প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝি বা শেষার্ধে, সম্ভাব্য ২২–২৩ আগস্ট, দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতের নয়াদিল্লি যেতে পারেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিই হতে পারে তার প্রথম ভারত সফর। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে সম্ভাব্য সফরের খবর জানিয়েছে।
তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এখনো সফর নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। এর মধ্যেই শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোতে তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সফরটি চূড়ান্ত হলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক হতে পারে। বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে বাণিজ্য, যোগাযোগ, জ্বালানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে।
সবকিছু ঠিক থাকলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিই হবে তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর। একই সঙ্গে প্রতিবেশী দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের গতিপথ নির্ধারণের ক্ষেত্রেও সফরটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, সম্ভাব্য দুই দিনের সফরটি দ্বিপক্ষীয় কর্মসূচি হিসেবেই সাজানো হচ্ছে। তবে সফরের চূড়ান্ত তারিখ ও সময়সূচি এখনো নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই ভারত সরকারের পক্ষ থেকে তাকে নয়াদিল্লি সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এ ছাড়া আগামী সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস আউটরিচ সেশনেও বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, নয়াদিল্লি ও ঢাকা—উভয় পক্ষই নরেন্দ্র মোদি ও তারেক রহমানের সম্ভাব্য প্রথম বৈঠকের দিকে বিশেষ নজর রাখছে। বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ভারতের সঙ্গে ঢাকার সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন কৌশলগত সমন্বয়ের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ-ভারত কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়। শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ঢাকার আনুষ্ঠানিক দাবিসহ বিভিন্ন ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে।
তবে বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার ভারতের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ পুনরায় জোরদারেরও কিছু লক্ষণ দেখা গেছে। এর অংশ হিসেবে গত এপ্রিলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান নয়াদিল্লি সফর করে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন।
এরপর গত ১০ আগস্ট ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে যান এবং এরপর থেকে তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন। বাংলাদেশের একটি ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়ার পর ঢাকা আনুষ্ঠানিকভাবে দিল্লির কাছে তাকে হস্তান্তরের দাবি জানায়। ভারত জানিয়েছে, বাংলাদেশের এই অনুরোধ যথাযথ আইনি ও কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
চলতি মাসের শুরুতে দিল্লি থেকে শেখ হাসিনা সাংবাদিকদের সঙ্গে ভার্চ্যুয়ালি মতবিনিময় করলে বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় ঢাকা ক্ষোভ প্রকাশ করে এবং জানায়, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া উচিত নয়। তবে ভারত সরকার ওই অনুষ্ঠান আয়োজনের সঙ্গে নিজেদের কোনো সংশ্লিষ্টতা থাকার কথা অস্বীকার করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে তারেক রহমানের সাম্প্রতিক বৈঠকেও শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি উঠে আসে। দুই দেশের সামগ্রিক সম্পর্কের অগ্রগতি যাতে এই বিরোধপূর্ণ ইস্যুর কারণে বাধাগ্রস্ত না হয়, সে জন্য বিষয়টির সমাধানে ঢাকা ও দিল্লি—উভয় পক্ষকেই একটি কার্যকর পথ খুঁজে বের করতে হবে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক সংশ্লিষ্টরা।
এটিএন নিউজ / মা.ই.স
তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এখনো সফর নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। এর মধ্যেই শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোতে তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সফরটি চূড়ান্ত হলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক হতে পারে। বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে বাণিজ্য, যোগাযোগ, জ্বালানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে।
সবকিছু ঠিক থাকলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিই হবে তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর। একই সঙ্গে প্রতিবেশী দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের গতিপথ নির্ধারণের ক্ষেত্রেও সফরটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, সম্ভাব্য দুই দিনের সফরটি দ্বিপক্ষীয় কর্মসূচি হিসেবেই সাজানো হচ্ছে। তবে সফরের চূড়ান্ত তারিখ ও সময়সূচি এখনো নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই ভারত সরকারের পক্ষ থেকে তাকে নয়াদিল্লি সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এ ছাড়া আগামী সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস আউটরিচ সেশনেও বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, নয়াদিল্লি ও ঢাকা—উভয় পক্ষই নরেন্দ্র মোদি ও তারেক রহমানের সম্ভাব্য প্রথম বৈঠকের দিকে বিশেষ নজর রাখছে। বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ভারতের সঙ্গে ঢাকার সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন কৌশলগত সমন্বয়ের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ-ভারত কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়। শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ঢাকার আনুষ্ঠানিক দাবিসহ বিভিন্ন ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে।
তবে বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার ভারতের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ পুনরায় জোরদারেরও কিছু লক্ষণ দেখা গেছে। এর অংশ হিসেবে গত এপ্রিলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান নয়াদিল্লি সফর করে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন।
এরপর গত ১০ আগস্ট ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে যান এবং এরপর থেকে তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন। বাংলাদেশের একটি ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়ার পর ঢাকা আনুষ্ঠানিকভাবে দিল্লির কাছে তাকে হস্তান্তরের দাবি জানায়। ভারত জানিয়েছে, বাংলাদেশের এই অনুরোধ যথাযথ আইনি ও কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
চলতি মাসের শুরুতে দিল্লি থেকে শেখ হাসিনা সাংবাদিকদের সঙ্গে ভার্চ্যুয়ালি মতবিনিময় করলে বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় ঢাকা ক্ষোভ প্রকাশ করে এবং জানায়, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া উচিত নয়। তবে ভারত সরকার ওই অনুষ্ঠান আয়োজনের সঙ্গে নিজেদের কোনো সংশ্লিষ্টতা থাকার কথা অস্বীকার করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে তারেক রহমানের সাম্প্রতিক বৈঠকেও শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি উঠে আসে। দুই দেশের সামগ্রিক সম্পর্কের অগ্রগতি যাতে এই বিরোধপূর্ণ ইস্যুর কারণে বাধাগ্রস্ত না হয়, সে জন্য বিষয়টির সমাধানে ঢাকা ও দিল্লি—উভয় পক্ষকেই একটি কার্যকর পথ খুঁজে বের করতে হবে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক সংশ্লিষ্টরা।
এটিএন নিউজ / মা.ই.স
