মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ফাইল ছবি
দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম জোরালোভাবে আলোচনায় এসেছে। সবকিছু ঠিক থাকলে তাকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে আলোচনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের নাম চূড়ান্ত হলে একই সঙ্গে সরকার ও বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামোয় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসতে পারে। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াবে—বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব কে নেবেন?
দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, রাজনৈতিক কর্মসূচি, স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং ভবিষ্যৎ কাউন্সিলকে সামনে রেখে মহাসচিবের পদটি বিএনপির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে তার জায়গায় কে আসছেন, তা নিয়ে দলের ভেতরে আলোচনা ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের নাম কেন আলোচনায়
দলীয় পর্যায়ে রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের নাম বিবেচনায় তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, দলের প্রতি আনুগত্য এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে গ্রহণযোগ্যতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে বলে জানা গেছে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী ও পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এক দশকের বেশি সময় ধরে তিনি বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন।
দলের কঠিন রাজনৈতিক সময়েও তিনি বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তার রাজনৈতিক জীবনে একাধিকবার গ্রেপ্তার ও কারাবরণের ঘটনাও রয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে তার নাম আলোচনায় এসেছে বলে দলীয় সূত্রের দাবি।
দলীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষা
গত ১ আগস্ট গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী মনোনয়নের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। পরে প্রার্থী মনোনয়নের দায়িত্ব বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করা হয় বলে জানা গেছে।
এর আগে ২৭ জুলাই মির্জা ফখরুল নিজেই জানিয়েছিলেন, সংবিধান অনুযায়ী যথাসময়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে এবং দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হবে। তিনি এ বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে কোনো মন্তব্য করেননি।
ফলে এখন দলের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে আছে রাজনৈতিক মহল।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে প্রস্তুতি
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৩ আগস্ট। বিএনপির পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহের সময় প্রার্থীর নাম প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে রাষ্ট্রপতি পদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নাম সামনে এসেছে। ফলে একাধিক প্রার্থী থাকলে সংসদ সদস্যদের ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
দীর্ঘ সময় পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে ভোটাভুটির পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনেও বাড়তি গুরুত্ব পেয়েছে।
মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপির মহাসচিব কে?
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপির মহাসচিবের পদটি শূন্য হবে। আর সেই পদ পূরণ করাই হবে দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত।
দলের ভেতরের আলোচনায় সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং গণমাধ্যমে দলের বক্তব্য তুলে ধরার ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।
মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে রিজভীকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করার সম্ভাবনা নিয়েও দলের মধ্যে আলোচনা রয়েছে।
তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে রুহুল কবির রিজভী বলেন, তিনি দলের প্রতি শতভাগ আনুগত্য প্রকাশ করেই কাজ করছেন। দলের নেতৃত্বের নির্দেশ অনুযায়ী তিনি নেতাকর্মীদের পাশে আছেন।
ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দল দায়িত্ব দিলে তখন বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করবেন।
আলোচনায় সালাহউদ্দিন ও আমির খসরুও
মহাসচিব পদে শুধু রুহুল কবির রিজভী নন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এবং আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নামও আলোচনায় রয়েছে।
দলের গুরুত্বপূর্ণ এই দুই নেতা বর্তমানে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন। ফলে সরকার পরিচালনার দায়িত্বের পাশাপাশি সাংগঠনিকভাবে মহাসচিবের দায়িত্ব পালন কতটা সম্ভব হবে, সেটিও বিবেচনায় আসছে।
এ কারণে সরকারের বাইরে থাকা কোনো জ্যেষ্ঠ দলীয় নেতাকে সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে।
রিজভী মহাসচিব হলে পরের পরিবর্তন কোথায়?
রুহুল কবির রিজভীকে মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদটিও শূন্য হবে। তখন ওই পদে কাকে আনা হবে, তা নিয়েও শুরু হবে নতুন আলোচনা।
এ ক্ষেত্রে যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং হাবিব উন নবী খান সোহেলের নাম আলোচনায় রয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
অর্থাৎ মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে শুধু মহাসচিব পদেই পরিবর্তন আসবে না, বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক কাঠামোর আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদেও রদবদল হতে পারে।
মির্জা ফখরুলের সংসদীয় আসনেও উপনির্বাচন
রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের মনোনয়ন চূড়ান্ত হয়ে তিনি নির্বাচিত হলে তার ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য হবে। সেক্ষেত্রে ওই আসনে উপনির্বাচনের আয়োজন করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে।
ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, বিএনপির মহাসচিব পদে পরিবর্তন এবং ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন—তিনটি বিষয়ই একই সময়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
সামনে আরও বড় সাংগঠনিক পরিবর্তন
বিএনপির সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, দলীয় কাউন্সিলসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি রয়েছে। এসব বিষয় সামনে রেখে দলের সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে তাকে ঘিরে তৈরি হওয়া দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক নেতৃত্বের জায়গায় নতুন নেতৃত্ব আসবে। ফলে বিএনপির বিভিন্ন গ্রুপ ও উপগ্রুপের মধ্যে ভারসাম্য, মধ্যপন্থী ও কট্টরপন্থী অবস্থানের সমন্বয় এবং মাঠপর্যায়ের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনায় নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে।
তবে বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, একসঙ্গে একাধিক পরিবর্তন এলেও এগুলো দলের স্বাভাবিক সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার অংশ।
এখন সবচেয়ে বড় অপেক্ষা রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণার। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম চূড়ান্ত হলে এরপরই সামনে আসবে বিএনপির নতুন মহাসচিব এবং দলীয় নেতৃত্বের পরবর্তী বিন্যাসের প্রশ্ন।
রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/জেড.এস
রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের নাম চূড়ান্ত হলে একই সঙ্গে সরকার ও বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামোয় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসতে পারে। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াবে—বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব কে নেবেন?
দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, রাজনৈতিক কর্মসূচি, স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং ভবিষ্যৎ কাউন্সিলকে সামনে রেখে মহাসচিবের পদটি বিএনপির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে তার জায়গায় কে আসছেন, তা নিয়ে দলের ভেতরে আলোচনা ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের নাম কেন আলোচনায়
দলীয় পর্যায়ে রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের নাম বিবেচনায় তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, দলের প্রতি আনুগত্য এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে গ্রহণযোগ্যতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে বলে জানা গেছে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী ও পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এক দশকের বেশি সময় ধরে তিনি বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন।
দলের কঠিন রাজনৈতিক সময়েও তিনি বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তার রাজনৈতিক জীবনে একাধিকবার গ্রেপ্তার ও কারাবরণের ঘটনাও রয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে তার নাম আলোচনায় এসেছে বলে দলীয় সূত্রের দাবি।
দলীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষা
গত ১ আগস্ট গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী মনোনয়নের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। পরে প্রার্থী মনোনয়নের দায়িত্ব বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করা হয় বলে জানা গেছে।
এর আগে ২৭ জুলাই মির্জা ফখরুল নিজেই জানিয়েছিলেন, সংবিধান অনুযায়ী যথাসময়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে এবং দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হবে। তিনি এ বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে কোনো মন্তব্য করেননি।
ফলে এখন দলের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে আছে রাজনৈতিক মহল।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে প্রস্তুতি
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৩ আগস্ট। বিএনপির পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহের সময় প্রার্থীর নাম প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে রাষ্ট্রপতি পদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নাম সামনে এসেছে। ফলে একাধিক প্রার্থী থাকলে সংসদ সদস্যদের ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
দীর্ঘ সময় পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে ভোটাভুটির পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনেও বাড়তি গুরুত্ব পেয়েছে।
মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপির মহাসচিব কে?
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপির মহাসচিবের পদটি শূন্য হবে। আর সেই পদ পূরণ করাই হবে দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত।
দলের ভেতরের আলোচনায় সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং গণমাধ্যমে দলের বক্তব্য তুলে ধরার ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।
মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে রিজভীকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করার সম্ভাবনা নিয়েও দলের মধ্যে আলোচনা রয়েছে।
তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে রুহুল কবির রিজভী বলেন, তিনি দলের প্রতি শতভাগ আনুগত্য প্রকাশ করেই কাজ করছেন। দলের নেতৃত্বের নির্দেশ অনুযায়ী তিনি নেতাকর্মীদের পাশে আছেন।
ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দল দায়িত্ব দিলে তখন বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করবেন।
আলোচনায় সালাহউদ্দিন ও আমির খসরুও
মহাসচিব পদে শুধু রুহুল কবির রিজভী নন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এবং আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নামও আলোচনায় রয়েছে।
দলের গুরুত্বপূর্ণ এই দুই নেতা বর্তমানে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন। ফলে সরকার পরিচালনার দায়িত্বের পাশাপাশি সাংগঠনিকভাবে মহাসচিবের দায়িত্ব পালন কতটা সম্ভব হবে, সেটিও বিবেচনায় আসছে।
এ কারণে সরকারের বাইরে থাকা কোনো জ্যেষ্ঠ দলীয় নেতাকে সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে।
রিজভী মহাসচিব হলে পরের পরিবর্তন কোথায়?
রুহুল কবির রিজভীকে মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদটিও শূন্য হবে। তখন ওই পদে কাকে আনা হবে, তা নিয়েও শুরু হবে নতুন আলোচনা।
এ ক্ষেত্রে যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং হাবিব উন নবী খান সোহেলের নাম আলোচনায় রয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
অর্থাৎ মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে শুধু মহাসচিব পদেই পরিবর্তন আসবে না, বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক কাঠামোর আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদেও রদবদল হতে পারে।
মির্জা ফখরুলের সংসদীয় আসনেও উপনির্বাচন
রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের মনোনয়ন চূড়ান্ত হয়ে তিনি নির্বাচিত হলে তার ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য হবে। সেক্ষেত্রে ওই আসনে উপনির্বাচনের আয়োজন করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে।
ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, বিএনপির মহাসচিব পদে পরিবর্তন এবং ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন—তিনটি বিষয়ই একই সময়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
সামনে আরও বড় সাংগঠনিক পরিবর্তন
বিএনপির সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, দলীয় কাউন্সিলসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি রয়েছে। এসব বিষয় সামনে রেখে দলের সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে তাকে ঘিরে তৈরি হওয়া দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক নেতৃত্বের জায়গায় নতুন নেতৃত্ব আসবে। ফলে বিএনপির বিভিন্ন গ্রুপ ও উপগ্রুপের মধ্যে ভারসাম্য, মধ্যপন্থী ও কট্টরপন্থী অবস্থানের সমন্বয় এবং মাঠপর্যায়ের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনায় নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে।
তবে বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, একসঙ্গে একাধিক পরিবর্তন এলেও এগুলো দলের স্বাভাবিক সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার অংশ।
এখন সবচেয়ে বড় অপেক্ষা রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণার। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম চূড়ান্ত হলে এরপরই সামনে আসবে বিএনপির নতুন মহাসচিব এবং দলীয় নেতৃত্বের পরবর্তী বিন্যাসের প্রশ্ন।
রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/জেড.এস
