ATN
শিরোনাম
  •  

চাঁদা দাবির পর প্রবাসীর নির্মাণাধীন ভবনে গুলি, আতঙ্কে এলাকাবাসী

         
চাঁদা দাবির পর প্রবাসীর নির্মাণাধীন ভবনে গুলি, আতঙ্কে এলাকাবাসী

চাঁদা দাবির পর প্রবাসীর নির্মাণাধীন ভবনে গুলি, আতঙ্কে এলাকাবাসী

চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশ থানার হামজারবাগ এলাকায় চাঁদা না দেওয়ায় এক প্রবাসীর নির্মাণাধীন আবাসিক ভবনের গেটে গুলি ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ‘রুনা টাওয়ার’ নামের ওই ভবনে এ ঘটনা ঘটে। তবে গুলির ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতের দিকে দুই যুবক মোট দুই রাউন্ড গুলি ছুড়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেছে। হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে কাজ চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ভবনটির মালিক হাজী ইউনুস। তাঁর দুই ছেলে বর্তমানে প্রবাসে রয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, কয়েক দিন আগে মধ্যপ্রাচ্যপ্রবাসী এক ছেলের মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট নম্বর থেকে ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। এর পরই নির্মাণাধীন ভবনে গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটায় চাঁদা দাবির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) হাসান মোস্তফা স্বপন বলেন, হামজারবাগের রুনা টাওয়ারের গেটে দুই যুবক দুই রাউন্ড গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ভবন মালিকের এক প্রবাসী ছেলের কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির বিষয়টিও পুলিশ জানতে পেরেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্য, চট্টগ্রামের বায়েজিদ, হামজারবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় নির্মাণাধীন ভবনকে কেন্দ্র করে চাঁদার দাবিতে হামলা ও গুলি ছোড়ার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার কয়েকটির সঙ্গে সন্ত্রাসী সাজ্জাদ গ্রুপের নাম আলোচনায় এলেও সর্বশেষ হামলার সঙ্গে কারা জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এর আগে চট্টগ্রামে চাঁদাবাজির অভিযোগকে কেন্দ্র করে আরও কয়েকটি সহিংসতার ঘটনা ঘটে। গত ২ জানুয়ারি ও ২৯ ফেব্রুয়ারি স্মার্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চট্টগ্রাম-১৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমানের বাড়ি লক্ষ্য করে দুই দফা গুলি ছোড়া হয়। ওই ঘটনায়ও চাঁদা দাবির অভিযোগ ওঠে।

গত ১৩ জুলাই নগরের বাকলিয়া অ্যাকসেস রোড এলাকায় ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ডিডিএনের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের পর ৩০ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ করা হয়। পরে প্রতিষ্ঠানটির মালিকপক্ষ দাবি করে, বিদেশে অবস্থানরত মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন এককালীন দুই কোটি টাকা এবং মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন। তবে ওই ঘটনার সঙ্গে হামজারবাগের গুলির ঘটনার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

এ ছাড়া গত ২৬ জুলাই হাটহাজারীর বড় দীঘির পাড় এলাকায় পাইকারি চাল ব্যবসায়ী জসীম উদ্দিনের নির্মাণাধীন বাড়িতে হামলা ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তাঁর কাছেও ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

হামজারবাগের সর্বশেষ ঘটনায় পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে হামলাকারীদের শনাক্তের চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে প্রবাসীর কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগের সত্যতা ও এর সঙ্গে গুলি ছোড়ার ঘটনার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/সা.সি
পাঠকের মন্তব্য

সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ সংবাদ


অন্যান্য সংবাদ