ATN
শিরোনাম
  •  

লেক কারিবায় ভয়াবহ ফেরিডুবি, প্রাণ গেল ৪৪ জনের

         
লেক কারিবায় ভয়াবহ ফেরিডুবি, প্রাণ গেল ৪৪ জনের

লেক কারিবায় ভয়াবহ ফেরিডুবি

জিম্বাবুয়ের লেক কারিবায় একটি ফেরি ডুবে অন্তত ৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার পর ব্যাপক উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এখন পর্যন্ত ৭৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

জিম্বাবুয়ের পুলিশ জানিয়েছে, শক্তিশালী ঢেউয়ের আঘাতে ফেরিটি ভারসাম্য হারিয়ে উল্টে যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে পানিতে উল্টে থাকা ফেরিটির কাঠামো দেখা গেছে।

ফেরিটিতে কতজন যাত্রী ছিলেন, তা নিয়ে অবশ্য ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নৌযানটির ৯০ জন যাত্রী ও পাঁচজন ক্রু বহনের সক্ষমতা ছিল। তবে জিম্বাবুয়ের সিভিল প্রটেকশন ইউনিটের হিসাবে টিকিট বিক্রির নিবন্ধনে ১১৪ জন প্রাপ্তবয়স্ক যাত্রীর তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া টিকিট কাটার বয়স হয়নি এমন কতজন শিশু ছিল, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

একজন হ্রদ কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, ফেরিটিতে ১২ শিশুসহ প্রায় ১২০ জন ছিলেন। ফলে দুর্ঘটনার সময় নৌযানটিতে প্রকৃতপক্ষে কতজন ছিলেন, তা স্পষ্ট নয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ম্যাক্সটন কানহেমা এএফপিকে জানিয়েছেন, খারাপ আবহাওয়ার মধ্যেই ফেরিটি যাত্রা শুরু করেছিল। একটি বড় ঢেউয়ের আঘাতে নৌযানটির ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দুর্ঘটনার পর পানিতে ভাসতে থাকা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। যারা জীবিত অবস্থায় উদ্ধার হওয়ার মতো অবস্থায় ছিলেন, তাদেরও ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য মুতসা মুরোমবেদজি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেরিটির যাত্রার শুরুতে ধারণ করা একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, স্থানীয় বাসিন্দারা প্রায় পাঁচ ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত কারিবা শহরে যাওয়ার জন্য হ্রদটি পার হচ্ছিলেন।

দুর্ঘটনায় ফেরিটিতে প্রকৃত যাত্রীসংখ্যা কত ছিল, তা পরিষ্কার করার দাবি জানিয়েছেন তিনি। এ ঘটনায় কর্তৃপক্ষকে যাত্রীসংখ্যা ও নৌযানের সক্ষমতা নিয়ে জবাবদিহি করার আহ্বানও জানিয়েছেন মুরোমবেদজি।

দুর্ঘটনার পর দেশটির প্রেসিডেন্ট এমারসন নানগাগওয়া জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা করেছেন। উদ্ধার অভিযান জোরদার করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের জনবল ও সম্পদ মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উদ্ধার অভিযানে জিম্বাবুয়ের সেনাবাহিনীর নৌযান ইউনিট, পুলিশের ডুবুরি দল এবং একটি বেসরকারি হেলিকপ্টার অংশ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ড্যানিয়েল গারওয়ে।

লেক কারিবা জিম্বাবুয়ে ও জাম্বিয়ার সীমান্তজুড়ে অবস্থিত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ কৃত্রিম জলাধার। পরিবহন ও মাছ ধরার পাশাপাশি জলবিদ্যুৎ উৎপাদনেও হ্রদটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

ফেরিডুবির ঘটনায় নৌযানটির যাত্রী বহনের সক্ষমতা, প্রকৃত যাত্রীসংখ্যা এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে ফেরি চলাচল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে উদ্ধার অভিযান ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/জেড.এস
পাঠকের মন্তব্য

সংশ্লিষ্ট বিশ্ব সংবাদ


অন্যান্য সংবাদ