ATN
শিরোনাম
  •  

‘সবাই বাংলাদেশি’—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে পরিচয় ও সাংবিধানিক অধিকার প্রসঙ্গ

         
‘সবাই বাংলাদেশি’—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে পরিচয় ও সাংবিধানিক অধিকার প্রসঙ্গ

‘সবাই বাংলাদেশি’—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে পরিচয় ও সাংবিধানিক অধিকার প্রসঙ্গ

বাংলাদেশের ভূখণ্ডে বসবাসকারী সব নাগরিকের সাংবিধানিক ও জাতীয় পরিচয় একটাই—‘বাংলাদেশি’। ভৌগোলিক ও সাংবিধানিক বাস্তবতার আলোকে দেশে আলাদা কোনো ‘আদিবাসী’ পরিচয়ের প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

গতকাল রাজধানীর গুলশানের ক্রাউন প্লাজা হোটেলের বলরুমে Chittagong Hill Tracts Research Foundation আয়োজিত ‘Indigenous Identity is Irrelevant for Bangladesh’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সীমানার মধ্যে বসবাসকারী সব নাগরিক সমান নাগরিক অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন। দেশের সব নাগরিকের মূল পরিচয় ‘বাংলাদেশি’—এ বিষয়ে রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন অংশীজনের ঐকমত্য রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এ বাংলাদেশের ভূখণ্ডের সর্বস্তরের মানুষের জাতীয় পরিচয় ‘বাংলাদেশি’ করার বিষয়ে সর্বসম্মত অবস্থান নেওয়া হয়েছে। এ জাতীয় ঐক্য দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে সাংবিধানিকভাবে বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, উপজাতি ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষা, বিকাশ ও সংরক্ষণে সরকারের প্রতিশ্রুতি রয়েছে।

নারী, শিশু ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ সুবিধা ও কোটা ব্যবস্থার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, সমাজের পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীকে জাতীয় মূলধারার সঙ্গে সমতার পর্যায়ে আনতে রাষ্ট্র ইতোমধ্যে বিভিন্ন ইতিবাচক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

আন্তর্জাতিক প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ২০০৭ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের ‘United Nations Declaration on the Rights of Indigenous Peoples’ গৃহীত হওয়ার সময় বাংলাদেশ ভোটদানে বিরত ছিল। তাঁর দাবি, ওই আন্তর্জাতিক ঘোষণা এবং ILO Convention 169 বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় এবং বাংলাদেশ এ কনভেনশনের অংশীদারও নয়।

বৈঠকে Chittagong Hill Tracts Research Foundation-এর চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান পলাশ সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম।

এ ছাড়া আলোচনায় বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনি, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক এমরান সালেহ প্রিন্স, প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) রাশেদ খান, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, লেফটেন্যান্ট জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমী (অব.), মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর, প্রতিদিনের বাংলাদেশের সম্পাদক মারুফ কামাল খান এবং মানারাত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুর রবসহ অনেকে।

রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/সা.সি
পাঠকের মন্তব্য

সংশ্লিষ্ট জাতীয় সংবাদ


অন্যান্য সংবাদ