ATN
শিরোনাম
  •  

সৌদি আরবে হুথিদের ভয়াবহ হামলা

         
সৌদি আরবে হুথিদের ভয়াবহ হামলা

সৌদি আরবে হুথিদের ভয়াবহ হামলা

সৌদি আরবের জাজান প্রদেশে অবস্থিত আরামকো তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। রোবার ভোরে এই হামলা হয়। সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে শোধনাগারের একটি ইউনিটে আগুন লাগলেও তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

মার্কিন মিত্রদের জন্য মধ্যপ্রাচ্যকে ক্রমেই ভয়াবহ করে তুলছে ইরানের মিত্র গোষ্ঠি। এ অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে আরও একধাপ উত্তেজনা বাড়িয়েছে ইয়েমেনের হুথিরা। স্থানীয় সময় রোববার ভোরে সৌদি আরবের একটি অন্যতম প্রধান জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে পশ্চিমা আধিপত্যবাদ বিরোধী যোদ্ধারা। ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর দাবি অনুযায়ী, তারা রবিবার জাজান প্রদেশের আরামকো তেল শোধনাগারে নিখুঁত ড্রোন হামলা চালায়। হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি টেলিগ্রামে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

এই হামলার কারণও স্পষ্ট করেছে হুথিরা। মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানান, ইয়েমেনের সাদা এবং হাজ্জাহ প্রদেশে সৌদি ড্রোনের অনুপ্রবেশ ঘটেছিল। তারই জবাবে তারা এই পাল্টা আক্রমণ চালান। আরামকোর এই শোধনাগারটি প্রতিদিন চার লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করতে পারে। ফলে বিশ্ব বাজারে জ্বালানি সরবরাহে এর গুরুত্ব অনেক বেশি বলে উল্লেখ করেছে জেরুজালেম পোস্ট।

এদিকে ঘটনার পরপরই সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতি দেয়। তাদের মতে, রবিবার ভোরে জাজানের আরামকো তেল শোধনাগারের একটি ইউনিটে আগুন লেগে যায়। আরামকোর নিজস্ব দমকল বাহিনী দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে আগুন নিভিয়ে ফেলে। সৌদি আরবের এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া পোস্টে জানানো হয়, এই অগ্নিদুর্ঘটনায় কোনো মানুষ আহত বা নিহত হননি।

গত মাসে লোহিত সাগরে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুথি গোষ্ঠির নৌ-অবরোধেরও ঘোষণার পর এটি আরামকো শোধনাগারে দ্বিতীয় হামলা। এর আগে গত ছাব্বিশে জুলাই হুথিরা জাজান এবং ইয়ানবুতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে আক্রমণ করেছিল বলে জানায় হিন্দুস্তান টাইমস। সেই হামলার পর জাজান শোধনাগারের বড় একটি অংশ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

তবে জাজানের পাশাপাশি সৌদির পূর্ব উপকূলেও আরেকটি বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। ইহুদি রাষ্ট্র ইসরায়েলের চ্যানেল ফোর্টিন দাবি করেছে, সৌদির জুবাইল অঞ্চলের একটি গ্যাস প্ল্যান্টে হামলা চালিয়েছে হুথিরা। জুবাইল শিল্প শহরটি সৌদির অন্যতম প্রধান শিল্প ও জ্বালানি কেন্দ্র। এই ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছে আল জাজিরা।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যের নতুন সামরিক সমীকরণকে প্রভাবিত করবে। মাত্র দুই দিন আগে শুক্রবার পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং তুরস্কের মধ্যে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই হয়। কোনো এক সদস্য রাষ্ট্রের ওপর সশস্ত্র হামলাকে সবার ওপর হামলা বলে গণ্য করার কথা বলা হয়েছে সেই চুক্তিতে। এই বড় চুক্তি সইয়ের পরপরই হুথিদের এই দুঃসাহসিক আক্রমণ রিয়াদের প্রতিরক্ষাব্যুহকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিল বলে মনে করছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম মিডল ইস্ট আই।

রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/জেড.এস
পাঠকের মন্তব্য

সংশ্লিষ্ট বিশ্ব সংবাদ


অন্যান্য সংবাদ