে—একই প্রযুক্তি কাঠামোর মধ্যে আনা।
রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/সা.সি
প্রতিষ্ঠানটি এআই প্রশিক্ষণ, হাতে-কলমে অনুশীলন এবং নিরাপদ ক্লাউডভিত্তিক ডেটা ব্যবস্থাপনাকে সমন্বিত করতে ‘এক্সওয়াইজেড ক্লাউড এআই ল্যাব’, ‘অ্যাপ্লায়েড এআই অ্যাকসেলারেটর’ এবং ‘এক্সওয়াইজেড ড্রাইভস’—এই তিনটি উদ্যোগকে এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে।
প্রতিষ্ঠানটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, পেশাজীবীদের জন্য আগামী ৪ ও ৫ সেপ্টেম্বর দুই দিনব্যাপী ‘অ্যাপ্লায়েড এআই অ্যাকসেলারেটর ফর প্রফেশনালস’ প্রশিক্ষণ আয়োজন করা হবে। প্রশিক্ষণের পর অংশগ্রহণকারীদের জন্য থাকবে ৬০ দিনের নির্দেশিত অনুশীলন ও এআই ব্যবহারের সুযোগ।
প্রম্পটের বাইরে বাস্তব কর্মপ্রবাহ
পেশাগত কাজে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে শুধু ভালো প্রম্পট তৈরি করাকে যথেষ্ট মনে করছে না প্রতিষ্ঠানটি। বরং একটি কাজের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নির্দিষ্ট কর্মপ্রবাহ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রস্তাবিত কর্মপ্রবাহটি হলো—ব্রিফ, প্রেক্ষাপট, সীমাবদ্ধতা, খসড়া, যাচাই এবং উন্নয়ন। অর্থাৎ প্রথমে কাজের উদ্দেশ্য ও প্রত্যাশিত ফল নির্ধারণ, এরপর প্রয়োজনীয় তথ্য ও প্রেক্ষাপট যুক্ত করা, সীমাবদ্ধতা ঠিক করা, প্রাথমিক ফল তৈরি, তথ্য যাচাই এবং সবশেষে ফলাফল উন্নত করা।
এই পদ্ধতিতে বিপণন, মানবসম্পদ, সাংবাদিকতা, আর্থিক বিশ্লেষণ, শিক্ষা, করপোরেট যোগাযোগ ও প্রশাসনিক কাজের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের অনুশীলন করানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রশিক্ষণে বাস্তব কর্মক্ষেত্রভিত্তিক বিভিন্ন ঘটনা ও সমস্যা নিয়ে অনুশীলনের সুযোগ রাখার কথাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
দুই দিনের প্রশিক্ষণের পর ৬০ দিনের অনুশীলন
এক্সওয়াইজেড ক্লাউডের উদ্যোগটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার পরও শেখার সুযোগ চালু রাখা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, দুই দিনের সরাসরি প্রশিক্ষণের পর অংশগ্রহণকারীরা ৬০ দিন ধরে নির্দেশিত অনুশীলন, কাজ সংরক্ষণ এবং অভ্যন্তরীণ এআই ব্যবহারের সুযোগ পাবেন।
প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য শুধু বিভিন্ন এআই টুলের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া নয়; বরং অংশগ্রহণকারীরা যেন নিজেদের কর্মক্ষেত্রের বাস্তব সমস্যায় এআই প্রয়োগ করতে পারেন, সেই দক্ষতা তৈরি করা।
প্রশিক্ষণের অভিজ্ঞতা থেকে নতুন উদ্যোগ
পেশাগত প্রশিক্ষণে এক্সওয়াইজেড ক্লাউড বাংলাদেশের কার্যক্রম শুরু হয়েছে কয়েক বছর আগে। প্রতিষ্ঠানটি ২০২৩ সাল থেকে গেমপ্লিফাই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কমিউনিটি অনুষ্ঠান, কুইজ, সম্মেলন ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
পরবর্তী সময়ে কার্যক্রম পেশাগত প্রশিক্ষণেও বিস্তৃত হয়। ক্রীড়া সাংবাদিকতা বিষয়ক একটি কর্মশালায় পাঁচ শতাধিক ব্যক্তি নিবন্ধন করেন এবং ১৭০ জন সরাসরি অংশ নেন। এ ছাড়া এআই, তথ্য যাচাই, ডিজিটাল নিরাপত্তা ও পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন নিয়েও প্রশিক্ষণ আয়োজন করা হয়েছে।
একটি দুই দিনব্যাপী কর্মসূচিতে ৬০ জন সংবাদকর্মী অংশ নেন। চলতি বছরের মে মাসে ঢাকায় কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সদস্যদের জন্য সাত ব্যাচে সাত দিনব্যাপী প্রশিক্ষণও পরিচালনা করা হয়।
এ ছাড়া দেশের একটি বড় অনলাইন সংবাদমাধ্যমের ৫০ জনের বেশি কর্মীর জন্য হাতে-কলমে এআই প্রশিক্ষণ আয়োজন করে এক্সওয়াইজেড ক্লাউড বাংলাদেশ ও গেমপ্লিফাই।
এআই ব্যবহারে ডেটা নিরাপত্তার প্রশ্ন
এআই ব্যবহারের বিস্তারের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ডেটা নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। গোপন নথি, গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য, আর্থিক রেকর্ড, আইনগত দলিল বা অপ্রকাশিত কনটেন্ট এআই ব্যবস্থায় ব্যবহার করার ক্ষেত্রে তথ্য কোথায় যাচ্ছে, কে তা ব্যবহার করতে পারছে এবং তৈরি হওয়া ফলাফল কোথায় সংরক্ষিত হচ্ছে—এসব প্রশ্ন সামনে আসে।
এই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এক্সওয়াইজেড ক্লাউড বাংলাদেশ তাদের ‘এক্সওয়াইজেড ড্রাইভস’ উদ্যোগকে এআই ল্যাবের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা করছে।
প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এক্সওয়াইজেড ড্রাইভস ব্যবহারকারী-নিয়ন্ত্রিত এনক্রিপ্টেড স্টোরেজ, অনুমোদন ব্যবস্থা এবং গোপনীয়তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া ডেটা ব্যবস্থাপনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি একটি ক্লাউড অবকাঠামো। প্রতিষ্ঠানটি এর মূল প্রযুক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রে পেটেন্ট আবেদন প্রক্রিয়াধীন এনক্রিপ্টেড স্টোরেজ প্রযুক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছে।
ভল্টভিত্তিক ডেটা ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা
এক্সওয়াইজেড ড্রাইভসের পরিকল্পনায় আলাদা ‘ভল্ট’ বা নিরাপত্তা সীমানার ধারণা রয়েছে। এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট দল, প্রকল্প, গ্রাহক বা সংবেদনশীল কাজের তথ্যকে আলাদা নিরাপত্তা ও অনুমোদন কাঠামোর মধ্যে রাখার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
এক ভল্ট থেকে অন্য ভল্টে তথ্য স্থানান্তরের ক্ষেত্রেও এনক্রিপ্টেড ট্রান্সফারের ব্যবস্থা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। ভবিষ্যতে অঞ্চলভিত্তিক ডেটা সংরক্ষণ, প্রতিষ্ঠানভিত্তিক তথ্যনীতি এবং নির্দিষ্ট দেশ বা ক্লাউড পরিবেশে তথ্য সংরক্ষণের মতো নিয়ন্ত্রণ যুক্ত করার সুযোগও রাখা হচ্ছে।
অনুমতিসচেতন এআই ব্যবহারের লক্ষ্য
এআই ল্যাব ও ড্রাইভসের সমন্বিত ব্যবহারের একটি সম্ভাব্য ক্ষেত্র হলো প্রতিষ্ঠানভিত্তিক অনুমতিসচেতন এআই।
একটি প্রতিষ্ঠানের সব কর্মীর সব নথি দেখার অনুমতি থাকে না। সেই ক্ষেত্রে এমন একটি এআই কর্মপ্রবাহ প্রয়োজন হতে পারে, যেখানে কর্মী যে তথ্য ব্যবহারের অনুমতি রাখেন, এআইও কেবল সেই সীমার মধ্যেই তথ্য ব্যবহার করবে।
এ ধরনের ব্যবস্থায় কোন উৎস থেকে তথ্য নেওয়া হয়েছে, কোন সংস্করণের নথি ব্যবহার করা হয়েছে, কার অনুমোদন ছিল এবং কখন ফলাফল তৈরি হয়েছে—এসব তথ্য সংরক্ষণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে এআই ব্যবহারে জবাবদিহিতা বাড়ানোর পাশাপাশি তথ্য ব্যবহারের ইতিহাসও অনুসরণ করা সম্ভব হতে পারে।
ভবিষ্যতে ডিজিটাল কনটেন্টের উৎস, সময়, সংস্করণ ও হস্তান্তরের ইতিহাস সংরক্ষণ, ডিজিটাল চুক্তি, একাধিক পক্ষের অনুমোদন এবং প্রতিষ্ঠানভিত্তিক নথি থেকে অনুমতিসচেতন এআই উত্তর তৈরির মতো অ্যাপ্লিকেশন তৈরির পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
তবে এসব উদ্যোগের কিছু এখনো উন্নয়ন ও যাচাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে। বিশেষ করে ডিজিটাল মালিকানা, চুক্তি বা সম্মতির ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত রেকর্ড কোনো দেশের প্রচলিত আইনি কাঠামোর বিকল্প নয়। পরিচয় যাচাই, গোপনীয়তা, তথ্য সংরক্ষণ, তথ্য প্রত্যাহারের অধিকার এবং সংশ্লিষ্ট দেশের আইনও বিবেচনায় রাখতে হবে।
নিরাপত্তা দাবির স্বাধীন যাচাই গুরুত্বপূর্ণ
এআই প্রশিক্ষণ ও নিরাপদ ডেটা অবকাঠামোকে একই ব্যবস্থায় আনার উদ্যোগটি সম্ভাবনাময় হলেও এর বাস্তব সাফল্য নির্ভর করবে প্রযুক্তির কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা কতটা যাচাই করা যাচ্ছে তার ওপর।
নিরাপত্তা অবকাঠামোর ক্ষেত্রে স্বাধীন নিরাপত্তা পরীক্ষা, শক্তিশালী কী-ম্যানেজমেন্ট, তথ্য পুনরুদ্ধার ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা-ঘটনা মোকাবিলার নীতিমালা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে প্রযোজ্য আইন ও তথ্য সুরক্ষা নীতিমালা মেনে চলাও প্রয়োজন।
এ ছাড়া কোনো প্রযুক্তির পেটেন্ট আবেদন প্রক্রিয়াধীন থাকা এবং পেটেন্ট অনুমোদিত হওয়ার বিষয়টি এক নয়। ফলে প্রযুক্তিগত দাবির ক্ষেত্রে আবেদন ও অনুমোদনের অবস্থাও আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
ক্লাউড অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর লক্ষ্য
এক্সওয়াইজেড ক্লাউড বাংলাদেশের পরিকল্পনার পেছনে ক্লাউড অবকাঠামো ও বৃহৎ পরিসরের ডেটা ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্ল্যাটফর্ম আর্কিটেক্ট মো. মশিউর রহমানের প্রকাশ্য পেশাগত প্রোফাইলে অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেসের স্টোরেজ ডেটা প্লেন এবং ওরাকল ক্লাউড ইনফ্রাস্ট্রাকচারের টিয়ার-জিরো প্ল্যাটফর্মে কাজের অভিজ্ঞতার উল্লেখ রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, ক্লাউড ও ডিস্ট্রিবিউটেড সিস্টেম নিয়ে এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ডেটা সংরক্ষণ, অনুমোদন, নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ এআই ব্যবহারের জন্য একটি সমন্বিত কাঠামো তৈরির লক্ষ্য রয়েছে।
বাংলাদেশে এআই ব্যবহারের পরিধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এখন শুধু এআই ব্যবহার শেখাই নয়, নিজেদের তথ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে এআই ব্যবহারের সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এক্সওয়াইজেড ক্লাউড বাংলাদেশের পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য সেই দুই প্রয়োজন—পেশাগত এআই দক্ষতা ও নিরাপদ ডেটা ব্যবস্থাপনাকে—একই প্রযুক্তি কাঠামোর মধ্যে আনা।
রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/সা.সি
