ATN
শিরোনাম
  •  

বিএএফ শাহীন কলেজ ইংলিশ মিডিয়ামকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন কুর্মিটোলার বিএএফ শাহীন কলেজ

         
বিএএফ শাহীন কলেজ ইংলিশ মিডিয়ামকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন কুর্মিটোলার বিএএফ শাহীন কলেজ

বিএএফ শাহীন কলেজ ইংলিশ মিডিয়ামকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন কুর্মিটোলার বিএএফ শাহীন কলেজ

বাংলাদেশ বিমান বাহিনী পরিচালিত আন্তঃশাহীন বিতর্ক প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফাইনালে বিএএফ শাহীন ইংলিশ মিডিয়াম কলেজকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বিএএফ শাহীন কলেজ কুর্মিটোলা।

আজ বুধবার আয়োজিত গ্র্যান্ড ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ী ও রানারআপ দলের হাতে পুরস্কার তুলে দেন সহকারী বিমান বাহিনী প্রধান (পরিচালন) এয়ার ভাইস মার্শাল রুশাদ দীন আছাদ। চূড়ান্ত বিতর্কের বিষয় ছিল— ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশ মানব সভ্যতার জন্য আশীর্বাদ নয়, অস্তিত্বের সংকট।’

চূড়ান্ত বিতর্ক প্রতিযোগিতাটি মডারেটর হিসেবে পরিচালনা করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন আয়োজক প্রতিষ্ঠান বিএএফ শাহীন কলেজ ঢাকার অধ্যক্ষ গ্রুপ ক্যাপ্টেন শান্তনু চৌধুরী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এয়ার ভাইস মার্শাল রুশাদ দীন আছাদ বলেন, সংসদে দাঁড়িয়ে যুক্তি ও তথ্যের মাধ্যমে বক্তব্য উপস্থাপন এবং নিজের বক্তব্য জোরালোভাবে তুলে ধরে শ্রোতাদের মনোযোগ আকর্ষণের ভিত্তি তৈরি করে বিতর্কের মঞ্চ। প্রতিদ্বন্দ্বীদের শত্রু হিসেবে না দেখে যুক্তির মাধ্যমে সবকিছু মোকাবিলা করার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, এ ধরনের প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের জ্ঞান বিকাশ, চিন্তাশক্তি বৃদ্ধি ও নেতৃত্বের গুণাবলি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার পাশাপাশি শুদ্ধ উচ্চারণ ও হাতের লেখার প্রতিও শিক্ষার্থীদের যত্নশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চিকিৎসাবিজ্ঞান, রোগ নির্ণয়, মানবশ্রমের অপচয় কমানো, ব্যবসা-বাণিজ্য ও গ্রাহকসেবাসহ জীবনের প্রায় সব ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। চ্যাটজিপিটির মতো প্রযুক্তির মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাচ্ছে এবং মানুষের ভুল-ত্রুটি কমিয়ে দ্রুত তথ্য বিশ্লেষণ করা সম্ভব হচ্ছে।

তবে এআইয়ের অতিরিক্ত ব্যবহারে কর্মসংস্থান কমে বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক বৈষম্য তৈরি হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। বিশেষ করে শ্রমঘন দেশগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যাপক ব্যবহার কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহারের ফলে ভুয়া ছবি, ভিডিও ও অডিও ক্লোনিংয়ের মাধ্যমে সামাজিক বিভ্রান্তি, মানহানি, আর্থিক প্রতারণা, ঘৃণা ও সহিংসতা ছড়ানোর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট এবং অপপ্রচার ও গুজব ছড়াতেও এ প্রযুক্তির অপব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা একদিকে মানব সভ্যতার জন্য আশীর্বাদ হলেও অন্যদিকে এর অপব্যবহার অস্তিত্বের সংকট তৈরি করতে পারে।

চার দিনব্যাপী এ আয়োজনে বিতর্ক প্রতিযোগিতার পাশাপাশি কুইজ, গণিত, বিজ্ঞান ও স্পেলিং কম্পিটিশন অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ বিমান বাহিনী পরিচালিত দেশের ১০টি বিএএফ শাহীন স্কুল ও কলেজের প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী এতে অংশ নেয়।

ক্যাপশন: আন্তঃশাহীন বিতর্ক প্রতিযোগিতার চ্যাম্পিয়ন ও রানারআপ দলের বিতার্কিকদের সঙ্গে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি এয়ার ভাইস মার্শাল রুশাদ দীন আছাদ, বিএএফ শাহীন কলেজ ঢাকা’র অধ্যক্ষ গ্রুপ ক্যাপ্টেন শান্তনু চৌধুরী ও ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণসহ অন্যান্যরা।

রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/সা.সি
পাঠকের মন্তব্য

সংশ্লিষ্ট জাতীয় সংবাদ


অন্যান্য সংবাদ