ATN
শিরোনাম
  •  

ঠাকুরগাঁওয়ের পৌর চেয়ারম্যান থেকে রাষ্ট্রপতি: মির্জা ফখরুলের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন

         
ঠাকুরগাঁওয়ের পৌর চেয়ারম্যান থেকে রাষ্ট্রপতি: মির্জা ফখরুলের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন

ঠাকুরগাঁওয়ের পৌর চেয়ারম্যান থেকে রাষ্ট্রপতি: মির্জা ফখরুলের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন

দীর্ঘ চার দশকের রাজনৈতিক পথচলার পর দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। স্থানীয় রাজনীতি দিয়ে শুরু করা এই বর্ষীয়ান রাজনীতিক এবার রাষ্ট্রের শীর্ষ সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত হতে যাচ্ছেন।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ২৫৫ ভোট পেয়ে জয়ী হন মির্জা ফখরুল। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিরোধী জোটের প্রার্থী ও এলডিপির সভাপতি অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট ৩৪৯ জন ভোটারের মধ্যে ৩৪৩টি বৈধ ভোট পড়ে। ছয়টি ব্যালট অব্যবহৃত ছিল। বিভিন্ন ত্রুটির কারণে চারটি ব্যালট নিয়ম অনুযায়ী প্রতিস্থাপন করা হয়।

ভোটের ফল ঘোষণার পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত ঘোষণা করেন। ফল ঘোষণার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে লাল গোলাপ দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। পরে সংসদের বিরোধীদলীয় নেতাসহ অন্য সদস্যরাও তাকে অভিনন্দন জানান।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুলের শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে।

শিক্ষকতা থেকে রাজনীতিতে

ঠাকুরগাঁওয়ের মির্জা পরিবারের সন্তান মির্জা ফখরুল কর্মজীবন শুরু করেন শিক্ষকতা দিয়ে। পরবর্তী সময়ে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হন। আশির দশকে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি তিনি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনেও সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।

১৯৯০ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার হাত ধরে দলটিতে যোগ দেন তিনি। এরপর ধীরে ধীরে স্থানীয় রাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেন।

বিএনপির নেতৃত্বে দীর্ঘ পথ

মির্জা ফখরুল পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং সরকারের মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন। বিএনপির বিভিন্ন সংকটময় সময়ে দলের নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি।

২০১১ সালে বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর মির্জা ফখরুল ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পান। ২০১৬ সালে তিনি দলের পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

রাজনৈতিক জীবনে একাধিকবার কারাবরণ ও নির্যাতনের মুখোমুখি হয়েছেন মির্জা ফখরুল। নিজেই বিভিন্ন সময়ে ১১ বার কারাবরণের কথা জানিয়েছেন। দীর্ঘ এই রাজনৈতিক জীবনে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থেকেছেন তিনি।

খালেদা জিয়ার কারাবন্দিত্ব এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশের বাইরে অবস্থানের সময় বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড সচল রাখতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

আন্দোলন থেকে সরকারে

গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে বিএনপির বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামেও মির্জা ফখরুল সামনের সারিতে ছিলেন। রাজনৈতিক সংকট ও প্রতিকূলতার মধ্যেও দলীয় নেতাকর্মীদের সংগঠিত রাখার চেষ্টা করেছেন তিনি।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের প্রক্রিয়াতেও তার ভূমিকা ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এরপর ২০২৬ সালের নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করলে মির্জা ফখরুল স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রীর দায়িত্ব পান।

এবার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব

দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের সর্বশেষ অধ্যায়ে এসে এবার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল। সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় তার জয় অনেকটাই প্রত্যাশিত ছিল। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে সংসদ সদস্যদের ভোট দেওয়ার সুযোগ না থাকায় নির্বাচনের ফলেও সেই সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রতিফলন দেখা যায়।

রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন আন্দোলন, কারাবরণ, দলীয় সংকট মোকাবিলা এবং দীর্ঘদিনের নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা নিয়ে রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে বসছেন মির্জা ফখরুল। এখন তার সামনে মূল চ্যালেঞ্জ হবে দলীয় রাজনীতির দীর্ঘ অভিজ্ঞতা পেছনে রেখে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদটির নিরপেক্ষতা, মর্যাদা ও সাংবিধানিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা।

রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/সা.সি
পাঠকের মন্তব্য

সংশ্লিষ্ট জাতীয় সংবাদ


অন্যান্য সংবাদ