১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপনের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর
দেশের চলমান বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট মোকাবিলায় আগামী ১০ বছরের জন্য জ্বালানি পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ২৭ আগস্ট শুরু হতে যাওয়া সংসদ অধিবেশনেই এ পরিকল্পনা জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর বনানীর টিঅ্যান্ডটি কলোনি মাঠে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মধ্যে আর্থিক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, বিগত সরকার দেশের অর্থনীতিসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা দুর্বল করে দিয়ে গেছে। এখন ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশকে পুনর্গঠনের দায়িত্ব নিতে হবে।
বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের জন্য দেশবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার দ্রুততম সময়ে এ সংকট থেকে মানুষকে মুক্ত করতে কাজ করছে। তিনি বলেন, ‘সমগ্র বাংলাদেশের মানুষ যে বিদ্যুতের কষ্ট পাচ্ছেন, আমি আন্তরিকভাবে তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। কিন্তু এই সরকার আপনাদের সরকার এবং আমরা কাজ করছি যত দ্রুত সম্ভব মানুষকে এই কষ্টের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য।’
জ্বালানি সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আগামী যে সংসদ ২৭ তারিখে শুরু হবে, এই সংসদেই আমরা বাংলাদেশের জনগণের সামনে উপস্থাপন করব– আগামী ১০ বছর আমরা কীভাবে এই দেশের মানুষের জন্য জ্বালানি সমস্যার সমাধান করব, সেই পরিকল্পনা দেব।’
গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে কূটনৈতিক তৎপরতা
গ্যাস সংকট মোকাবিলায় সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আগের সরকার তৃতীয় এলএনজি জাহাজের অনুমতি বাতিল করেছিল। সেটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
চীন ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, তৃতীয় এলএনজি জাহাজ দেশে পৌঁছালে গ্যাস সংকট অনেকাংশে কমে আসবে। তবে জাহাজ প্রস্তুত করতে সময় প্রয়োজন হওয়ায় এ বিষয়ে জনগণকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান তিনি।
পাঁচ বছরে ৫০৩ উপজেলায় ১৫১ শয্যার হাসপাতাল
স্বাস্থ্য খাতেও বড় ধরনের অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের ৫০৩টি উপজেলার প্রতিটিতে ১৫১ শয্যার উপজেলা হাসপাতাল নির্মাণের কথা জানান তিনি।
তার ভাষ্য, এসব হাসপাতালে স্থানীয় মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হবে।
‘হারিকেন সামনে, পেছনে ফ্যান’
সম্প্রতি বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের প্রতিবাদে একটি রাজনৈতিক দলের কর্মসূচির সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রতিবাদকারীরা সামনে হারিকেন নিয়ে বসেছিলেন, অথচ তাদের পেছনে ফ্যান চলছিল।
এ ধরনের কর্মসূচিকে ‘হঠকারিতা’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি বাস্তবসম্মত সমাধান দেওয়ার আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো দলের কাছে যদি এমন বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা থাকে, যা আগামী তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের সমাধানে কার্যকর হতে পারে, তাহলে তা সংসদে উপস্থাপন করা উচিত। সরকার প্রয়োজনে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে বলেও জানান তিনি।
রাজনীতিতে বিভ্রান্তি নয়, জনগণের জন্য কাজের আহ্বান
বিগত ১৭ বছরে বিএনপির নেতাকর্মীদের আন্দোলন-সংগ্রামের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই সময়ে দলটির নেতাকর্মীরা রাজপথে ছিলেন এবং বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সময়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে গুম, খুন ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে, যার চিত্র সংবাদপত্রের পাতায় পাওয়া যাবে।
রাজপথে ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলার রাজনীতি পরিহারের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ এখন এ ধরনের রাজনীতি সমর্থন করে না। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি জনগণের জন্য মাঠে নেমে কাজ করার আহ্বানও জানান তিনি।
রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/সা.সি
শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর বনানীর টিঅ্যান্ডটি কলোনি মাঠে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মধ্যে আর্থিক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, বিগত সরকার দেশের অর্থনীতিসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা দুর্বল করে দিয়ে গেছে। এখন ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশকে পুনর্গঠনের দায়িত্ব নিতে হবে।
বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের জন্য দেশবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার দ্রুততম সময়ে এ সংকট থেকে মানুষকে মুক্ত করতে কাজ করছে। তিনি বলেন, ‘সমগ্র বাংলাদেশের মানুষ যে বিদ্যুতের কষ্ট পাচ্ছেন, আমি আন্তরিকভাবে তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। কিন্তু এই সরকার আপনাদের সরকার এবং আমরা কাজ করছি যত দ্রুত সম্ভব মানুষকে এই কষ্টের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য।’
জ্বালানি সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আগামী যে সংসদ ২৭ তারিখে শুরু হবে, এই সংসদেই আমরা বাংলাদেশের জনগণের সামনে উপস্থাপন করব– আগামী ১০ বছর আমরা কীভাবে এই দেশের মানুষের জন্য জ্বালানি সমস্যার সমাধান করব, সেই পরিকল্পনা দেব।’
গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে কূটনৈতিক তৎপরতা
গ্যাস সংকট মোকাবিলায় সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আগের সরকার তৃতীয় এলএনজি জাহাজের অনুমতি বাতিল করেছিল। সেটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
চীন ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, তৃতীয় এলএনজি জাহাজ দেশে পৌঁছালে গ্যাস সংকট অনেকাংশে কমে আসবে। তবে জাহাজ প্রস্তুত করতে সময় প্রয়োজন হওয়ায় এ বিষয়ে জনগণকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান তিনি।
পাঁচ বছরে ৫০৩ উপজেলায় ১৫১ শয্যার হাসপাতাল
স্বাস্থ্য খাতেও বড় ধরনের অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের ৫০৩টি উপজেলার প্রতিটিতে ১৫১ শয্যার উপজেলা হাসপাতাল নির্মাণের কথা জানান তিনি।
তার ভাষ্য, এসব হাসপাতালে স্থানীয় মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হবে।
‘হারিকেন সামনে, পেছনে ফ্যান’
সম্প্রতি বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের প্রতিবাদে একটি রাজনৈতিক দলের কর্মসূচির সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রতিবাদকারীরা সামনে হারিকেন নিয়ে বসেছিলেন, অথচ তাদের পেছনে ফ্যান চলছিল।
এ ধরনের কর্মসূচিকে ‘হঠকারিতা’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি বাস্তবসম্মত সমাধান দেওয়ার আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো দলের কাছে যদি এমন বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা থাকে, যা আগামী তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের সমাধানে কার্যকর হতে পারে, তাহলে তা সংসদে উপস্থাপন করা উচিত। সরকার প্রয়োজনে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে বলেও জানান তিনি।
রাজনীতিতে বিভ্রান্তি নয়, জনগণের জন্য কাজের আহ্বান
বিগত ১৭ বছরে বিএনপির নেতাকর্মীদের আন্দোলন-সংগ্রামের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই সময়ে দলটির নেতাকর্মীরা রাজপথে ছিলেন এবং বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সময়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে গুম, খুন ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে, যার চিত্র সংবাদপত্রের পাতায় পাওয়া যাবে।
রাজপথে ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলার রাজনীতি পরিহারের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ এখন এ ধরনের রাজনীতি সমর্থন করে না। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি জনগণের জন্য মাঠে নেমে কাজ করার আহ্বানও জানান তিনি।
রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/সা.সি
