ATN
শিরোনাম
  •  

২৩ বছরের সামরিক উপস্থিতির অবসান, ইরাক ছাড়ছে যুক্তরাষ্ট্র

         
২৩ বছরের সামরিক উপস্থিতির অবসান, ইরাক ছাড়ছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরাকে ২৩ বছরের সামরিক উপস্থিতির অবসান

ইরাকে ২৩ বছরের সামরিক উপস্থিতির অবসান ঘটাতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশটিতে থাকা সব মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হবে। মার্কিন ও ইরাকি কর্মকর্তারা এ সময়সীমা নিশ্চিত করেছেন।

ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি জানিয়েছেন, ৩০ সেপ্টেম্বরের পর ইরাকে আর মার্কিন সামরিক বাহিনী থাকবে না। এর মধ্য দিয়ে ২০০৩ সালে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘ সামরিক উপস্থিতির সমাপ্তি ঘটবে। তবে সামরিক সম্পর্কের পরিবর্তে দুই দেশের মধ্যে অর্থনীতি, জ্বালানি ও বাণিজ্যিক সহযোগিতাকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

২০০৩ সালের মার্চে ইরাকে অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর দেশটিতে দীর্ঘদিন মার্কিন সেনা অবস্থান করে। ২০১১ সালে বড় পরিসরে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হলেও ২০১৪ সালে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আবারও মার্কিন ও জোট বাহিনী ইরাকে ফিরে আসে।

পরবর্তীতে আইএসবিরোধী অভিযানে ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দিতে ইরাকে মার্কিন সেনাদের উপস্থিতি অব্যাহত থাকে। ২০২৪ সালের চুক্তি অনুযায়ী ধাপে ধাপে সেই সামরিক মিশন শেষ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এখন ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অবশিষ্ট মার্কিন সেনাদেরও প্রত্যাহারের পরিকল্পনা রয়েছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, আইএসকে পরাজিত করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র, ইরাক ও জোটের অংশীদাররা উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। এখন ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীই দেশটিতে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের নেতৃত্ব দেবে।

মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পাশাপাশি ওয়াশিংটন ও বাগদাদ সামরিক সম্পর্ককে নতুন কাঠামোয় নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। ইরাকের সার্বভৌমত্ব ও দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে ভবিষ্যতে নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে উভয় পক্ষ।

ফলে ৩০ সেপ্টেম্বরের পর ইরাকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির একটি দীর্ঘ অধ্যায়ের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশলেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে।

সূত্র : আলজাজিরা

রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/জেড.এস
পাঠকের মন্তব্য

সংশ্লিষ্ট বিশ্ব সংবাদ


অন্যান্য সংবাদ