সাভার-আশুলিয়ায় ১২ দিনে ১৬ বোমা উদ্ধার, আতঙ্কে স্থানীয়রা
ঢাকার সাভার ও আশুলিয়ায় গত ১২ দিনে পৃথক তিন এলাকায় ১৬টি শক্তিশালী বোমা উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এসব ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উদ্ধার করা বোমাগুলোর সঙ্গে জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি)-এর লিফলেট পাওয়ার কথাও জানিয়েছে পুলিশ।
সর্বশেষ মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) গভীর রাতে সাভারের বনগাঁও ইউনিয়নের লালটেক গোপের বাড়ি এলাকার জামিআ ইলমুল ইলাহ্ সোসাইটি মাদ্রাসা ও জামে মসজিদের সামনের জঙ্গল থেকে স্কচটেপে মোড়ানো প্রেসার কুকারসদৃশ একটি শক্তিশালী বোমা উদ্ধার করা হয়।
একই রাতে সাভারের তেঁতুলঝরা ইউনিয়নের শ্যামপুর ও হেমায়েতপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও ১৪টি পাইপবোমা এবং বোমা তৈরির বিপুল সরঞ্জাম উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় হেমায়েতপুর এলাকা থেকে আরিফ হোসেন (২৮) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারের সময় আরিফের কাছ থেকে পাঁচটি পাইপবোমা উদ্ধার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি বাড়ি থেকে আরও নয়টি পাইপবোমা উদ্ধার করা হয়।
এর আগে গত ৩০ জুলাই মধ্যরাতে আশুলিয়ার চারাবাগ এলাকায় জয়ী জেনারেল স্টোরের সামনে একটি ট্রাভেল ব্যাগ থেকে স্কচটেপে মোড়ানো প্রেসার কুকারসদৃশ আরও একটি শক্তিশালী বোমা উদ্ধার করা হয়। পরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের সদস্যরা সেটি খোলা মাঠে নিয়ে নিয়ন্ত্রিত প্রক্রিয়ায় নিষ্ক্রিয় করেন।
মাদ্রাসার সামনে ড্রামে বোমা
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টার দিকে ব্যাটারিচালিত একটি হ্যালো বাইকে করে তিন ব্যক্তি লালটেক গোপের বাড়ি এলাকার মাদ্রাসার সামনে আসেন। ওই সময় বিদ্যুৎ না থাকায় এলাকাটি কিছুটা অন্ধকার ছিল। তিন ব্যক্তি মাদ্রাসার পাশের জঙ্গলে একটি ড্রাম রেখে দ্রুত সেখান থেকে চলে যান।
মাদ্রাসার পাশের বাসিন্দা ও চায়ের দোকানি আজিম উদ্দিন বলেন, ড্রাম ফেলার শব্দ শুনে পাশের বাড়ির দেলোয়ার হোসেনকে ডেকে তোলেন তিনি। পরে তারা তিন ব্যক্তিকে একটি হ্যালো বাইকে করে ঘটনাস্থল থেকে চলে যেতে দেখেন।
পরে জঙ্গলের মধ্যে ড্রামটি পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি জানাজানি হয়। কয়েকজন মিলে ড্রামটি মাদ্রাসা ও মসজিদের মূল ফটকের সামনে নিয়ে রাখেন এবং বিষয়টি মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জানান।
মাদ্রাসার কিতাবখানার দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল রাফি জানান, ড্রামের ঢাকনা খুলে তারা ভেতরে কোরআন, কিছু তার, জামাকাপড়, একটি ডায়েরি, বাকরখানি এবং স্কচটেপে মোড়ানো প্রেসার কুকারসদৃশ একটি বোমা দেখতে পান।
তার দাবি, ড্রামের ভেতরে একটি রিমোট কন্ট্রোলও ছিল। রিমোট কন্ট্রোল ও বোমাটির গায়ে ‘R1’ লেখা ছিল।
মাঠে সরিয়ে রাখা হয় বোমা
মাদ্রাসার পাশের মানিকগঞ্জ ভ্যারাইটিজ স্টোরের মালিক রফিকুল ইসলাম বলেন, ড্রাম থেকে বোমাটি বের করে মাদ্রাসার মূল ফটক থেকে কিছুটা দূরে মাঠের একটি খোলা জায়গায় রাখা হয়। ড্রাম ও রিমোট কন্ট্রোলটি তখন মাদ্রাসার প্রধান ফটকের সামনে ছিল।
তিনি বলেন, বোমাটির ওজন আনুমানিক ১৫ কেজি বলে মনে হয়েছিল। ভোর ৬টার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি ব্যাটারিচালিত হ্যালো বাইকে এসে রিমোট কন্ট্রোলসহ ড্রামটি নিয়ে দ্রুত চলে যান। পরে বিষয়টি ভবানীপুর পুলিশ ফাঁড়িতে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে।
রফিকুল ইসলাম বলেন, বোমাটি মাঠে রেখে যাওয়ার পর কীভাবে এবং কারা রিমোট কন্ট্রোলসহ ড্রামটি নিয়ে গেছে, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
পুলিশের নিরাপত্তাবেষ্টনী
ভবানীপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ইমরান হোসেন বলেন, সকালে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বোমাটির চারপাশে নিরাপত্তাবেষ্টনী তৈরি করে। পুলিশের পাহারায় সেটি নিরাপদ স্থানে রাখা হয়। পরে থানা-পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ ও র্যাবের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পুরো এলাকা ঘিরে রাখেন।
সাভার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ বলেন, বোমা উদ্ধারের পর ডিএমপির বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলকে খবর দেওয়া হয়। পরে দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে বোমাটি খোলা মাঠে নিয়ে নিয়ন্ত্রিত প্রক্রিয়ায় নিষ্ক্রিয় করেন।
তিনি আরও বলেন, বোমাটি নিষ্ক্রিয় করার সময় বিকট শব্দ হয়। এতে আশপাশের এলাকা কেঁপে ওঠে।
গত ১২ দিনে সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিকভাবে বোমা উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/জেড.এস
সর্বশেষ মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) গভীর রাতে সাভারের বনগাঁও ইউনিয়নের লালটেক গোপের বাড়ি এলাকার জামিআ ইলমুল ইলাহ্ সোসাইটি মাদ্রাসা ও জামে মসজিদের সামনের জঙ্গল থেকে স্কচটেপে মোড়ানো প্রেসার কুকারসদৃশ একটি শক্তিশালী বোমা উদ্ধার করা হয়।
একই রাতে সাভারের তেঁতুলঝরা ইউনিয়নের শ্যামপুর ও হেমায়েতপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও ১৪টি পাইপবোমা এবং বোমা তৈরির বিপুল সরঞ্জাম উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় হেমায়েতপুর এলাকা থেকে আরিফ হোসেন (২৮) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারের সময় আরিফের কাছ থেকে পাঁচটি পাইপবোমা উদ্ধার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি বাড়ি থেকে আরও নয়টি পাইপবোমা উদ্ধার করা হয়।
এর আগে গত ৩০ জুলাই মধ্যরাতে আশুলিয়ার চারাবাগ এলাকায় জয়ী জেনারেল স্টোরের সামনে একটি ট্রাভেল ব্যাগ থেকে স্কচটেপে মোড়ানো প্রেসার কুকারসদৃশ আরও একটি শক্তিশালী বোমা উদ্ধার করা হয়। পরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের সদস্যরা সেটি খোলা মাঠে নিয়ে নিয়ন্ত্রিত প্রক্রিয়ায় নিষ্ক্রিয় করেন।
মাদ্রাসার সামনে ড্রামে বোমা
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টার দিকে ব্যাটারিচালিত একটি হ্যালো বাইকে করে তিন ব্যক্তি লালটেক গোপের বাড়ি এলাকার মাদ্রাসার সামনে আসেন। ওই সময় বিদ্যুৎ না থাকায় এলাকাটি কিছুটা অন্ধকার ছিল। তিন ব্যক্তি মাদ্রাসার পাশের জঙ্গলে একটি ড্রাম রেখে দ্রুত সেখান থেকে চলে যান।
মাদ্রাসার পাশের বাসিন্দা ও চায়ের দোকানি আজিম উদ্দিন বলেন, ড্রাম ফেলার শব্দ শুনে পাশের বাড়ির দেলোয়ার হোসেনকে ডেকে তোলেন তিনি। পরে তারা তিন ব্যক্তিকে একটি হ্যালো বাইকে করে ঘটনাস্থল থেকে চলে যেতে দেখেন।
পরে জঙ্গলের মধ্যে ড্রামটি পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি জানাজানি হয়। কয়েকজন মিলে ড্রামটি মাদ্রাসা ও মসজিদের মূল ফটকের সামনে নিয়ে রাখেন এবং বিষয়টি মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জানান।
মাদ্রাসার কিতাবখানার দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল রাফি জানান, ড্রামের ঢাকনা খুলে তারা ভেতরে কোরআন, কিছু তার, জামাকাপড়, একটি ডায়েরি, বাকরখানি এবং স্কচটেপে মোড়ানো প্রেসার কুকারসদৃশ একটি বোমা দেখতে পান।
তার দাবি, ড্রামের ভেতরে একটি রিমোট কন্ট্রোলও ছিল। রিমোট কন্ট্রোল ও বোমাটির গায়ে ‘R1’ লেখা ছিল।
মাঠে সরিয়ে রাখা হয় বোমা
মাদ্রাসার পাশের মানিকগঞ্জ ভ্যারাইটিজ স্টোরের মালিক রফিকুল ইসলাম বলেন, ড্রাম থেকে বোমাটি বের করে মাদ্রাসার মূল ফটক থেকে কিছুটা দূরে মাঠের একটি খোলা জায়গায় রাখা হয়। ড্রাম ও রিমোট কন্ট্রোলটি তখন মাদ্রাসার প্রধান ফটকের সামনে ছিল।
তিনি বলেন, বোমাটির ওজন আনুমানিক ১৫ কেজি বলে মনে হয়েছিল। ভোর ৬টার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি ব্যাটারিচালিত হ্যালো বাইকে এসে রিমোট কন্ট্রোলসহ ড্রামটি নিয়ে দ্রুত চলে যান। পরে বিষয়টি ভবানীপুর পুলিশ ফাঁড়িতে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে।
রফিকুল ইসলাম বলেন, বোমাটি মাঠে রেখে যাওয়ার পর কীভাবে এবং কারা রিমোট কন্ট্রোলসহ ড্রামটি নিয়ে গেছে, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
পুলিশের নিরাপত্তাবেষ্টনী
ভবানীপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ইমরান হোসেন বলেন, সকালে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বোমাটির চারপাশে নিরাপত্তাবেষ্টনী তৈরি করে। পুলিশের পাহারায় সেটি নিরাপদ স্থানে রাখা হয়। পরে থানা-পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ ও র্যাবের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পুরো এলাকা ঘিরে রাখেন।
সাভার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ বলেন, বোমা উদ্ধারের পর ডিএমপির বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলকে খবর দেওয়া হয়। পরে দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে বোমাটি খোলা মাঠে নিয়ে নিয়ন্ত্রিত প্রক্রিয়ায় নিষ্ক্রিয় করেন।
তিনি আরও বলেন, বোমাটি নিষ্ক্রিয় করার সময় বিকট শব্দ হয়। এতে আশপাশের এলাকা কেঁপে ওঠে।
গত ১২ দিনে সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিকভাবে বোমা উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/জেড.এস
