ATN
শিরোনাম
  •  

বন্ধুত্বের আড়ালে অটোভ্যান ছিনতাইয়ের ছক, সুজন হত্যা: ২৪ ঘণ্টায় রহস্য উদঘাটন পিবিআইয়ের

         
বন্ধুত্বের আড়ালে অটোভ্যান ছিনতাইয়ের ছক, সুজন হত্যা: ২৪ ঘণ্টায় রহস্য উদঘাটন পিবিআইয়ের

বন্ধুত্বের আড়ালে অটোভ্যান ছিনতাইয়ের ছক, সুজন হত্যা: ২৪ ঘণ্টায় রহস্য উদঘাটন পিবিআইয়ের

ঢাকার আশুলিয়ায় অটোভ্যান ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে বন্ধুকে হত্যার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেপ্তারদের হেফাজত থেকে নিহতের অটোভ্যান ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতিও উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার দুই আসামিই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

নিহত সুজন হাওলাদার (২৯) কেরানীগঞ্জের অটোভ্যানচালক। গত ৮ আগস্ট বিকেলে অটোভ্যান নিয়ে বাসা থেকে বের হওয়ার পর রাত ৯টার দিকে স্ত্রীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেন তিনি। এরপর তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরদিন তাঁর স্ত্রী কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় নিখোঁজের বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

দুই দিন পর ১০ আগস্ট সকালে আশুলিয়া থানাধীন আব্দুল্লাহপুরগামী সড়কের পাশে নির্মাণাধীন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচ থেকে মাথায় আঘাত ও গলাকাটা অবস্থায় সুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের মা আলো বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় মামলা করেন।

গত ১১ আগস্ট পিবিআই ঢাকা জেলা স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে। মামলাটি তদন্ত করছেন পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) মো. জামাল উদ্দীন, বিপিএম।

তদন্তের ধারাবাহিকতায় একই দিন মাদারীপুর সদর এলাকার একটি গ্যারেজে অভিযান চালিয়ে মো. মারুফ (৩৯) ও মো. তানভীর ঢালী ওরফে আকাশকে (২২) গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে সুজনের লুণ্ঠিত অটোভ্যান ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। পরে মারুফের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়ের নিচে পানির মধ্য থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতি উদ্ধার করে পিবিআই।

পিবিআই জানায়, মারুফ ও নিহত সুজন পূর্বপরিচিত এবং তাঁদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। গত ৮ আগস্ট ঢাকার নয়াবাজার এলাকায় তাঁদের দেখা হয়। পরে তাঁরা কেরানীগঞ্জে গিয়ে ইয়াবা সেবন করেন এবং সুজনের অটোভ্যানে করে আশুলিয়া হয়ে গাজীপুরের কাশিমপুরের উদ্দেশে রওনা হন।

তদন্তে জানা যায়, অটোভ্যানটি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে মারুফ সুজনকে কাশিমপুরে নিয়ে যান। সেখানে অটোভ্যানে মালামাল তোলা হয়। রাত ৩টার দিকে মালামালসহ তাঁরা কাশিমপুর থেকে লালবাগের উদ্দেশে রওনা হন। ভোরের দিকে আশুলিয়ার নির্মাণাধীন এক্সপ্রেসওয়ের নিচে অটোভ্যানটি বিকল হয়ে যায়।

অটোভ্যানটি ঠিক করতে না পেরে তাঁরা এক্সপ্রেসওয়ের নিচে একটি পিলারের পাশে অবস্থান করেন এবং ইয়াবা সেবন করেন। একপর্যায়ে সুজন নেশাগ্রস্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়লে মারুফ অটোভ্যানে থাকা চাপাতি নিয়ে আসেন। পিবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৯ আগস্ট দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মারুফ প্রথমে পাথর দিয়ে সুজনের মাথায় আঘাত করেন। পরে চাপাতি দিয়ে তাঁর গলায় আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। হত্যার পর চাপাতিটি পানিতে ফেলে দেন তিনি।

এরপর অটোভ্যানের তার জোড়া দিয়ে সেটি সচল করে মালামালসহ লালবাগে চলে যান মারুফ। পরদিন ১০ আগস্ট অটোভ্যানটি নিয়ে মাদারীপুরে গিয়ে তানভীর ঢালী ওরফে আকাশের কাছে ৯০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

গ্রেপ্তার দুই আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/সা.সি
পাঠকের মন্তব্য

সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ সংবাদ


অন্যান্য সংবাদ