বৃক্ষমেলা শেষ, এখন চারার পরিচর্যায় জোর দেওয়ার আহ্বান
জাতীয় বৃক্ষমেলা ২০২৬ শেষ হলেও বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যার দায়িত্ব শেষ হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বলেছেন, মেলা থেকে কেনা প্রতিটি চারা সঠিকভাবে রোপণ ও নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে ২০৩৫ সালের মধ্যে দেশের বৃক্ষাচ্ছাদন ২৭ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারিত সময়ের আগেই অর্জন করা সম্ভব।
শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বন ভবনের হৈমন্তী মিলনায়তনে জাতীয় বৃক্ষমেলা ২০২৬-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, এবারের জাতীয় বৃক্ষমেলা শুধু চারা কেনাবেচার আয়োজন ছিল না; এটি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জনসম্পৃক্ততার একটি জাতীয় আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। ‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এবারের মেলা প্রত্যাশার চেয়েও বেশি সাড়া ফেলেছে।
তিনি জানান, গত ৯ জুলাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও জাতীয় বৃক্ষমেলা ২০২৬-এর উদ্বোধন করেন। সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণ এবং নতুন সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় প্রথম বছরেই পাঁচ কোটি চারা রোপণের কার্যক্রম চলছে। এর মধ্যে বন অধিদপ্তর ৩ কোটি ৫০ লাখ চারা রোপণ করবে।
আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে যুবসমাজ, নারী ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে সারাদেশে ১০ হাজার নতুন নার্সারি উদ্যোক্তা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
জাতীয় বৃক্ষমেলার সাফল্যের তথ্য তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, এবারের মাসব্যাপী মেলায় মোট ৭৪টি নার্সারি অংশ নেয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা মেলা থেকে প্রায় ১৬ লাখ গাছের চারা কিনেছেন। এসব চারার মোট বিক্রয়মূল্য প্রায় ১৬ কোটি টাকা।
তিনি বলেন, বিপুলসংখ্যক চারা বিক্রি এবং আর্থিক লেনদেন দেশের মানুষের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির প্রমাণ। একই সঙ্গে নার্সারি খাত ও বৃক্ষভিত্তিক অর্থনীতির সম্ভাবনাও দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, তরুণ সমাজ ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ দেশের সবুজ অর্থনীতির জন্য শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জলবায়ু ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী রওনাকুল ইসলাম (টিপু)। সভাপতিত্ব করেন প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসেন চৌধুরী।
সমাপনী অনুষ্ঠানে বৃক্ষরোপণে জাতীয় পুরস্কার ২০২৫-এর দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান, বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বিশেষ অবদান রাখা ব্যক্তি এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত রচনা, চিত্রাঙ্কন ও গাছ চেনা প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের পুরস্কার ও সনদ দেওয়া হয়। এছাড়া জাতীয় বৃক্ষমেলা ২০২৬-এর নির্বাচিত স্টল মালিকদেরও পুরস্কৃত করা হয়।
অনুষ্ঠানে বন অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর-সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারী, নার্সারি ও স্টল মালিক, পরিবেশ ও বন খাতের অংশীজন, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/সা.সি
শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বন ভবনের হৈমন্তী মিলনায়তনে জাতীয় বৃক্ষমেলা ২০২৬-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, এবারের জাতীয় বৃক্ষমেলা শুধু চারা কেনাবেচার আয়োজন ছিল না; এটি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জনসম্পৃক্ততার একটি জাতীয় আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। ‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এবারের মেলা প্রত্যাশার চেয়েও বেশি সাড়া ফেলেছে।
তিনি জানান, গত ৯ জুলাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও জাতীয় বৃক্ষমেলা ২০২৬-এর উদ্বোধন করেন। সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণ এবং নতুন সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় প্রথম বছরেই পাঁচ কোটি চারা রোপণের কার্যক্রম চলছে। এর মধ্যে বন অধিদপ্তর ৩ কোটি ৫০ লাখ চারা রোপণ করবে।
আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে যুবসমাজ, নারী ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে সারাদেশে ১০ হাজার নতুন নার্সারি উদ্যোক্তা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
জাতীয় বৃক্ষমেলার সাফল্যের তথ্য তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, এবারের মাসব্যাপী মেলায় মোট ৭৪টি নার্সারি অংশ নেয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা মেলা থেকে প্রায় ১৬ লাখ গাছের চারা কিনেছেন। এসব চারার মোট বিক্রয়মূল্য প্রায় ১৬ কোটি টাকা।
তিনি বলেন, বিপুলসংখ্যক চারা বিক্রি এবং আর্থিক লেনদেন দেশের মানুষের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির প্রমাণ। একই সঙ্গে নার্সারি খাত ও বৃক্ষভিত্তিক অর্থনীতির সম্ভাবনাও দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, তরুণ সমাজ ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ দেশের সবুজ অর্থনীতির জন্য শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জলবায়ু ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী রওনাকুল ইসলাম (টিপু)। সভাপতিত্ব করেন প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসেন চৌধুরী।
সমাপনী অনুষ্ঠানে বৃক্ষরোপণে জাতীয় পুরস্কার ২০২৫-এর দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান, বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বিশেষ অবদান রাখা ব্যক্তি এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত রচনা, চিত্রাঙ্কন ও গাছ চেনা প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের পুরস্কার ও সনদ দেওয়া হয়। এছাড়া জাতীয় বৃক্ষমেলা ২০২৬-এর নির্বাচিত স্টল মালিকদেরও পুরস্কৃত করা হয়।
অনুষ্ঠানে বন অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর-সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারী, নার্সারি ও স্টল মালিক, পরিবেশ ও বন খাতের অংশীজন, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/সা.সি
